রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা আর্থিক প্রতারণা, জোর করে দোকান দখল করে রাখা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধে মুহাম্মদ মাসুদ চৌধুরী (৪৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ।
আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৮টার দিকে ভাটারা থানাধীন নর্দা এলাকার সৌদি মসজিদ রোড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জানা যায়, ভাটারা থানাধীন নর্দা এলাকা জমি ভাড়ার শর্ত ভঙ্গ, ভাড়া না দেওয়া ও বেআইনিভাবে দোকান তৈরি করে তৃতীয় পক্ষের কাছে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফাহমিদা হক (৫৮) নামের এক ভুক্তভোগী মামলা করেন। অবশেষে গত সোমবার শুনানি হলে আসামি উপস্থিত না হওয়ায় ওয়ারেন্ট জারি করেন আদালত।
ভাটারা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আদালতের জারি করা অতি সম্প্রতি ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে এখন আদালতে পাঠানো হবে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, ফাহমিদা হক বাদী হয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে সি.আর. মামলা নং-২৭৯২/২০২৬ দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪২০ (প্রতারণা) এবং ৫০৬ (ভয়ভীতি প্রদর্শন) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভাটারা থানাধীন নর্দা এলাকার প্রগতি সরণির ক-৬১/৪/১ নম্বর স্থানে প্রায় ২ হাজার ১৬০ বর্গফুট জমি ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি ১০ বছরের জন্য ভাড়ার চুক্তিতে নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জমির মালিক ফজিলাতুন নেছা ২০১৯ সালে মারা যাওয়ার পর তার ওয়ারিশদের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি না করেই আসামি ওই জমিতে লোহার কাঠামোর তিনতলা অস্থায়ী ভবন নির্মাণ করেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করতে থাকেন।
বাদীপক্ষের দাবি, শুরু থেকেই ভাড়ার টাকা নিয়মিত পরিশোধ করা হয়নি। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জায়গাটি খালি না করে জবরদখলে রেখে ভাড়া আদায় অব্যাহত রাখা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে অনিয়মিত বকেয়া ভাড়া এবং ২০২২ সালের পর থেকে সম্পূর্ণ ভাড়া বকেয়া মিলিয়ে আসামির কাছে মোট প্রায় ৭১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। ওই অর্থ বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আরো বলা হয়েছে, গত ২৫ মার্চ বাদীপক্ষ আসামিকে পাওনা পরিশোধ এবং জায়গা খালি করে দেওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করে। কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। পরবর্তীতে গত ২৬ জুন সাড়ে ৪টার দিকে বাদী ও সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ৭১ লাখ টাকা দাবি করলে আসামি তা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানান এবং পুনরায় টাকা দাবি করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায় বাদীপক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়। আদালত অভিযোগ পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
বাদী ফাহমিদা হক বলেন, ২০২২ সালের পূর্বে অনিয়মিত ভাড়া বাবদ পাওনা প্রায় ১৮ লাখ টাকা এবং ২০২২ সাল থেকে গত ২৬ জুন পর্যন্ত (চুক্তি অনুযায়ী) প্রতিমাসে ১ লাখ টাকা করে ৫৪ মাসে ৫৪ লাখ টাকা। আসামির দেওয়া জামানত ১ লাখ টাকা বাদ দিলে মোট পাওনা ৭১ লাখ টাকা পাওনা। মাসুদ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমরা আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং আদালতের মাধ্যমে আমাদের সব পাওনা টাকা ফেরত চাই।
এর আগে ভাটারা থানার মাদকসংক্রান্ত আইনের মামলায়ও মাসুদ ১৫ দিন কারাভোগ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।






