ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাবার খাবারের দোকান থেকে এক কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি ফরহাদ হোসেনকে (২৮) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না আসামি ফরহাদ। পাঁচ বছর ধরে ফরহাদ পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গোলাম রব্বানী বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ, মেডিক্যাল প্রতিবেদন ও তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যের মাধ্যমে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত সেই সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তিনি বলেন, আদালতের এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। দীর্ঘদিন পলাতক থাকলেও শেষ পর্যন্ত আসামি আইনের বিচারের বাইরে থাকতে পারেনি।’
মামলার অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৯ মে সকালে ভাঙ্গা উপজেলার মুন্সুরাবাদ বাজারে বাবার খাবারের দোকানে নাশতা পৌঁছে দিতে যায় ভুক্তভোগী কিশোরী। এ সময় স্থানীয় সড়ক থেকে ফরহাদ হোসেন ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক তাকে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, অপহরণের সময় কিশোরীর কাছে দোকানের বিক্রির দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিল। অপহরণকারীরা সেই টাকাও নিয়ে যায়। পরে কিশোরীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা ভাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ একাধিক সাক্ষী, মেডিক্যাল প্রতিবেদন ও তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় ঘোষণা করেন।
তবে রায় ঘোষণার সময়ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি পলাতক ছিলেন। ফলে তাকে গ্রেপ্তারে জন্য আদালত নির্দেশ দেন।




