• ই-পেপার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঘটনা

লাইনচ্যুত হওয়ার সময় যাত্রী ছিল ১০৫৩, জানাল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল

‘আমেরিকার চাকরি বিদেশি প্রতারকদের জন্য নয়’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
‘আমেরিকার চাকরি বিদেশি প্রতারকদের জন্য নয়’

বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ পেশাজীবীদের নিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে ভিসা কর্মসূচি, তা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে তদন্তে নেমেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, ‘আমেরিকান চাকরিগুলো আমেরিকান কর্মীদেরই পাওয়া উচিত, বিদেশি প্রতারকদের নয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কম্পানি এইচ-১বি ও পার্ম ভিসা ক্যাটাগরির আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ পেশাজীবীদের নিয়োগ দেয়। তবে এ ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার, জালিয়াতি, অদক্ষ পেশাজীবীদের নিয়োগ, বিদেশি পেশাজীবীদের বেতন কেটে রাখাসহ নানা অভিযোগে তদন্তে নেমেছে মার্কিন শ্রমবিভাগ।
 
শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানিয়েছেন, বিদেশি কর্মী ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার এবং সন্দেহভাজন মানবপাচারের বিষয়ে একটি বড় আকারের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তার কার্যালয় সমন জারি করা শুরু করেছে। 

তিনি বলেন, ‘আমরা জোরালো পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি, যা আমাদের বিশ্বাস—কোনো ইন্সপেক্টর জেনারেল বা এই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদেশি শ্রম জালিয়াতির বিরুদ্ধে সম্ভবত সবচেয়ে আগ্রাসী পদক্ষেপ।’ 

ডি’এসপোসিটো জানান, হুইসেলব্লোয়ারদের দেওয়া গোপন তথ্য তদন্তকারীদের ‘কগনিজ্যান্ট’-এর মতো কিছু বড় বড় কম্পানির দিকে ইঙ্গিত করেছে। 

তিনি জানান, তার দল প্রতিটি সূত্রের শেষ পর্যন্ত খুঁজে বের করবে। ডি’এসপোসিটো বলেন, ‘তদন্ত চলাকালে তদন্তকারীরা প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের জালিয়াতি বিরোধী টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।’

এদিকে শ্রম বিভাগের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রম বিভাগের অধীনে থাকা অফিস অব দ্য ইন্সপেক্টর জেনারেল এমন ব্যাপক কারসাজি উন্মোচন করেছে, যেখানে নিয়োগকর্তা এবং শ্রম দালালরা ভুয়া আবেদন জমা দিয়েছিল এবং মজুরি থেকে অবৈধভাবে টাকা কেটে রাখার মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের শোষণ করেছিল। 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অপব্যবহারগুলো শ্রম বিভাগের কর্মসূচির সততা ও উদ্দেশ্যকে নষ্ট করে। অথচ এই কর্মসূচিগুলো তৈরি করা হয়েছে প্রকৃত শ্রম ঘাটতি পূরণ করার জন্য, আমেরিকানদের চাকরির বিনিময়ে অসাধুচক্রের পকেট ভারি করার জন্য নয়।

এদিকে এ তদন্ত শুরুর পর গত বুধবার মিলওয়াকিতে এক সভায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘শ্রম বিভাগ ইতিমধ্যেই সমন জারি করা শুরু করেছে এবং ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারকারী বিদেশি প্রতারকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।’ 

তিনি বলেন, ‘আমাদের এইচ-ওয়ানবি ভিসা প্রোগ্রাম নামের একটি কর্মসূচি রয়েছে। এই প্রোগ্রামটি মূলত একজন মেধাবী প্রযুক্তিবিদ বা একজন মেধাবী বিজ্ঞানী, বা একজন মেধাবী চিকিৎসকের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার একটি পথ ছিল। 

ভ্যান্সের যুক্তি অনুযায়ী, সেই উদ্দেশ্যকে এখন বড্ড বেশি টেনেহিঁচড়ে নষ্ট করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আপনারা জানেন, এখন সবচেয়ে বেশি যা ঘটছে; তা হলো, বড় করপোরেশন এবং বিদেশের প্রতারকরা আমেরিকান কর্মীদের মজুরি কমাতে এই প্রোগ্রামটি ব্যবহার করছে।’

জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা বলছি, আর নয়। আমরা এটিও নিশ্চিত করছি যেন প্রতারকরা এই ভিসা প্রোগ্রামগুলোর সুযোগ নিতে না পারে।’ 

ভ্যান্স বলেন, ‘আপনি যদি এই ভিসা প্রোগ্রামের অন্যায় সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে আপনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ 

জেডি ভ্যান্স আরো যোগ করেন, ‘এখানে একটি সহজ নীতি রয়েছে : আমেরিকান চাকরিগুলো আমেরিকান কর্মীদেরই পাওয়া উচিত, বিদেশি প্রতারকদের নয়। আর শ্রম বিভাগ এর বিরুদ্ধে কঠোর লড়াই করছে।’

শক্তিশালী টাইফুন বাভির আঘাতের প্রস্তুতিতে চীন-তাইওয়ান

অনলাইন ডেস্ক
শক্তিশালী টাইফুন বাভির আঘাতের প্রস্তুতিতে চীন-তাইওয়ান
ছবি : রয়টার্স

শক্তিশালী টাইফুন বাভির আঘাতের আশঙ্কায় চীন ও তাইওয়ানে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকার জেলেরা নৌকা নিয়ে বন্দরে আশ্রয় নিয়েছেন। বাসিন্দারা বন্যার পানি ঠেকাতে বালুর বস্তা সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে কৃষকেরা দ্রুত মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলছেন।

আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, বাভি গত কয়েক বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়গুলোর একটি হতে পারে। এদিকে বাভি তাইওয়ানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় দক্ষিণ চীনে টাইফুন মায়সাকের ধ্বংসযজ্ঞের পর উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আঘাত হানা মায়সাকে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। আরো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাইওয়ানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাছ ধরার শহর সুয়াওতে শত শত মাছ ধরার নৌকা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বন্দরে ভিড় করেছে। তিন মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি মাছ ধরার নৌকার অধিনায়ক চেন মিং-হুই বলেন, বাইরে এখন আবহাওয়া শান্ত মনে হলেও পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যেতে পারে। তিনি বলেন, এখন আকাশ পরিষ্কার দেখে কেউ যেন ভুল না করেন। এ ধরনের টাইফুন খুবই ভয়ংকর হতে পারে। আগের ঝড়ে অনেক নৌকা ডুবে গিয়েছিল। পুরো শহর পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল।

তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাভির প্রভাবে রাজধানী তাইপের উত্তরের পাহাড়ি এলাকায় এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। সম্ভাব্য উদ্ধার ও ত্রাণকাজে অংশ নিতে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২৯ হাজার সেনাকে প্রস্তুত রেখেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২৪ সালের কং-রে টাইফুনের পর এটি তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন হতে পারে। কং-রে টাইফুনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, বাভির বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ঝড়টির বিস্তৃতি সবচেয়ে চওড়া অংশে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার, যা প্রায় ফ্রান্সের সমান। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বাভি উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে শনিবার সন্ধ্যায় চীনের পূর্বাঞ্চলের ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাসকারী জেসন চ্যাং বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক বছরে এত বড় আকারের টাইফুন দেখা যায়নি। তার মতে, আকারের দিক থেকে ১৯৮৭ সালের পর এটি তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় ঝড় হতে যাচ্ছে। টাইফুনের কারণে তাইওয়ানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তাওইয়ান শনিবার দেশটির সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।

বাভির প্রভাব শুধু চীন ও তাইওয়ানেই নয়, জাপানেও পড়তে পারে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ওকিনাওয়ার বাসিন্দাদের শুক্রবার ও শনিবার সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলেছে। প্রবল বাতাস, ভারি বৃষ্টি, ভূমিধস, বন্যা এবং জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। জাপান এয়ারলাইনস শুক্রবারের ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে প্রায় ৭ হাজার ৬০০ যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হবে। অল নিপ্পন এয়ারওয়েজও ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। শনিবারও আরো কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চীন, তাইওয়ান ও জাপানে শক্তিশালী ঝড়ের ঝুঁকি বাড়ছে। এ বছর সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা আরো বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে আরো শক্তিশালী এবং ঘন ঘন টাইফুন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাণিজ্যিক আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান আকুওয়েদারের বিশেষজ্ঞ জেসন নিকোলস বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে বাভির বাতাসের গতি কিছুটা কমতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত এটি তাইওয়ান ও পূর্ব চীনে বিপজ্জনক অবস্থায়ই থাকবে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় গবেষক শিয়াংবো ফেং বলেন, বাভি দীর্ঘ সময় ধরে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির ওপর অবস্থান করেছে। সেখান থেকে এটি প্রচুর শক্তি ও আর্দ্রতা সংগ্রহ করেছে। তাই স্থলভাগে আঘাত করলে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেক বড় হতে পারে। তিনি আরো বলেন, ঝড়টির গতিপথে সামান্য পরিবর্তন হলেও ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যেতে পারে।

বাভির জন্য প্রস্তুতি চললেও দক্ষিণ চীনের অনেক এলাকা এখনো টাইফুন মায়সাকের ধ্বংসযজ্ঞ সামাল দিতে ব্যস্ত। মায়সাকের অবশিষ্ট অংশ থেকে চীনের মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে অন্তত দুটি স্থলভাগের ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে। এতে সেখানে বড় ধরনের বন্যা হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গুয়াংসি অঞ্চলের বিভিন্ন শহরে মানুষ নতুন ঝড় আঘাত হানার আগেই নিজেদের ঘরবাড়ি ও জীবন স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক মানুষ নিজেদের ফ্ল্যাট থেকে বের হতে দ্বিতীয় তলার জানালা দিয়ে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় নিচে নামছেন। আবার অনেকে কোমরসমান পানিতে নেমে ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধার করছেন। দুর্গম এলাকায় জরুরি খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দিতে উদ্ধারকর্মীরা ড্রোন ব্যবহার করছেন।

বেইজিং নিউজের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিনইয়াং কাউন্টির একটি খামারে সারি সারি মৃত শূকর পড়ে রয়েছে। টানা দুই দিন পানির নিচে ডুবে থাকার কারণে প্রাণীগুলোর দেহ ফুলে গিয়ে পচতে শুরু করেছে। চীনের গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, গুয়াংসি অঞ্চলের গুইগাং চিড়িয়াখানায় বন্যার পানিতে তিনটি সিংহ মারা গেছে। এছাড়া জেব্রা, সজারু, টিয়া, র‍্যাকুনসহ প্রায় ১০০টি প্রাণী এখনো নিখোঁজ রয়েছে। 

পাকিস্তানে জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বাল্যবিয়ে বন্ধের আহ্বান ইউরোপীয় পার্লামেন্টের

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানে জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বাল্যবিয়ে বন্ধের আহ্বান ইউরোপীয় পার্লামেন্টের
ছবি : রয়টার্স

পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অল্পবয়সী মেয়েদের অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বাল্যবিয়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক প্রস্তাবে ইইউ পার্লামেন্ট এই নিন্দা জানায় এবং দেশটিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু মেয়েদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট তাদের এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ১৩ বছর বয়সী পাকিস্তানি খ্রিস্টান কিশোরী মারিয়া শাহবাজের ঘটনাটি বিশেষভাবে তুলে ধরেছে। গত বছরের জুলাইয়ে তাকে অপহরণ করার পর, চলতি বছরের মার্চ মাসে খ্রিস্টধর্ম থেকে জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তরিত করে তার অপহরণকারীকে বিয়ে দেওয়া হয়।

ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যরা মারিয়ার জন্য আইনি প্রতিনিধিত্ব, পারিবারিক ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মারিয়া শাহবাজের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং এটি পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ওপর চলা ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি প্রতীক। জাতিসংঘের একটি পরিসংখ্যানের সূত্র দিয়ে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের মাধ্যমে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের শিকার নারী ও মেয়েদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই হিন্দু এবং ২৫ শতাংশ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বাল্যবিয়ে বন্ধে পাকিস্তানকে তাদের জাতীয় আইনি কাঠামো সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়েছে, যা ইতোমধ্যে দেশটির কিছু প্রদেশে চালু রয়েছে। এ ছাড়া অপহৃত বা জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত মেয়েদের পরিবারের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি শক্তিশালী ‘জাতীয় ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

পার্লামেন্ট সদস্যরা আরো বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর বলপ্রয়োগের যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে পাকিস্তানের বিচারিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার এবং অপহৃত মেয়েদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে ‘হিউম্যান রাইটস ফোকাস পাকিস্তান’ (এইচআরএফপি) মারিয়া শাহবাজের এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানায়। সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে, পাকিস্তানে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে খ্রিস্টান ও হিন্দু মেয়েদের অপহরণ ও জোরপূর্বক বিয়ে একটি নিয়মিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত ধারায় পরিণত হয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, মারিয়াকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে সে স্বেচ্ছায় ধর্মান্তর ও বিয়ের দাবি করলেও, তার নাবালিকা অবস্থা নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও আদালত বিয়েটি বহাল রাখে এবং অভিযুক্তকে তার অভিভাবকত্ব দেয়। বর্তমানে মারিয়ার পরিবার এই রায়ের বিরুদ্ধে আইনি আপিল চালিয়ে যাচ্ছে।

কারামুক্তির পর বন্দিদের অধিকার নিয়ে সরব ইতালির কট্টর ডানপন্থী নেতা

অনলাইন ডেস্ক
কারামুক্তির পর বন্দিদের অধিকার নিয়ে সরব ইতালির কট্টর ডানপন্থী নেতা
ছবি: রয়টার্স

ইতালির কট্টর ডানপন্থী নেতা ও রোমের সাবেক মেয়র জিয়ান্নি আলেমান্নো কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এবার বন্দিদের অধিকার এবং কারাগারের মানবিক পরিবেশ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর আইন-শৃঙ্খলার পক্ষে অবস্থান নেওয়া এই রাজনীতিকের এমন পরিবর্তিত অবস্থান ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

৬৮ বছর বয়সী আলেমান্নো গত ২৪ জুন রোমের রেবিব্বিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পান। এটি ইতালির সবচেয়ে বড় কারাগারগুলোর একটি। অতিরিক্ত বন্দি ও জরাজীর্ণ পরিবেশের কারণে কারাগারটি দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত। প্রভাব খাটানো এবং দায়িত্বের অপব্যবহারের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি ১৮ মাস কারাভোগ করেন। যদিও শুরু থেকেই তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতা তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন। তার লেখাগুলো ইতালির কারাগার ব্যবস্থার নানা সমস্যা নিয়ে নতুন করে জনমত তৈরি করেছে। আলেমান্নো রয়টার্সকে বলেন, ‘যারা কারাগারে থেকেছেন বা যাদের পরিবারের কেউ কারাগারে আছেন, শুধু তারাই এই সমস্যাগুলো বুঝতে পারেন। অন্যরা বিষয়টি বুঝতেই পারেন না।’ তিনি জানান, রেবিব্বিয়া কারাগারে এটিই তার প্রথমবার নয়। ১৯৮২ সালে কট্টর ডানপন্থীদের এক বিক্ষোভে সোভিয়েত দূতাবাসে মলোটভ ককটেল ছোড়ার ঘটনায় তিনি ১০ মাস কারাভোগ করেছিলেন। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর আবার একই কারাগারে গিয়ে কাকতালীয়ভাবে সেই একই সেলে থাকার সুযোগ পান। সেই স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সেল থেকেই আমি ১৯৮২ সালে ইতালির ফুটবল বিশ্বকাপ জয় দেখেছিলাম।’

আলেমান্নো দীর্ঘদিন ধরেই ইতালির ডানপন্থী রাজনীতির পরিচিত মুখ। তিনি রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী এমএসআই দলের যুব শাখায়। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির সরকারে কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি রোমের মেয়র ছিলেন। কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতার পর আলেমান্নো এখন ইতালির কারাগার ব্যবস্থার নানা সমস্যা তুলে ধরছেন। তার মতে, অতিরিক্ত ভিড়, নোংরা পরিবেশ, বিচার বিভাগে জনবল সংকট, জটিল প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং বন্দিদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব পুরো ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলেছে। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থা অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে বরং তাদের আবার অপরাধের দিকেই ঠেলে দেয়। আলেমান্নোর ভাষায়, যারা খারাপ কাজ করতে চান, তাদের জন্য সব পথ খোলা। তারা যা ইচ্ছা করতে পারেন। কিন্তু যারা নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চান, তাদের সামনে অসংখ্য বাধা তৈরি করা হয়। কারাগারে থাকার সময় তিনি হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত এক সহবন্দীর সঙ্গে যৌথভাবে ফেসবুকে একটি ডায়েরি লিখতেন। তিনি জানিয়েছেন, সেই লেখাগুলো শিগগিরই বই আকারে প্রকাশ করা হবে।

কারামুক্তির পর আলেমান্নো সাবেক সেনা জেনারেল রোবের্তো ভান্নাচ্চির সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে একসঙ্গে কাজ শুরু করেছেন। ভান্নাচ্চি কট্টর ডানপন্থী অবস্থান এবং বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য পরিচিত। তার নতুন রাজনৈতিক দল ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। তবে কারাগার নিয়ে ভান্নাচ্চির অবস্থান আলেমান্নোর চেয়ে অনেক কঠোর। আলেমান্নো মুক্তি পাওয়ার দিন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আবেল আর কাইনের মধ্যে আমি আবেলের পক্ষেই আছি। আর কাইনের কারাগারেই পচে থাকা উচিত।’ তিনি আরো বলেন, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর, দীর্ঘমেয়াদি এবং কড়া শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।

গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকার কারাগারের ধারণক্ষমতা ১৫ হাজার বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত বন্দিদের চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা সহজ করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়, যাতে কারাগারের অতিরিক্ত ভিড় কমানো যায়। তবে ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত নতুন কোনো কারাগারের জায়গা তৈরি হয়নি। বন্দিদের স্থানান্তর নিয়ে প্রস্তাবিত আইনও এখনো আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৭ সালে বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আইনটি পাস না হলে সেটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে ইতালির কারাগারগুলো ইউরোপের সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকা কারাগারগুলোর মধ্যে অন্যতম। ধারণক্ষমতার তুলনায় সেখানে প্রায় ১৪০ শতাংশ বন্দি রয়েছেন। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন জোট ও মধ্য-বাম বিরোধী জোটের সমর্থন প্রায় সমান। এ অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে কড়া অবস্থানের রাজনৈতিক চাপের কারণে সরকার কারাগার সংস্কারে বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে আলেমান্নো আশাবাদী। তার বিশ্বাস, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কারাগার সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সব দলের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি লড়াই, যেখানে বাম ও ডান উভয়পক্ষকেই একসঙ্গে আসতে হবে।’

লাইনচ্যুত হওয়ার সময় যাত্রী ছিল ১০৫৩, জানাল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল | কালের কণ্ঠ