• ই-পেপার

সীতাকুণ্ডে ২ শতাধিক বাড়িঘর প্লাবিত, আবুল খায়ের স্টিল মিলকে দুষছেন স্থানীয়রা

নান্দাইলে হেঁটে হেঁটে ইয়াবা বিক্রি, আটকের পর ৩ মাসের কারাদণ্ড

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
নান্দাইলে হেঁটে হেঁটে ইয়াবা বিক্রি, আটকের পর ৩ মাসের কারাদণ্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে প্রকাশ্য বাজারে হেঁটে হেঁটে ইয়াবা বিক্রি করার সময় দেলোয়ার (২৫) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং নগদ ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন নান্দাইলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সালাহ উদ্দিন আহমেদ মাহমুদ।

রবিবার (১২ জুলাই) রাত নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে উপজেলার মুশল্লী ইউনিয়নের মেরেঙ্গা নতুন বাজারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার মেরেঙ্গা বাজারে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে প্রকাশ্যে হেঁটে হেঁটে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করছিলেন। বাজারের লোকজন একজোট হয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে খবর দেয়। তবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য এক নারীকে কোলে শিশু থাকা অবস্থায় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে আটক করা হলেও, তাৎক্ষণিকভাবে তার কাছে কোনো মাদক না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেরেঙ্গা বাজারের একজন প্রভাবশালী ভাঙারি ব্যবসায়ী ওই নারীকে সামনে রেখে মূলত এই ইয়াবা সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৫ দিন আগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই নারীর বাড়িঘর ভেঙে দেয়। এরপর সে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিলেও তার ইয়াবা কারবার থামেনি।

নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক মো. রাসেল জানান, আজ সোমবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

লালপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে তরুণ হকারের মৃত্যু

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
লালপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে তরুণ হকারের মৃত্যু
ছবি: কালের কণ্ঠ

নাটোরের লালপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে আহমদ আলী (১৮) নামে এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে ঈশ্বরদী বাইপাস রেলওয়ে স্টেশনের পূর্বপ্রান্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার মো. ইউসুফ আলীর ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি ভ্রাম্যমাণ হকার হিসেবে ট্রেনে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতেন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি ট্রেনে পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অসাবধানতাবশত তিনি ট্রেনের নিচে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ট্রেনে অনিরাপদ চলাচল থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তিনি আরও বলেন, ট্রেনে হকারি করতে গিয়ে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাফেরা করেন, যা এমন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মানি লন্ডারিং মামলায় পলাশবাড়ীর আলোচিত সেই হরিদাস গ্রেপ্তার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
মানি লন্ডারিং মামলায় পলাশবাড়ীর আলোচিত সেই হরিদাস গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার একটি মন্দিরে রামমূর্তি স্থাপন সংক্রান্ত বিতর্কে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। সোমবার (১৩ জুলাই) তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। 

মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় রবিবার (১৩ জুলাই) গভীর রাতে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবং রামমূর্তি অপসারণের দাবিতে গাইবান্ধা জেলা শহরসহ সারা দেশে আন্দোলনে নামে বেশ কিছু সংগঠন।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান কালের কণ্ঠকে জানান, মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় সিআইডি তাকে গ্রেপ্তার করেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্তে উঠে এসেছে, গত পাঁচ বছরে তার ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। সেই লেনদেনের উৎস ও বৈধতা নিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জানা গেছে, শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালীমন্দিরকে ব্যাপক অর্থ ব্যয়ে আধুনিকায়ন ও ৮২ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে পলাশবাড়ীতে ব্যাপক আলোচনা, বিতর্ক ও আন্দোলন শুরু হয় এবং তার টাকার উৎস নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

ওসি সারোয়ার আলম খান জানান, ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলার ভিত্তিতেই সিআইডি তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে গেছে। কোথাও কোনো সমস্যা নেই, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রাজশাহীতে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীতে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

রাজশাহীতে এক কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ১০ জুলাই ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত মারুফ হোসেন অনি নগরীর শাহমখদুম থানাধীন সিটিহাটের বড়বাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা এবং নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। ভুক্তভোগী (১৯) রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রী। তিনি নগরীর আমচত্বর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে থাকেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রায় এক বছর আগে তাদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে মারুফ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে ভুক্তভোগী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে মারুফ কৌশলে তার কিছু ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করেন এবং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে মারুফ তাকে জোরপূর্বক নগরীর হেতেমখাঁ এলাকার একটি পুরনো ভবনে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে অভিযুক্ত বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, গত ৪ জুলাই মারুফ ভুক্তভোগীকে তার মেস ও পরিবারের সদস্যদের কাছে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে ভীত হয়ে তিনি অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে সেখানে মারুফের মা ও খালা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ছাড়া গত ৬ জুলাই মারুফ তাকে আবার একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন এবং গালিগালাজ করে ভিডিও ধারণ করেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। বর্তমানে বিয়ের কথা বললে মারুফ ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে এলাকাছাড়া করার হুমকি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তার মোবাইল ফোন থেকে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণও মুছে ফেলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

এসব ঘটনার পর থেকে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে, অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্ত মারুফ হোসেন অনি পলাতক রয়েছেন। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি মাসুমা মোস্তারিন বলেন, ‘ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’