• ই-পেপার

ফিউচার সামিটে মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট

বৈশ্বিক ক্রেতা-ব্র্যান্ডের সঙ্গে পোশাক খাতকে যুক্ত করার অঙ্গীকার

জুলাইয়ের ২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার

অনলাইন ডেস্ক
জুলাইয়ের ২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার

চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ২.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবাস আয়ের হালনাগাদ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে মোট ২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গতবছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৭৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তথ্য অনুযায়ী, ২১ জুলাই এক দিনেই প্রবাসীরা ৭৫ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাসেই রেমিট্যান্সপ্রবাহের এ ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার আয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রতিফলন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

অনলাইন ডেস্ক
আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
ছবি : রয়টার্স

বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানামা করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

বাজারে চাহিদামতো বৈদেশিক মুদ্রার জোগান থাকার পরও সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়ন করতে পর্যায়ক্রমে ডলারের দাম বাড়ানো ও টাকার মান কমানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এ মাসে দেশের আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ডলারের দাম গড় হিসেবে প্রায় ৯০ পয়সা বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত মাসে আন্তঃব্যাংকে ডলারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দাম ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। সেখানে বর্তমানে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ১২৩ টাকা ৭০ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (২৩ জুলাই ২০২৬) সর্বনিম্ন মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

ইউএস ডলার : ১২৩ টাকা ৭০ পয়সা
ইউরো : ১৪১ টাকা ১৪ পয়সা
পাউন্ড : ১৬৫ টাকা ৩৯ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার : ৮৭ টাকা ৭৯ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৫৪ পয়সা
চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ২৫ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৫ টাকা ৭৮ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৮ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ১১ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৮২ পয়সা
কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৮৬ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৭ টাকা ৬০ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৫৩ পয়সা

*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। তবে আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে গত কয়েক দিনে ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব মতে, চলতি মাসের শুরুতে ডলারের সর্বনিম্ন দাম ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা থাকলেও সেটি ১২৩ টাকা ৭০ পয়সায় পৌঁছেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা অস্বস্তিদায়ক।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা

ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অপরিশোধিত তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক
ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অপরিশোধিত তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরো তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ওয়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের উভয় ধরনের তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বাজার তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১.৯৩ ডলার বা ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ। আগের দিনও ব্রেন্ট তেলের দাম ৩ ডলারের বেশি বেড়ে ৯৪.০৭ ডলারে বন্ধ হয়েছিল।

অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের তেলের দাম ১.৪৪ ডলার বা ১.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮.২৭ ডলারে ওঠে। এর আগে বুধবারও এ ধরনের তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা টানা যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২তম রাতে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে প্রতিবারই ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকি দেন। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা একটি নৌপথ অতিক্রম করার সময় বিস্ফোরণে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায় এবং আরো দুটি ট্যাংকার নিরাপত্তার কারণে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

সংস্থাটি আরো জানায়, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চলতে থাকলে প্রণালিটি ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ থাকবে। ইরানের সমন্বয় ছাড়া কোনো তেলবাহী জাহাজকে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধেরও ঘোষণা দিয়েছে।

হুথিদের দাবি, তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি পতাকাবাহী এনসেলিয়া নামের একটি ট্যাংকার লোহিত সাগরে হামলার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া সতর্কবার্তার পর প্রায় ১০টি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করার দাবি করেছে হুথিরা। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুদ ২০ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। শোধনাগারগুলোর কার্যক্রম কিছুটা কমে যাওয়া, রপ্তানি হ্রাস এবং আমদানি বৃদ্ধির কারণে এই মজুদ বেড়েছে। অথচ বিশ্লেষকেরা প্রায় ১১ লাখ ব্যারেল মজুদ কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

সূত্র : রয়টার্স

শওকত আজিজ রাসেল

পলিসি সংস্কার করে শিল্পমালিকদের সহায়তা দিতে হবে

অনলাইন ডেস্ক
পলিসি সংস্কার করে শিল্পমালিকদের সহায়তা দিতে হবে

গ্যাসসংকটসহ বিভিন্ন কারণে দেশে বর্তমানে ১২১টি স্পিনিং মিল বন্ধ আছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। একই সঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমাদের যে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি আছে এটা ‘বেসিক ইন্ডাস্ট্রি’।

এটা অনেক বড় একটি খাত। তবে এই শিল্প অব্যবহৃত এবং অবহেলিত। এজন্য পলিসি সংস্কার করে শিল্প মালিকদের সহায়তা দিতে হবে। প্রতিবেশী দেশ ভারত এমনটা করছে।

সংগঠনের সভাপতি আরো বলেন, সরকার দেশের অদূর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক চিন্তাভাবনা করে। কিন্তু গ্যাস সংকটের প্রভাব অদূর ভবিষ্যতে অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে তা আমরা চিন্তাভাবনায় রাখি না। এ বিষয়ে আমাদের চিন্তাধারা পরিবর্তন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আজকের (বুধবার) বৈঠকে আমরা ব্যাকওয়ার্ড ও ফরোয়ার্ড লিংকেজগুলো তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তিনি বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন। বিশেষ করে গ্যাসের সংকট, টাকার সংকট, ব্যাংকিং ব্যবস্থার সংকট, মাস্তানদের নিয়েও একটি সংকট আছে। এ বিষয়গুলো সব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী আগামী সপ্তাহে আবার আমাদের তার কাছে ডেকেছেন। এই পরিস্থিতির সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী তার অর্থ উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আমরা ধারণা করছি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিষয়টি সুরাহা করতে চান এবং এ বিষয়ে একটি রোডম্যাপ করতে চান। এই উদ্যোগে আমরা স্বস্তি প্রকাশ করছি।

বিটিএমইএ সভাপতি আরো বলেন, আমাদের টেক্সটাইলে ২৩ বিলিয়ন ডলার, আর এক্সেসরিজে ৬ বিলিয়ন ডলার, আরএমজিতে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে। আর এই সব খাতই এখন সংকটের মুখে আছে। কারণ সরকারের এখানে মনোযোগ ও চিন্তাভাবনার অভাব আছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন