• ই-পেপার

জুলাইযোদ্ধাদের ‘মারতে’ পুরস্কার ঘোষণা, থানায় অভিযোগ

হবিগঞ্জ

আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘেঁষে বালু তোলা চলছেই

সরকারি আইন অমান্য   প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

রায়হান আহমেদ, হবিগঞ্জ
আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘেঁষে বালু তোলা চলছেই
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বনগাাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘেঁষে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে চলছে বালু তোলা। সোমবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

বনগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পটি গড়ে উঠেছে খোয়াই নদীর পাশে। প্রকল্পের ঘরে ঠাঁই মেলে ১৬০টি ভূমিহীন পরিবারের। তবে নিরাপদ আশ্রয়টিতে এখন চলছে আতঙ্ক। দীর্ঘদিন ধরে  পাশেই চলছে অবৈধভাবে বালু তোলা। এতে প্রকল্পের ঘর নদীভাঙনের শিকার হতে পারে- এমন আশঙ্কা সেখানকার বাসিন্দাদের। 

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বনগাাঁও এলাকার এই আশ্রয়ণ প্রকল্পঘেঁষে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগ ইজারাদারের বিরুদ্ধে। এর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারাও যুক্ত বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। 

এদিকে, অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে নদীভাঙনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ছাড়াও হুমকিতে পড়েছে আশপাশের কৃষিজমিও। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘ দুই মাস ধরে এ কার্যক্রম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। 

সোমবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বনগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পসংলগ্ন এলাকায় খোয়াই নদীতে অন্তত ২৫টি ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত বালু তোলা চলছে। বালুমহালের সীমানা নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড বসানোর কথা থাকলেও ঘটনাস্থলে তা চোখে পড়েনি। 

রাজার বাজার বালুমহালের ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের সম্মতিতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গত দুই মাস ধরে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তারা বলছেন, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু তোলায় নদীর পাড় দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে চলতি বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কিত  আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা। 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বাংলা ১৪৩৩ সনের জন্য প্রায় ২৭ কোটি টাকায় রাজার বাজার বালুমহালের ইজারা পায় রাহী ট্রেডার্স, যা পরিচালনা করছেন সেলিম মিয়া। 

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে অবৈধভাবে বালু তোলা বন্ধ করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৬০টি পরিবারকে যেন রক্ষা করে সরকার।

আইন অনুযায়ী আশ্রয়ণ প্রকল্প, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং আবাসিক এলাকার অন্তত এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বালু তোলা নিষিদ্ধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই আইন অমান্য করে প্রকল্পের পাশেই ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। 

বনগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সরদার আ. জলিল অভিযোগ করে বলেন, ‘শুধু নদী থেকেই নয়, প্রকল্পসংলগ্ন ১৩টি পরিবারের মালিকানাধীন জমিও দখল করে সেখানে বিশাল বালুর ডিপো গড়ে তোলা হয়েছে। একাধিকবার প্রতিবাদ করেও আমরা কোনো প্রতিকার পাইনি।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আশ্রয়ণ প্রকল্পসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাবরু মিয়া, ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মোস্তফা হোসেন মস্তু ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আল আমিনসহ বেশ কয়েকজন বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বাবরু মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। অন্যদিকে আরেক অভিযুক্ত  আওয়ামী লীগ নেতা আল আমিন বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াত নেতা মোস্তফা মস্তু দাবি করেন, ‘সরকার নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই বালু তোলা হচ্ছে। যদি তীরবর্তী বসতবাড়ির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাহলে আমরা ক্ষতিপূরণ দেব।’ 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সহ-সভাপতি তোফাজ্জল সুহেল বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয়, তবে আশ্রয়ণের পরিবারগুলো মাথা গোঁজার ঠাঁই হারাবে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, বালুর বিষয়টি এসিল্যান্ড দেখবেন। সব দায়-দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে। 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আনোয়ার বলেন, শিগগির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল হাসেম বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অনিয়মের প্রমাণ মিললে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেন, ‘কিছুদিন আগে বনগাঁও এলাকা পরিদর্শন করেছি। তখন সব ঠিকটাক ছিল।  যদি আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘেঁষে ইজারাদার বালু তোলেন, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও গান পাউডার উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সকালে টেকনাফ থানার মহেশখালিয়া পাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে একটি সন্দেহভাজন বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ৩ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩৭ রাউন্ড এমটি কার্টিজ (ফাঁকা কার্তুজ) এবং ২৫ গ্রাম গান পাউডার উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধার হওয়া আলামতের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

তিনি আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

টাঙ্গাইলে প্রাইভেট কারের চাপায় প্রাণ গেল নারীর

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলে প্রাইভেট কারের চাপায় প্রাণ গেল নারীর
সংগৃহীত ছবি

টাঙ্গাইলের মধুপুরে সড়ক পারাপার হতে গিয়ে প্রাইভেট কারের চাপায় এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের নেকিবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সকালে নেকিবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন ওই নারী। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান। নিহত নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল আঙুলের ছাপ ও প্রযুক্তির সহায়তায় নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করে।

মধুপুর থানার ওসি এ কে এম ফজলুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।’

সাটুরিয়ায় ঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ

সাটুরিয়া মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
সাটুরিয়ায় ঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ
ছবি: কালের কণ্ঠ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় সুফিয়া বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী ইসমাইল হোসেনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের বেপারীপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসমাইল হোসেন পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। সকালে তিনি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে বাড়ির একটি টিনশেড ঘরে আড়ার সঙ্গে কাপড় পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে সাটুরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের ছেলে ইসরাফিল দাবি করেন, তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে পেটের আলসারে ভুগছিলেন এবং মানসিক সমস্যাও ছিল। এ কারণে তিনি মাঝে মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। তিনি আরো দাবি করেন, এসব বিষয় নিয়ে তাঁর বাবা মাঝে মধ্যে মাকে মারধর করতেন।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামীকে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।