• ই-পেপার

মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করে ইরানের তৃতীয় তেল ট্যাঙ্কার ভেনিজুয়েলায়

বাহামাসে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১০ আরোহীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
বাহামাসে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১০ আরোহীর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

বাহামাসে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১০ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) দেশটির রাজধানী নাসাউয়ের পশ্চিমে অবস্থিত উত্তর অ্যানড্রয়ের জলভাগে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দেশের ৫৩তম স্বাধীনতাবার্ষিকী উদযাপনের মধ্যেই এই বড় বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটল।

বাহামিয়ান বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি বাহামাসে নিবন্ধিত একটি ‘সেসনা ৪০২’ মডেলের ছোট বিমান ছিল। এটি নাসাউয়ের লিন্ডেন পিন্ডলিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সান অ্যানড্রসের উদ্দেশে যাত্রা করার পরপরই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে বাহামাসের প্রধানমন্ত্রী ফিলিপ ব্রেভ ডেভিস জানান, প্রথমে একজনকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ যখন স্বাধীনতাবার্ষিকী উদযাপন করছিল, তখন এটি একটি গভীর শোকের দিনে পরিণত হয়েছে। যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।’

এই মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণে এবং একই দিনে আরেকটি নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে ‘ফ্ল্যামিঙ্গো এয়ার’-এর বিমান পরিচালনা সনদ (লাইসেন্স) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সরকার। দেশটির জ্বালানি, পরিষেবা ও বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের স্বার্থে সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিমান চলাচল মন্ত্রী জোবেথ কোলবি-ডেভিস জানান, শুক্রবার সকালে ফ্ল্যামিঙ্গো এয়ারের আরেকটি বিমানেও বড় ধরনের নিরাপত্তা বিভ্রাট ঘটেছিল। মায়াগুয়ানাগামী ওই বিমানটির পাইলট মাঝ-আকাশে জরুরি সমস্যা টের পেয়ে নাসাউতে ফিরে আসেন। বিমানটি সফলভাবে অবতরণ করার পর যাত্রীরা নিরাপদে নেমে যাওয়ার পরপরই সেটিতে আগুন ধরে যায়। পরপর ঘটে যাওয়া এই দুইটি ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এয়ারলাইনসটির সব ফ্লাইট বন্ধ থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রে ‘এক্সপ্লোসিভ ডায়রিয়া’ পরজীবীর প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত হাজারো মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে ‘এক্সপ্লোসিভ ডায়রিয়া’ পরজীবীর প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত হাজারো মানুষ
সংগৃহীত ছবি

ডায়রিয়া সৃষ্টি করা 'সাইক্লোস্পোরা' নামের একটি অতি ক্ষুদ্র পরজীবীর সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে। ইতোমধ্যে দেশটির অর্ধেকেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে এই সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে হাজারো মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও এখন পর্যন্ত এ রোগে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, তবে অনেক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, ১ মে থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত দেশে সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের ৮৪৩টি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া আরো দেড় হাজারের বেশি সম্ভাব্য সংক্রমণের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। এসব নিশ্চিত করতে এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। নতুন তথ্য আসার সঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি। এখন পর্যন্ত ৩১টি অঙ্গরাজ্যে এই সংক্রমণ পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে মিশিগান অঙ্গরাজ্য। শুক্রবার রাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, মাত্র দুই সপ্তাহে সেখানে এক হাজারের বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। মিশিগানের পর সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ পাওয়া গেছে নিউইয়র্কে। ৮ জুলাই পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৩০০ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ইলিনয়ে ১৪১টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। অন্যদিকে ওহাইওতে ১৭৭ জনের শরীরে এই পরজীবীর সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সিডিসি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই রোগে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে ৮৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। সংস্থাটির ধারণা, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ অনেকেই চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে যান এবং তাদের পরীক্ষা করা হয় না।

সাইক্লোস্পোরিয়াসিস হলো 'সাইক্লোস্পোরা' নামের অতি ক্ষুদ্র একটি পরজীবীর কারণে হওয়া অন্ত্রের সংক্রমণ। এই পরজীবী যুক্ত খাবার বা পানি খেলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। এই রোগের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো বারবার পাতলা পায়খানা হওয়া। অনেক সময় এটি হঠাৎ শুরু হয় এবং তীব্র আকার ধারণ করে। এছাড়া পেটব্যথা, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা ও বমিভাবও দেখা দিতে পারে। তবে কারও কারও শরীরে কোনো লক্ষণও নাও দেখা যেতে পারে। সংক্রমণের পর সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। চিকিৎসা না করলে কয়েক দিন থেকে এক মাসের বেশি সময় পর্যন্ত এই রোগ থাকতে পারে। এমনকি উপসর্গ কমে যাওয়ার পর আবারও ফিরে আসতে পারে। সিডিসি বলছে, সালমোনেলা বা ই. কোলাইয়ের মতো অন্যান্য খাদ্যজনিত রোগের তুলনায় এই সংক্রমণ কম দেখা গেলেও এটি মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জনস হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির চিকিৎসক ক্যাটলিন রিভার্স জানিয়েছেন, এই রোগ একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায় না। দূষিত খাবার বা পানি খাওয়ার মাধ্যমেই কেবল এই সংক্রমণ ঘটে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ হয়েছেন। অসুস্থ হওয়ার আগে তারা বিদেশ ভ্রমণ করেননি। এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট কৃষিপণ্য, উৎপাদক বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে এই সংক্রমণের উৎস হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত খামারে চাষের সময় বা সেচের পানির মাধ্যমে কৃষিপণ্য দূষিত হয়। তাই সংক্রমণের প্রকৃত উৎস খুঁজে বের করা বেশ কঠিন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় আগের কয়েকটি প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে প্যাকেটজাত সালাদ, তাজা ধনেপাতা, তুলসীপাতা, রাস্পবেরি, স্নো পি এবং কাঁচা পেঁয়াজের সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছিল।

সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় মিশিগানের স্বাস্থ্য বিভাগ রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং কাঁচা কৃষিপণ্য প্রস্তুত বা পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সবুজ শাক-সবজি ভালোভাবে ধুয়ে ব্যবহার করতে হবে। সম্ভব হলে শাক ও রাস্পবেরি রান্না করে খেতে হবে। লেটুস ও কাঁচা পেঁয়াজের বাইরের স্তর ফেলে দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) জানিয়েছে, শুধু পানি দিয়ে ফল ও সবজি ধুলে সব সময় পরজীবী দূর নাও হতে পারে। তবুও সিডিসি খাওয়ার আগে সব ধরনের ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া কারও যদি বারবার ডায়রিয়া বা এই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
 

মরে গেলে ইরানে ব্যাপক বোমা হামলার নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
মরে গেলে ইরানে ব্যাপক বোমা হামলার নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার নিজেকে ইরানের হিটলিস্টে এক নাম্বারে আছেন বলে দাবি করছেন। চলতি সপ্তাহেই অন্তত তিনবার ট্রাম্প নিজের মৃত্যু নিয়ে কথা বলেছেন। কখনো মজাও করেছেন। শুক্রবার নিউইয়র্ক পোস্টের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করতে সফল হয়, তবে তিনি দেশটিতে ব্যাপক মাত্রায় ’বোমা’ হামলার নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন।

ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যা করতে পারে, এমন আলোচনা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার নিরাপত্তা নিশ্চিতেও নানা কৌশল নেয়া হচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসন অনেকদিন ধরেই ইরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যা করতে পারে, এমন গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছিল। তবে চলতি সপ্তাহে ইসরায়েল মার্কিন প্রশাসনকে জানায়, ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএন প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ইসরায়েলের সতর্কবার্তাটি একেবারেই নতুন এবং এটি একটি সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইসরায়েলের পাঠানো এ নতুন সতর্কতা সম্পর্কেই শুক্রবার নিউইয়র্ক পোস্টের সাথে কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় ধরে তাদের তালিকায় আছি। আমি নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি যে, যদি কোনো কিছু ঘটে, তবে তাদের ওপর যেন আক্ষরিক অর্থেই এমন মাত্রায় বোমা হামলা চালানো হয়, যা তারা এর আগে কখনো দেখেনি।’

তবে ইসরায়েলের সতর্কতাকে তেমন পাত্তা দেননি ট্রাম্প, ‘না, না। ইসরায়েল নতুন কিছুই পায়নি।’ তিনি বলেন, ’আমি দীর্ঘ সময় ধরে এক নাম্বারে আছি (ইরানের হত্যার তালিকায়) এবং আপনি তো জানেনই, জীবন এমনই।’ তবে এখানেও মজা করতে ছাড়েননি ট্রাম্প। নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিককে তিনি বলেন, ‘আশা করি আপনারা আমাকে মিস করবেন।’

এর আগে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন শেষে আঙ্কারা থেকে ফেরার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ’আমি মরলে আপনারাও মরবেন।’ তিনি সাংবাদিকদের পেশা বদলানোরও পরামর্ম দিয়েছিলেন।

বুধবার ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের এক আয়োজনে বক্তব্য দেওয়ার সময়ও ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তাদের (ইরান) নেতারা চলে গেছে। তারপর তাদের আরেক দল নেতা এসেছে। তারাও চলে গেছে। এখন তাদের আরেক দল নেতা রয়েছে। কে জানে, তাদেরও হয়তো চলে যেতে হতে পারে।’ ট্রাম্প আরো যোগ করেন, ’এবং আপনারা কি জানেন? আমিও চলে যেতে পারি। কারণ আমি তাদের এক নাম্বার লক্ষ্যবস্তু। এটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি আজ সকালে একটি বিষয় দেখেছি যে, আমি তাদের প্রতিটি তালিকায় আছি। আর এখন পর্যন্ত, আমি মনে করি আমি কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম। তবে এটি হয়তো খুব বেশি দিন স্থায়ী নাও হতে পারে।’


ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করা হতে পারে, এমন আলোচনায় তার নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা অবকলম্বন করা হচ্ছে। ন্যাটো সম্মেলন শেষে  ফেরার পথে হুট করেই ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তন করা হয়। এারফোর্স ওয়ানের বহরে যুক্ত হওয়া নতুন রাজকীয় বিমানের পরিবর্তে তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানের পু্রোনো বিমানেই ওয়াশিংটন ফিরেছেন। হোয়াইট হাউস পরবর্তীতে স্বীকার করেছে যে, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে এটি একটি কৌশল ছিল।
মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে, ২০২০ সালে ইরানের সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর থেকেই ট্রাম্প তাদের হিটলিস্টে এক নাম্বারে আছেন। যদিও ইরান কখনোই এমন কোনো দাবি করেনি। তবে গত সপ্তাহে ইরানের প্রয়াত ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর জানাযায় ইরানের ক্ষুব্ধ জনগণ ট্রাম্পের মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দেয়।


 

বিবাদ ভুলে হ্যারির সন্তানদের সঙ্গে দেখা করলেন রাজা চার্লস

অনলাইন ডেস্ক
বিবাদ ভুলে হ্যারির সন্তানদের সঙ্গে দেখা করলেন রাজা চার্লস

দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদ ও দূরত্ব কাটিয়ে অবশেষে ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে দেখা করেছেন ব্রিটেনের রাজা চার্লস। শুক্রবার (১০ জুলাই) পশ্চিম ইংল্যান্ডে রাজার নিজস্ব হাইগ্রোভ এস্টেটে এই ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাজা চার্লস ও রানী ক্যামিলার সাথে প্রিন্স হ্যারি, তার স্ত্রী মেগান মার্কেল এবং তাদের দুই সন্তান উপস্থিত ছিলেন।

রাজপ্রাসাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর এই প্রথম রাজা চার্লস তার নাতি আর্চি (৭) ও নাতনি লিলিবেটের (৫) দেখা পেলেন। মূলত ২০২০ সালে রাজপরিবারের সক্রিয় সদস্যের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে হ্যারি ও মেগান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। এরপর থেকে হ্যারি বছরে মাত্র এক-দুবার ব্রিটেন সফর করলেও সন্তানদের সাথে রাজার দেখা হয়নি বললেই চলে।

প্রাসাদের পক্ষ থেকে এই বৈঠকটিকে একটি ‘ব্যক্তিগত পারিবারিক অনুষ্ঠান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। একই সাথে জানানো হয়েছে, পারিবারিক এই পুনর্মিলনীর কোনো ছবি, ভিডিও বা অতিরিক্ত কোনো তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে না। গত সেপ্টেম্বর মাসের পর বাবা ও ছেলের মধ্যে এটিই প্রথম সামনাসামনি দেখা।

যুক্তরাজ্যে একটি পাঁচ দিনের দাতব্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এবং ব্রিটিশ গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আনা একটি মামলার রায়ের জন্য সম্প্রতি হ্যারি বাকিংহাম প্যালেসে পৌঁছান। তবে এই সফরের আগে ব্রিটেনে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তিনি কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে রাজপরিবারের সঙ্গে তার এক ধরণের বিরোধ চলছিল। হ্যারি এর আগে জানিয়েছিলেন, তিনি আরো আগেই সন্তানদের ব্রিটেনে আনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে সুরক্ষা চুক্তিতে একমত হতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ৪১ বছর বয়সী প্রিন্স হ্যারির জন্য চলতি সপ্তাহটি বেশ কঠিন ছিল। ‘ডেইলি মেইল’ পত্রিকার প্রকাশকের বিরুদ্ধে আনা একটি বড় গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মামলায় এই সপ্তাহেই তিনি আদালতে হেরে গেছেন। এই আইনি লড়াইটিকে তার বাবা রাজা চার্লস আগেই ‘একটি আত্মঘাতী অভিযান’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

বর্তমানে ৭৭ বছর বয়সী রাজা চার্লস ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। হ্যারি গত বছর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তার বাবা আর কতদিন বাঁচবেন তা তিনি জানেন না, তাই তিনি পরিবারের সাথে সম্পর্কটা আবার জোড়া লাগাতে চান। ২০২৩ সালে হ্যারির বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’ প্রকাশের পর রাজপরিবারের সঙ্গে তার দূরত্ব আকাশচুম্বী হলেও, বাবার অসুস্থতার মুখে এই সাক্ষাৎটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজপরিবার বিশেষজ্ঞরা।

মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করে ইরানের তৃতীয় তেল ট্যাঙ্কার ভেনিজুয়েলায় | কালের কণ্ঠ