গাড়িতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিলাসবহুল একটি ল্যান্ড ক্রুজারে সেনাবাহিনীর স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা ভেস্তে দিয়েছে পুলিশ।
কক্সবাজারের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ২৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ল্যান্স করপোরাল পরিচয়ধারী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ল্যান্ড ক্রুজারটি জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানাধীন ঝিলংজা ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ৩ নম্বর গেটের সামনে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করে এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ওবায়দুল হাসান (৪১)। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার বাগুপাড়া এলাকার মৃত দেলোয়ার রহমানের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ল্যান্স করপোরাল।
পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসান ও কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চেকপোস্ট পরিচালনা করছিলেন। এসময় একটি বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজারকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
পালানোর সময় গাড়িটি একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল আরোহী আহত হন। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসানসহ অন্য পুলিশ সদস্যও আহত হন। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে গাড়িটি আটক করে তল্লাশি চালায়।
তল্লাশিতে গাড়ি থেকে ২৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ল্যান্ড ক্রুজারটি জব্দ করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে থামার সংকেত দিলে তিনি দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করেন। এসময় একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল আরোহী আহত হন। একই ঘটনায় অন্য পুলিশ সদস্যসহ আমিও আহত হই। পরে ধাওয়া করে ওবায়দুলকে আটক করা হয়।
তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তার সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ মাদক চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই কক্সবাজারের রামু উপজেলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেট কারে ইয়াবা পাচারের সময় ৩ সদস্যের একটি চক্রকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ওই অভিযানে ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার ও ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছিল।
মাত্র ৮ দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্টিকার ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের দ্বিতীয় ঘটনা সামনে আসায় মাদক পাচারকারীদের নতুন কৌশল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।




