• ই-পেপার

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে দুই টিনএজারের দাপট!

দাবানলের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু, আর্জেন্টিনা-স্পেনের খেলা কি হবে

ক্রীড়া ডেস্ক
দাবানলের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু, আর্জেন্টিনা-স্পেনের খেলা কি হবে
দাবানলের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু মেটলাইফ স্টেডিয়াম। ছবি: রয়টার্স

মাত্র দুদিন পরেই আর্জেন্টিনা-স্পেন ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল। অথচ এই মহারণের ভেন্যু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম কাছ থেকে দেখেও ঝাপসা মনে হচ্ছে!

কারণ কানাডায় সৃষ্ট দাবানাল এতটাই ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে যে, এর ধোঁয়া প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যেরও ছড়িয়ে পড়েছে। 

নগর কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে পাঠাগার, থানা ও ফায়ার স্টেশনে কেএন৯৫ মাস্ক বিতরণ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের সতর্ক করে বলেছেন, এমন ধোঁয়ার মধ্যে বাতাসের মান খুব খারাপ পর্যায়ে চলে যায়। সেখানে টানা একদিন অবস্থান করা ১০টি সিগারেট ধূমপানের সমান।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে—ছাদহীন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ে কি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে?

তবে আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। তাদের মতে, শিগগিরই নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে বৃষ্টি হবে। ফলে আবহাওয়া শীতল হয়ে ধোঁয়ার ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। বাংলাদেশ সময় রবিবার রাতে ফাইনাল শুরুর আগেই বাতাসের মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে এখন পর্যন্ত ম্যাচ স্থগিত বা ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ফিফা।

৮২ হাজারেরও বেশি দর্শক মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখবেন। এছাড়া নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে বড় পর্দায় খেলা দেখতে আরো প্রায় ৫০ হাজার সমর্থকের জড়ো হওয়ার কথা। তাই বাতাসের মান নিয়ে উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিষয়ক পরিষেবা আকুওয়েদারের প্রধান আবহাওয়াবিদ অ্যালেক্স ডা সিলভা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘রবিবার সকাল নাগাদ ধোঁয়ার বেশিরভাগই সরে যাওয়ার কথা। তখন বায়ুর মান অনেকটাই উন্নত হবে।’

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ধোঁয়া কমলেও তাপমাত্রা ও বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাব খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ফুসফুস বিশেষজ্ঞ ডা. ভিন গুপ্তার ভাষায়, ‘তাপপ্রবাহ ও বায়ুদূষণ একসঙ্গে থাকলে তা খেলোয়াড়দের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে। তাই ম্যাচে আরো বেশি সময় হাইড্রেশন বিরতি দেওয়া উচিত। আর যেসব দর্শক বয়স্ক বা হৃদ্রোগ ও ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের স্টেডিয়ামে না যাওয়াই ভালো।’

এদিকে, নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। 

অন্যদিকে, নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, ‘ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় আজই সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ দিন। বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে থাকলে শুধু হাঁপানি বা হৃদ্রোগীরা নন, সুস্থ মানুষও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাই প্রত্যেক নিউ ইয়র্কবাসীর সতর্ক থাকা উচিত।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিয়মিত সমস্যা হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবানলের তীব্রতা ও ব্যাপ্তি বাড়ায় এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরো ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।

আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফাইনালটি হবে ‘গুরু বনাম শিষ্যে’র এক রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফাইনালটি হবে ‘গুরু বনাম শিষ্যে’র এক রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ
বামে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ও ডানে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।

বিশ্বকাপ ফুটবলের ২৩তম আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরো সেরা দল স্পেন ও কোপা আমেরিকার সেরা দল আর্জেন্টিনা। তবে এসব কিছু ছাপিয়ে আর্জেন্টিনা এবং স্পেনের লড়াইটি হবে মূলত ‘গুরু বনাম শিষ্যে’র এক রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ। যেখানে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ডাগআউটে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছেন।

চলতি বছরের মার্চ মাসে দুই দলের মধ্যকার কাঙ্ক্ষিত 'ফিনালিসসিমা' ম্যাচটি বাতিল হয়ে যাওয়ার পর, বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে শিরোপার লড়াইয়ে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই মহাদেশের দুই চ্যাম্পিয়ন। 

লিওনেল মেসি ক্যারিয়ার শেষটা শিরোপা জয়ে রাঙাতে চাইছেন। সেই সাথে ইতালি ও ব্রাজিলের পর প্রথমবারের মতো টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনার। আর স্পেন ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো শিরোপা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি রেকর্ড সপ্তম ক্লিন শিট রাখার চেষ্টায় থাকবেন। খবর ইয়াহু স্পোর্টস

এই লড়াইয়ে দুই কোচের মধ্যকার সম্পর্কটি কেবল পেশাদার প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়, বরং গভীর বন্ধুত্ব এবং গুরু-শিষ্যের লড়াইয়ে অবর্তীন হবেন।

২০১৭ সালে ফুটবলার হিসেবে অবসর নেন লিওনেল স্কালোনি। তারপর কোচিং লাইসেন্স সম্পন্ন করতে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের লা রোজাস একাডেমিতে ভর্তি হন। তখন লুইস দে লা ফুয়েন্তে ছিলেন তার অন্যতম প্রধান শিক্ষক।

৬৫ বছর বয়সী দে লা ফুয়েন্তের সাথে স্কালোনির সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এমনকি স্কালোনির ব্যক্তিগত জীবনের একটি বড় অংশ স্পেনের সাথে জড়িত—তার স্ত্রী স্প্যানিশ, সন্তানরা সেখানে জন্ম নিয়েছেন । তিনি নিজেও মায়োর্কাতে বসবাস করেন।

সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে হারানোর পর দে লা ফুয়েন্তে নিজেই আশা প্রকাশ করেছিলেন যেন ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হন। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর দে লা ফুয়েন্তেকে নিজের ‘শিক্ষক ও পরম বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন  স্কালোনি।

তবে ফাইনালে খেলার ৯০ মিনিট এক অঘোষিত যুদ্ধে লিপ্ত হবে এই দুই গুরু-শিষ্য। 

তবে আগামী রবিবারের ফাইনালে ডি লা ফুয়েন্তের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক থাকলেও নিজের আনুগত্য নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই জানিয়ে স্কালোনি বলেন,‘সবাই জানে আমি স্পেনে থাকি এবং আমার পরিবার স্প্যানিশ। তারপরও আমি ডি লা ফুয়েন্তেকে হারানোরই চেষ্টা করব। তিনি মাঠে দল পরিচালনার ধরন এবং একজন মানুষ হিসেবে- দুই দিক থেকেই আমার সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন করেছেন।’

সাবেক ছাত্রের স্কালোনির প্রশংসা করে ডি লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘লিওনেলের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে সে সবকিছু জিতেছে। তার অনেক চিন্তাধারার সঙ্গে আমি একমত। পেশাগত ও ব্যক্তিগত- দুই ক্ষেত্রেই আমি তাকে শ্রদ্ধা করি। সে অসাধারণ একজন মানুষ।

স্কালোনি খুবই পরিশ্রমী ছাত্র ছিল। শেখার প্রতি তার দারুণ আগ্রহ এবং ইতিবাচক মনোভাব ছিল। তার মধ্যে সব সময় নিজেকে আরও উন্নত করার তাগিদ দেখেছি। তার শিক্ষক হতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের। তবে সবকিছুর আগে সে আমার বন্ধু। আমাদের মধ্যে এখনো দারুণ সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা পরস্পরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও প্রশংসা পোষণ করি বলে যোগ করেন এই স্প্যানিশ কোচ।

ভক্তদের উদ্দেশে হ্যারি কেইনের আবেগঘন বার্তা

ক্রীড়া ডেস্ক
ভক্তদের উদ্দেশে হ্যারি কেইনের আবেগঘন বার্তা
ছবি : ইএসপিএন এফসি

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। থ্রি-লায়ন্সদের বিদায়ের পর নিজের স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে বিশেষ এক বার্তা দিয়েছে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। আবেগঘন বার্তায় ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে কেইন বলেছেন, এই মুহূর্তের শূন্য অনুভূতি কাটিয়ে ওঠার মতো কোনো শব্দ জানা নেই। আরেকটি ফাইনালের খুব কাছে গিয়েও ছিটকে যাওয়া মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন।

এক্সে দেওয়া বার্তায় সতীর্থদের নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে কেইন বলেন, গত ৭ সপ্তাহ ধরে দলের প্রতিটি খেলোয়াড় ও স্টাফ নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন।
 
 বিগত ৮ বছর ধরে ইংল্যান্ড বড় ট্রফির দরজায় কড়া নাড়লেও শেষ ধাপটি পার হতে পারছে না। তবে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়ার পর আবার উঠে দাঁড়িয়ে লড়াই করা ছাড়া কোনো পথ নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 ইংলিশ অধিনায়ক আরো বলেন, স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে এবং দেশের মাটিতে বসে যারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দলের ওপর বিশ্বাস রেখেছেন। সেই সমস্ত ভক্তদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ।

জয় বা পরাজয় যাই হোক না কেন, এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবারও নতুন করে পথ চলা শুরু করর বলে যোগ করেন এই তারকা স্ট্রাইকার।

জিম্বাবুয়ে সফর

সিরিজে টিকে থাকার ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে রিশাদ

ক্রীড়া ডেস্ক
সিরিজে টিকে থাকার ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে রিশাদ
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টসের মুহূর্ত। ছবি: জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট

বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশ দলকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা।

বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় জানিয়েছেন, তিনি টস জিতলে ব্যাটিংই নিতেন।

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে বুধবার (১৫ জুলাই) জিম্বাবুয়ের কাছে ৩২ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। ফলে আজকের ম্যাচটি হৃদয়-নাহিদদের জন্য সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।

বাংলাদেশের আগের ম্যাচের একাদশ থেকে একটি পরিবর্তন এসেছে। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদের জায়গা নিয়েছেন লেগ স্পিন অলরাউন্ডার রিশাদ হোসেন।

স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে খেলতে নামছে।

এবারের জিম্বাবুয়ে সফরে এখন পর্যন্ত বাজে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের পর ওয়ানডে সিরিজও হেরেছে সফরকারীরা। এখন তারা টি-টোয়েন্টি সিরিজও খোয়ানোর শঙ্কায়।

বাংলাদেশের একাদশ

তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), ইয়াসির আলী রাব্বি, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা। 

জিম্বাবুয়ের একাদশ

ব্রায়ান বেনেট, তাদিওয়ানাশে মারুমানি, ডিওন মায়ার্স, সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), রায়ান বার্ল, মিল্টন সুম্বা, ক্লাইভ মাদান্দে, তাশিঙ্গা মুসেকিওয়া, ব্রাড ইভান্স, ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভা।