• ই-পেপার

চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিং কোথায়? \'ফাঁসি\' হইল কলকাতার রাস্তায়!

আমদানিনির্ভর হয়েও হিলিয়াম রপ্তানিতে কেন নিষেধাজ্ঞা দিল চীন

অনলাইন ডেস্ক
আমদানিনির্ভর হয়েও হিলিয়াম রপ্তানিতে কেন নিষেধাজ্ঞা দিল চীন
ছবি - রয়টার্স

সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ উৎপাদনের সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিলিয়াম গ্যাস। মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কায় সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে অপরিহার্য এই গ্যাস রপ্তানিতে কার্যকর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীন।

কিন্তু এই গ্যাসের মোট চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ বা তারও বেশি আমদানি করতে হয় চীনকে। তারপরও বৈশ্বিক বাজারে হিলিয়ামের সরবরাহে নতুন সংকট দেখা দিতে পারে-এমন আশঙ্কায় তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয় বেইজিং। শুক্রবার চীনের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স

শঙ্কা বৈশ্বিক সংকটের

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের জেরে হিলিয়ামের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, এমনকি চীনের কোম্পানিগুলোও সমস্যায় পড়ে।

বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যবহৃত দেশীয় চিপ উৎপাদনে চীন ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে ওঠায় হিলিয়ামের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। 

দেশীয় বাজারে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ঘাটতি ঠেকাতে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে এটি বেইজিংয়ের সর্বশেষ পদক্ষেপ। এর আগে জ্বালানি, সার এবং সালফিউরিক অ্যাসিডের রপ্তানিতেও একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল চীন।

একই সঙ্গে দেশটি নিজস্ব চিপ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকা মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে।

আমদানিনির্ভর চীন

নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ থাকলেও হিলিয়ামের জন্য চীন এখনও ব্যাপকভাবে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির মোট চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ বা তারও বেশি হিলিয়াম আমদানি করতে হয়।

তবে চীনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক সরবরাহে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো রাশিয়া থেকে হিলিয়াম আমদানি করে তার একটি অংশ ইউরোপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় রপ্তানি করে আসছে।

বিশ্বে হিলিয়াম উৎপাদনকারী প্রধান দেশগুলোর একটি কাতার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের মোট হিলিয়াম আমদানির অর্ধেকেরও বেশি এসেছে দেশটি থেকে।

হিলিয়াম মূলত এমন প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে সংগ্রহ করা হয়, যেখানে এ গ্যাসের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি থাকে। অন্য কোনো শিল্পপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত হিলিয়াম উৎপাদন করা সম্ভব নয়। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ওয়েফার কুলিং, প্লাজমা এচিং, কেমিক্যাল ভ্যাপার ডিপোজিশন, অ্যাটমিক লেয়ার ডিপোজিশন, লিথোগ্রাফি এবং লিক শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধাপে হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়।

ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি, ৯ দিন পর ছেলের মরদেহ উদ্ধার করলেন মা

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি, ৯ দিন পর ছেলের মরদেহ উদ্ধার করলেন মা
রয়টার্স ছবি

ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন মোহাম্মদ আবু খাম্মাশ। এরপর টানা ৯ দিন খোলা আকাশের নিছে পড়েছিল তার মরদেহ। অবশেষে অনুমতি পেয়ে ছেলে মরদেহ উদ্ধার করলেন মা।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে স্বজনরা জানিয়েছেন, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে ৯ দিন আগে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হন তিনি।

পরিবারের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর মরদেহটি দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিছে পড়ে ছিল। মরদেহ উদ্ধারের অনুমতি পেতে তাদের নয় দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। 

অবশেষে মরদেহটি একটি কালো ব্যাগে করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ সময় খোলা স্থানে পড়ে থাকার কারণে মরদেহে পচন ধরেছিল বলে স্বজনরা জানান।

ইসরায়েলি হামলায় হামাসের শীর্ষ কমান্ডার নিহত

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলি হামলায় হামাসের শীর্ষ কমান্ডার নিহত
সংগৃহীত ছবি

গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় হামাসের শীর্ষ এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। 

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, নিহত ওই কমান্ডারের নাম ইয়াহইয়া সাঈদ মোহাম্মদ হামদান। তিনি হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেডের নুখবা ইউনিটের প্রধান ছিলেন। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের রেইম এলাকায় চালানো হামলার নেতৃত্বে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ গাজায় বৃহস্পতিবার পরিচালিত একটি নির্ভুল বিমান হামলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, ওই কমান্ডার সেখানে অভিযান পরিচালনাকারী তাদের সেনাদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি হয়ে উঠেছিলেন।

মমতার দলকে ভাঙতে বিজেপির কৌশল

অনলাইন ডেস্ক
মমতার দলকে ভাঙতে বিজেপির কৌশল
সংগৃহীত ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত মিলেছে। রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তৃণমূলের ৩ সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিয়েছেন।

তারা হলেন সুশ্মিতা দেব, সুখেন্দু শেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইক। গতকাল বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলটি তাদের শূন্য হওয়া তিনটি রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে। আগামী ২৪ জুলাই এসব আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃণমূলে ভাঙন ধরানোর বিজেপির পরিকল্পনা এখানেই শেষ নয়। তৃণমূলের আরেক রাজ্যসভা সদস্য রুক্মিণী মল্লিক ইতোমধ্যে ই-মেইলে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন এবং শিগগিরই সরাসরি সাক্ষাৎ করে তা জমা দেবেন।

এ ছাড়া দলটির অবশিষ্ট রাজ্যসভা সদস্যদের মধ্য থেকে আরো দুজন বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে দাবি করেছে সূত্র।

তৃণমূল তত্ত্ব

তৃণমূলের সাবেক নেতাদের দলে নেওয়ার বিষয়ে বিজেপির আগের অবস্থানের সঙ্গে নতুন সিদ্ধান্তের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের দলে না নেওয়ার কথা বললেও পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য এই তিন নেতাকে দলে নেওয়াকে ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও এর আগে তিনি ‘ভালো তৃণমূল’ ও ‘খারাপ তৃণমূল’ তত্ত্বও তুলে ধরেছিলেন।

রাজ্যসভায় বিজেপির শক্তি বাড়ছে

রাজ্যসভায় ভাঙনের আগে তৃণমূলের সদস্যসংখ্যা ছিল ১৩। দলত্যাগ করে সরাসরি দল ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা (৯ জন) না পাওয়ায় বিজেপি পদত্যাগ করিয়ে নিজেদের প্রতীকে পুনর্নির্বাচিত করার কৌশল নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে একদিকে তৃণমূলের শক্তি কমছে, অন্যদিকে রাজ্যসভায় বিজেপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

২৪ জুলাইয়ের উপনির্বাচনের পর রাজ্যসভায় বিজেপির সদস্যসংখ্যা বেড়ে ১১৭-এ পৌঁছাবে, যা দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এককভাবে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার (১২৩ জন) জন্য তখন তাদের প্রয়োজন হবে মাত্র ছয়টি আসন।

এর সঙ্গে সাতজন মনোনীত সদস্য এবং তিনজন স্বতন্ত্র সদস্য (পরিমল নাথওয়ানি, কার্তিকেয় শর্মা ও দিলীপ রায়) সমর্থন দিলে বিজেপির সংখ্যা দাঁড়াবে ১২৭ জনে, যা সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করবে। মিত্রদের নিয়ে দলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার (১৬৪ জন) আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। 

বর্তমানে বিজেপির জোটসঙ্গীদের রাজ্যসভায় মোট ২৬ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি), এআইএডিএমকে, জনতা দল (ইউনাইটেড) এবং এনসিপির চারজন করে সদস্য রয়েছেন। শিবসেনা ও ইউপিপিএলের দুজন করে সদস্য এবং আরপিআই (এ), এজিপি, এমএনএফ, এনপিপি, আরএলএম ও জনসেনা পার্টির একজন করে সদস্য রয়েছেন।

এদিকে বর্তমানে এনডিএ জোটের রাজ্যসভায় মোট সদস্যসংখ্যা ১৫৩, যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে মাত্র ১১ কম।

লোকসভাতেও তৃণমূলে ‘ভাঙন কৌশল’

লোকসভাতেও তৃণমূলে ভাঙন ধরানোর পৃথক কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেখানে তৃণমূলের ২৮ জন এমপির মধ্যে ২০ জন একটি ছোট দল এনসিপিআইয়ের সঙ্গে একীভূত হয়ে এনডিএকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই একীভূতকরণ কার্যকর করতে লোকসভার স্পিকারের অনুমোদন প্রয়োজন।

এর ফলে লোকসভায় এনডিএর শক্তি বাড়লেও এখনও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমায় পৌঁছাতে পারেনি।

দ্বিমুখী আইনি লড়াই মমতার

দিল্লি থেকে কলকাতা—দুই জায়গাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে চাপে ফেলতে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়েছে।

কলকাতায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জনের বেশি বিধায়ক তৃণমূল ছেড়ে আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার ঋতব্রতকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

এই গোষ্ঠী নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল’ দাবি করে নির্বাচন কমিশনের কাছেও দলীয় প্রতীক পাওয়ার আবেদন করেছে। কমিশন শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারে।

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন দুই ফ্রন্টে আইনি লড়াই করতে হবে। প্রথমত, কলকাতায় তার গোষ্ঠীই প্রকৃত তৃণমূল—এটি প্রমাণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দিল্লিতে প্রমাণ করতে হবে যে বিদ্রোহী ২০ জন লোকসভা সদস্য আইনগতভাবে দলত্যাগ করতে পারেন না এবং তাদের সদস্যপদ বাতিল করা উচিত। 

এ বিষয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে ইতোমধ্যে চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে ২০ জন এমপির এনসিপিআইয়ে একীভূত হওয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিং কোথায়? \'ফাঁসি\' হইল কলকাতার রাস্তায়! | কালের কণ্ঠ