• ই-পেপার

কুমিল্লা

নৌকায় চড়ে কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

রাজশাহীতে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীতে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

রাজশাহীতে এক কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ১০ জুলাই ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত মারুফ হোসেন অনি নগরীর শাহমখদুম থানাধীন সিটিহাটের বড়বাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা এবং নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। ভুক্তভোগী (১৯) রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রী। তিনি নগরীর আমচত্বর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে থাকেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রায় এক বছর আগে তাদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে মারুফ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে ভুক্তভোগী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে মারুফ কৌশলে তার কিছু ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করেন এবং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে মারুফ তাকে জোরপূর্বক নগরীর হেতেমখাঁ এলাকার একটি পুরনো ভবনে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে অভিযুক্ত বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, গত ৪ জুলাই মারুফ ভুক্তভোগীকে তার মেস ও পরিবারের সদস্যদের কাছে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে ভীত হয়ে তিনি অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে সেখানে মারুফের মা ও খালা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এছাড়া গত ৬ জুলাই মারুফ তাকে আবার একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন এবং গালিগালাজ করে ভিডিও ধারণ করেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। বর্তমানে বিয়ের কথা বললে মারুফ ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তার মোবাইল ফোন থেকে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণও মুছে ফেলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

এসব ঘটনার পর থেকে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে, অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্ত মারুফ হোসেন অনি পলাতক রয়েছেন। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি মাসুমা মোস্তারিন বলেন, ‘ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নওগাঁয় বাড়ি থেকে দম্পতির মরদেহ উদ্ধার

নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁয় বাড়ি থেকে দম্পতির মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে তাদের বাড়ি থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন, পাহাড়পুর গ্রামের লোকমান মণ্ডল (৫৫) ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম (৪৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে খাবার খেয়ে স্বামী-স্ত্রী ঘুমাতে যান। সোমবার ভোরে তাদের ছেলে মুক্তার হোসেন বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানালে তারা ঘরে গিয়ে খাটের ওপর ওই দম্পতির মরদেহ দেখতে পান।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মুক্তার হোসেন মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। তিনি প্রায়ই বাবা-মায়ের কাছে টাকা চাইতেন। তবে এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং পুলিশও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানের অবকাঠামো বিপর্যয়

ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি ছাড়াবে এখনো অনেক এলাকা পানির নিচে

জহির রায়হান, বান্দরবান
টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানের অবকাঠামো বিপর্যয়
বান্দরবানের রুমা উপজেলার বেথেলপাড়া থেকে মুননোয়ামগামী সড়কটি ধসে পড়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। রবিবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

টানা ১০ দিনের ভারি বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, বন্যা, পাহাড় ধস ও ভূমিধসে ভেঙে পড়েছে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের যোগাযোগ ব্যবস্থা। 

জেলার দুই পৌরসভা ও সাত উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়নের শত শত কিলোমিটার সড়ক, সেতু, কালভার্ট, গাইডওয়াল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামো মারাত্মক  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

সরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর প্রাথমিক হিসাব বলছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ইতোমধ্যে শতকোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এখনো অনেক এলাকা পানির নিচে থাকায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রবিবার সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ি ঢলে কোথাও সড়ক ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে, কোথাও কালভার্ট ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। অনেক জায়গায় পাহাড় ধসে সড়কে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলা সদর থেকে দুর্গম রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো।

সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও জেলা প্রশাসন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী  ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলো হলো বান্দরবান সদরের কুহালং, সুয়ালক, টংকাবতী, রাজবিলা ও জামছড়ি; লামা সদরের  আজিজনগর, গজালিয়া, সরই, রূপসীপাড়া, ফাঁসিয়াখালী ও ফাইতং এবং  আলীকদম সদর, চৈক্ষ্যং, নয়াপাড়া ও কুরুকপাতা ইউনিয়ন। 

এ ছাড়া নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের বাইশরী, দোছড়ি, ঘুমধুম ও সোনাইছড়ি; রুমা সদরের পাইন্দু, রেমাক্রী প্রাংসা ও গালেংগ্যা;  রোয়াংছড়ি সদরের তারাছা, নয়াপতং ও আলেক্ষ্যং এবং থানচি সদরের রেমাক্রী, তিন্দু ও বলিপাড়া ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসব ইউনিয়নের অধিকাংশ প্রামীণ ও সংযোগ সড়ক এখনো ব্যবহারের অনুপযোগী। কোথাও সড়কের অর্ধেক অংশ ধসে গেছে, কোথাও সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে পড়েছে। ফলে দুর্গম এলাকার হাজারো মানুষ এখনো বিচ্ছিন্ন অবস্থার মধ্যে  রয়েছে।

এলজিইডির হিসাবে ক্ষতি
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান জেলায় সংস্থাটির আওতায় প্রায় ৯০০ কিলোমিটার পাকা, কাঁচা ও ইউনিয়ন সড়ক রয়েছে। মাঠপর্যায়ের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অন্তত ২১ কিলোমিটার সড়ক এবং অসংখ্য ছোট-বড় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রদীপ দেওয়ান কালের কণ্ঠকে জানান, মাঠপর্যায়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে এখনো অনেক এলাকা পানির নিচে। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। তবে এই হিসাব আরো বাড়তে পারে।

সওজের সড়কে ক্ষতি
বান্দরবান সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতায় রয়েছে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার সড়ক। এর মধ্যে বান্দরবান-কেরাণীহাট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, বান্দরবান-রাঙামাটি-বাঙ্গালখালিয়া সংযোগ সড়ক এবং বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের বিভিন্ন অংশ এখনো পানিতে ডুবে আছে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে গেছে তিনটি আরসিসি সেতু ও সাতটি বেইলি সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সচল করতে স্বল্পমেয়াদে প্রায় সাত কোটি টাকা এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই পুনর্নির্মাণে আরো প্রায় ৪০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

জেলা পরিষদের অধীনে অবকাঠামোর ক্ষতি
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে রয়েছে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক এবং বিস্তৃত অবকাঠামো নেটওয়ার্ক। পাহাড়ি জনপদে নির্মিত পাকা, আধাপাকা ও কাঁচা সড়ক, সেতু, কালভার্ট এবং জনসেবামূলক স্থাপনাগুলোর বড় অংশই ক্ষতির মুখে পড়েছে।

জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, জেলার অধিকাংশ দুর্গম এলাকা এখনো বন্যাকবলিত থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ সম্ভব হয়নি। পানি নেমে গেলে প্রকৌশলীরা সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে বিস্তারিত হিসাব প্রস্তুত করবেন।

উন্নয়ন বোর্ডের হাজার কোটি টাকার প্রকল্পও ক্ষতির মুখে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলায় এক হাজার ৯৮৯টি উন্নয়ন প্রকল্পে মোট এক  হাজার ৩৮৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার এবং বাস টার্মিনাল।

বোর্ডের বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত বলেন, চলমান বন্যা ও পাহাড় ধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পানি নেমে যাওয়ার পর সরাসরি পরিদর্শনের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হবে। এখনই নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতির হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়।

পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বান্দরবান সদর ও লামা পৌরসভার প্রশাসকরা জানান, কয়েকদিন ধরে তাদের প্রধান কাজ ছিল জলাবদ্ধ এলাকায় আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং জরুরি সেবা সচল রাখা। ফলে এখনো অবকাঠামোগত ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি।

একই তথ্য জানিয়েছেন জেলার সাত উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)রা। তারা জানান, পানি সরে গেলে ইউনিয়নভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে মেরামত ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা বলেন, বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলের অধিকাংশ সড়ক নির্মিত হয়েছে খাড়া ঢাল ও পাহাড় কেটে। টানা ভারি বৃষ্টিতে এসব এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টির প্রবণতা বাড়ায় অবকাঠামোগুলোও বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে শুধু মেরামত নয়, ভবিষ্যতের দুর্যোগ বিবেচনায় টেকসই নকশায় পুনর্নির্মাণের বিকল্প নেই।

বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এলজিইডি ও সওজের ক্ষতির পরিমাণই ৮০ কোটির বেশি। এর সঙ্গে পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, দুই পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও অন্যান্য সরকারি অবকাঠামোর ক্ষতি যুক্ত হলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির অঙ্ক সহজেই কয়েক শ কোটি টাকা ছাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

যশোরে

যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

যশোর অফিস
যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
রুবেল হোসেন

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে রুবেল হোসেন (৩৮) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টা ২০মিনিটে উপজেলার খাজুরা তেলপাম্প-সংলগ্ন গাড়ি ওজন করার স্কেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রুবেল হোসেন উপজেলার খাজুরা তেলপাম্প-সংলগ্ন তেলি ধান্যপোড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত মুনতাজ ঢালীর ছেলে এবং বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দভিলা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার আব্দুর রবের ছেলে রাব্বি ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেল হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। রাব্বি সম্পর্কে নিহত রুবেলের ছোট বোনের দেবর। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জালাল আলম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।