দক্ষিণ ফ্রান্সে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি বড় দাবানলের কারণে স্পেন সীমান্তের কাছাকাছি অন্তত দুই ডজন ছোট শহর ও গ্রাম থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সোমবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই এলাকায় জোরালো বাতাস বইছে। ফলে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ফ্রান্সকে সহায়তা করতে সাইপ্রাস ও সুইডেন থেকে চারটি বিশেষ পানি ছিটানো উড়োজাহাজ পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ১০০ জনের বেশি দমকলকর্মীকেও ফ্রান্সে পাঠানো হবে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেন, এই সংকটে ইউরোপ ফ্রান্সের পাশে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান পিয়ের রেনো দ্য লা মোত জানান, দাবানলে এখন পর্যন্ত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজন দমকলকর্মী রয়েছেন, যারা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফরাসি পিরেনিজ পর্বতমালার পাদদেশে ত্রেভিয়াক এলাকায় আগুনে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি বছরের মে ও জুন মাসে ফ্রান্স এবং পশ্চিম ইউরোপজুড়ে অস্বাভাবিক গরম পড়েছিল। দীর্ঘ সময়ের তাপপ্রবাহে বনাঞ্চল ও ঘাস শুকিয়ে যাওয়ায় এ বছর দাবানলের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় সাইকেল প্রতিযোগিতা 'ট্যুর দ্য ফ্রান্স'- এর তৃতীয় ধাপের রুটের কাছাকাছি এলাকায়ও। নিরাপত্তার কারণে সোমবার ওই এলাকা সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ট্যুর দ্য ফ্রান্সের পরিচালক ক্রিস্তিয়ান প্রুধোম বলেন, এতে দমকলকর্মীরা সহজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করতে পারছেন। তিনি আরো জানান, প্রতিযোগিতার সঙ্গে চলা গাড়ির বহরও কমিয়ে আনা হয়েছে, যাতে জরুরি সেবার কাজে কোনো বাধা না হয়।
আরো পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ব্যয়ের ধাক্কা, ভারতীয় প্রবীণের দেশের প্রশংসার পোস্ট ভাইরাল
এই ধাপের প্রতিযোগিতা ১৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি স্পেনের গ্রানোলিয়ের্স শহর থেকে শুরু হয়ে ফ্রান্সের পিরেনে-ওরিয়ঁতাল অঞ্চলের লে জঁগলে গিয়ে শেষ হবে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ইউরোপে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হারে তাপমাত্রা বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আরো ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাপপ্রবাহ ও দাবানলের মতো দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে তাপমাত্রা আবারও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। একই সময়ে পর্তুগাল ও স্পেনেও নতুন করে তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। তবে জুন মাসে যে রেকর্ড গরম পড়েছিল, এবার সেই মাত্রায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। স্পেনের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও দাবানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে প্রায় ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। এর মধ্যে ৯৭ শতাংশই সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকা লেস গাভারেসের ভেতরে। তবে স্পেনের কাতালোনিয়া অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকার আগুন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ সপ্তাহের মধ্যেই আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।
এদিকে কাতালোনিয়ায় দাবানলের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি আঞ্চলিক সরকারের চুক্তিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। অভিযোগ রয়েছে, রাস্তার পাশে অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার ব্যবহার করার সময় তার কাজ থেকে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। অন্যদিকে, কাতালোনিয়ার দক্ষিণে কাস্তেয়োন প্রদেশে আরেকটি দাবানল সিয়েরা দে এস্পাদান জাতীয় উদ্যানে ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাটিতে কর্ক ওক গাছের বড় বন রয়েছে। আগুনের ঝুঁকির কারণে সেখান থেকে অন্তত ৫০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু ফ্রান্স বা স্পেন নয়, পর্তুগালেও গত কয়েক দিনে শত শত দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সবচেয়ে বড় দাবানলে ইতোমধ্যে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। এই আয়তন প্রায় ১৪ হাজারটি ফুটবল মাঠের সমান।