আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ভারতের মুম্বাই পুলিশের এক সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের নাম পবন সাঙ্গলে। তিনি মুম্বাই পুলিশের ট্রান্সপোর্ট বিভাগের একজন কনস্টেবল ও চালক। ঘটনার সময় তিনি মুম্বাইয়ের সায়ন পুলিশ স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ আসার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির আন্দোলন দিল্লি ছাড়িয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্ক, চেম্বুর, আজাদ ময়দানসহ শহরের প্রধান প্রধান এলাকায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিক বিক্ষোভ করছেন। এরইমধ্যে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যাতে পুলিশের এক গাড়ি চালককে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে দেখা যায়। পরে মুম্বাই কংগ্রেস তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি পুলিশভ্যানের ভেতর কয়েকজন তরুণ বসে আছে। পরে জানা গেছে, বুধবার মুম্বাইয়ের দাদর এলাকার শিবাজী পার্কে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের আটক করে। এ সময় সামনে চালকের আসনে বসা এক পুলিশ সদস্য তাদের বাড়ি ফিরে যেতে এবং বিক্ষোভে আর না আসার নির্দেশ দিতে দেখা যায়।
ভিডিওতে ওই পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমাদের যদি এখানে আর কখনো দেখা যায়, আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না। আমি তোমাদের জীবন বরবাদ করে দেবো।’ এরপর তিনি তাদের মাদকের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমি তোমাদের ব্যাগে ৫০-৫০ গ্রাম পাউডার ঢুকিয়ে দেবো এবং তোমাদের জীবন ওখানেই শেষ হয়ে যাবে। জামিনও হবে না।’ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, এই বিক্ষোভের কারণে তার নিজের জীবনও কঠিন হয়ে পড়েছে। আটক শিক্ষার্থীদের কেউ গোপনে ভিডিও করে। পরে সেই ভিডিও পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিওটি শেয়ার করে মুম্বাই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘যদি এটি সত্য হয়, তবে এটি কেবল শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। কণ্ঠ তোলা কোনো অপরাধ নয়। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেওয়া উচিত, হুমকি দিয়ে নয়।’
এমনিতেই আন্দোলন দমনে মুম্বাই পুলিশের নানা কৌশল নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। মাদক মামলার হুমকির ঘটনা মুম্বাই পুলিশক আরো বিপাকে ফেলেছে। ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মুম্বাই পুলিশ এর সত্যতা ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে।
এর আগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে মুম্বাই পুলিশের বিরুদ্ধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চলমান ছাত্র বিক্ষোভে যাতে কেউ বারবার অংশ নিতে না পারে, সেজন্য মুম্বাইজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং ঘরে গিয়ে সরাসরি যোগাযোগের পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। যাদের নামে ইতিমধ্যে এফআইআর রয়েছে বা আগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তারা স্থানীয় থানা থেকে সরাসরি ফোন কল এবং মেসেজ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং যাচাই করা স্ক্রিনশট থেকে দেখা গেছে, থানার সিনিয়র কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘরে থাকার এবং নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপে অনবরত লাইভ লোকেশন শেয়ার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ভোরের দিকে মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যেখানে আগের সমাবেশে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।




