বর্তমান সময়ে ছোট পরিবারই যেখানে সাধারণ চিত্র, সেখানে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের অনন্তপুর জেলার কুর্লাপল্লি গ্রামের একটি পরিবার এখনো ধরে রেখেছে যৌথ পরিবারের পুরোনো ঐতিহ্য। এই পরিবারে ছয় প্রজন্মের মোট ৮৩ জন সদস্য একসঙ্গে বসবাস করছেন।
পরিবারের সদস্যরা চারটি পাশাপাশি বাড়িতে থাকেন। তবে আলাদা বাড়ি হলেও তাদের জীবনযাপন এক পরিবারের মতোই। তারা একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন, পরিবারের আয় ভাগাভাগি করে ব্যবহার করেন এবং সংসারের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একসঙ্গে নেন। পরিবারটির নেতৃত্বে আছেন হনুমন্তরায়ুডু ও মুথ্যালাপ্পা। এই বড় পরিবারে রয়েছেন ছয়জন শাশুড়ি, ১৪ জন পুত্রবধূ, ২০ জন শিশু, দাদা-দাদি এবং বিভিন্ন বয়সের প্রবীণ সদস্য। পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহু প্রজন্ম ধরে এই পরিবার একইভাবে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের আলাদা ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং একটি বড় পরিবারের অংশ হিসেবেই মনে করেন।
পরিবারের দৈনন্দিন খরচ, খাবার, গৃহস্থালির কাজ এবং অর্থনৈতিক দায়িত্ব সবাই মিলে ভাগ করে নেন। কেউ একা কোনো দায়িত্ব বহন করেন না। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী সবাই একে অপরকে সহযোগিতা করেন। পরিবারের জীবনযাত্রায় রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। পরিবারের সদস্য হনুমন্তরায়ুডু পিটিআইকে জানান, প্রতিদিন সকালে প্রবীণ সদস্যরা একসঙ্গে বসে কফি পান করেন এবং দিনের কাজের পরিকল্পনা করেন। সকালের ওই আলোচনায় ঠিক করা হয়, কে কোন কাজ করবেন। দিনের খাবারের তালিকাও তখন নির্ধারণ করা হয়। এরপর কৃষিকাজ ও ঘরের কাজ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। পরিবারের কেউ কেউ মাঠে চাষের কাজে যান। আবার কেউ বাড়িতে থেকে রান্না, শিশুদের দেখাশোনা এবং অন্যান্য গৃহস্থালির কাজ করেন। এভাবেই ৮৩ সদস্যের বড় পরিবারটি নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে।
এই পরিবারের অন্যতম বিশেষ দিক হলো তাদের যৌথ রান্নাঘর। সদস্যরা চারটি আলাদা বাড়িতে থাকলেও রান্না হয় এক জায়গায়। পরিবারের প্রবীণরা বাজার করা এবং প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার দায়িত্ব দেখেন। অন্যদিকে পুত্রবধূরা একসঙ্গে পুরো পরিবারের জন্য রান্না করেন। পরিবারটির আয়ের প্রধান উৎস কৃষিকাজ। এর পাশাপাশি তাদের চারটি বাস রয়েছে। এসব বাস অন্ধ্র প্রদেশের কল্যাণদুর্গম ও কর্ণাটকের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে চলাচল করে। চাষাবাদ ও পরিবহন ব্যবসা থেকে যে আয় আসে, তা একসঙ্গে জমা করা হয়। এরপর পরিবারের সবাই মিলে সেই অর্থ পরিচালনা করেন। এতে পরিবারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হয়েছে বলে জানান সদস্যরা।
এত বড় পরিবারে মতের পার্থক্য বা ছোটখাটো বিরোধ হওয়া স্বাভাবিক। তবে পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের দাবি, দিনের মধ্যেই এসব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়। তাদের মতে, পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা এবং পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখার মানসিকতাই ছয় প্রজন্মের এই ৮৩ সদস্যকে একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে সাহায্য করছে।





