• ই-পেপার

মেয়েকে আছড়ে হত্যা, ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ

নারী-শিশু নির্যাতন মামলায় এক মাসে হাইকোর্টের ১০ রায়

বাসস
নারী-শিশু নির্যাতন মামলায় এক মাসে হাইকোর্টের ১০ রায়
সংগৃহীত ছবি

নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে নজির স্থাপন করেছেন হাইকোর্ট। এ মামলায় ডেথরেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির পর গত এক মাসে ১০টি রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

দেশে নারী-শিশু নির্যাতনের কয়েকটি নির্মম ঘটনার প্রেক্ষাপটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধু নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানির জন্য গত ১০ জুন একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। এই বেঞ্চে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বাধীন এই টিমের আইনজীবী সদস্যরা হলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা তাসনিম আখি, মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আশরাফুল আলম, রোহানী সিদ্দীকা ও আল আমীন সিদ্দিকী।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে ২০টি ডেথ রেফারেন্স ও আপিল মামলা শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। গত এক মাসে এই বেঞ্চে শুনানির পর শরীয়তপুরের স্কুলছাত্রী রিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, পিরোজপুরে ঝরনা হত্যা মামলা, স্ত্রী হত্যার কয়েকটি মামলাসহ মোট ১০টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে এই হাইকোর্ট বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক বলেন, ‘গত ১৪ জুন এই বেঞ্চে আমাদের প্রথম কর্মদিবস থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত মোট ১০টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মাত্র এক মাসে এতগুলো ডেথ রেফারেন্স মামলার রায় ঘোষণা অবশ্যই দৃষ্টান্ত। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নির্দেশনা অনুযায়ী এই মামলাগুলোর শুনানিতে আমরা রাষ্ট্র পক্ষ থেকে কোনো সময় আবেদন বা মুলতবি আবেদন করিনি। একই সঙ্গে আদালত এই মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে সচেষ্ট ছিলেন বলেই এত দ্রুত মামলাগুলোর রায় ঘোষণা সম্ভব হয়েছে।’

এদিকে রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স গত ১৬ জুন হাইকোর্টের এই বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় এলে আদালত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার) নিয়োগের নির্দেশ দেন। 

অন্যদিকে, ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলা ও মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি হাইকোর্টের এই বেঞ্চে শুনানির কার্যতালিকায় রয়েছে। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে এই মামলাগুলো শুনানি হতে পারে বলে বাসস’কে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক।

উল্লেখ্য, বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী সে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এই অনুমোদন শুনানির জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। এই ডেথ রেফারেন্সের সঙ্গে দণ্ডিত আসামির আপিল বা জেল থেকে করা আসামির জেলে আপিল শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

 

 

 

জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধান সংস্কারের দাবি জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধান সংস্কারের দাবি জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের
সংগৃহীত ছবি

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং এই আদেশের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের নেতারা।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সংবিধানে সরাসরি গণ-অভ্যুত্থানের কোনো বিধান না থাকলেও ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। যখন নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তনের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, তখন জনগণ গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়। এই গণ-অভ্যুত্থান থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ম্যান্ডেট লাভ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আলোকে সুপ্রিম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার থাকলেও, সরকার বৈধ না অবৈধ, সে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের নেই। জনগণ যখন কোনো সরকার গঠন করে, সেটিই হয় ওই সরকারের বৈধতার মূল ভিত্তি।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের আইনি ভিত্তি নিয়ে শিশির মনির বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশই ছিল সেই নির্বাচনের একমাত্র আইনি ভিত্তি। এই সনদের মাধ্যমেই রাষ্ট্র সংস্কারের একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশই জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায় প্রকাশের একমাত্র আইনগত মাধ্যম। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের আইনি দলিল ও বর্তমানে কার্যকর আইন। এই আইন মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপুসহ প্রমুখ।

আবু সাঈদ হত্যায় খালাস চেয়ে ৪ আসামির আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আবু সাঈদ হত্যায় খালাস চেয়ে ৪ আসামির আপিল
সংগৃহীত ছবি

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি খালাস চেয়ে আপিল করেছেন। তারা হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আরো দুই আসামি। তারা হলেন বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দণ্ডিত এই চার আসামির পক্ষে পৃথক আপিল করা হয় বলে জানিয়েছেন, তাদের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। 

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলার সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেরোবির শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যা করা হয়। আন্দোলন চলার সময় দুই হাত দুই দিকে প্রসারিত করে বুক পেতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান আবু সাঈদ। 

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, সে সময় গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ। সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মূলত আবু সাঈদের মৃত্যুর পরই কোটা সংস্কার আন্দোলন গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়, যা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।   

কী যুক্তিতে আপিল করা হয়েছে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু কালের কণ্ঠকে বলেন, রায়ে বলা হয়েছে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির পক্ষে যুক্তি দিয়েছি, যদি গুলিতেই আবু সাঈদের মৃত্যু হয়, তবে গুলি খাওয়া ব্যক্তি অর্থাৎ আবু সাঈদের পরনে যে গেঞ্জি ছিল, সেই গেঞ্জিতে গুলি লাগার চিহ্ন থাকবে। মানে গুলির এন্ট্রি ও এক্সিটের ছিদ্র থাকবে। কিন্তু আবু সাঈদের যে গেঞ্জিটি এক্সিবিট (প্রদর্শনী) হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে এ রকম কোনো চিহ্ন নাই। এমনকি গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক্সরে বা রেডিওপিক টেস্ট নাই। এর ফলে সন্দেহ থেকে যায় আবু সাঈদের মৃত্যু আদৌ গুলিতে হয়েছে কি না। আর সন্দেহাতীতভাবে হত্যাকাণ্ডটি প্রমাণিত না হলে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায় না। এই যুক্তিসহ আরো কিছু যুক্তিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির পক্ষে আপিল ফাইল করা হয়েছে।

পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি শরীফুল ইসলাম ও রাফিউল হাসান রাসেলের আপিল কী যুক্তি করা হয়েছে, জানতে চাইলে এই আইনজীবী বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো যে, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ক্ষেত্রে এই দুজন পুলিশকে উসকানি দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে যুক্তি হচ্ছে, পুলিশ একটি বিধিবদ্ধ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। পুলিশ আইন অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ করে থাকে। ছাত্রনেতা বা অন্য কারো নির্দেশে এই বাহিনীর সদস্যরা কাজ করেন না। তা ছাড়া এই দুজনের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার কোনো প্রমাণ নাই। যে কারণে লেক অব অ্যাভিডেন্সের (সাক্ষ্য-প্রমাণের ঘাটতি) ভিত্তিতে তারা খালাস পেতে পারেন।

ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের বিরুদ্ধে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় বা রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করবে না বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার মোট আসামি ৩০ জন। গত ৯ এপ্রিল এ মামলার রায় ঘোষণার সময় ২৪ জন আসামিই পলাতক ছিলেন। রায়ে দুই আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

গত ১৬ মে রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে হিসাবে এখন পলাতক আছেন ২৩ আসামি। গত ১৪ জুন ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের তথ্য জানায় চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়।

রিমান্ড শেষে কারাগারে সেই হরিদাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
রিমান্ড শেষে কারাগারে সেই হরিদাস
সংগৃহীত ছবি

অর্থপাচার মামলায় রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিন রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর কে এম রাকিবুল হুদা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিধি মোতাবেক ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তার নিকট থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে তার ব্যাংক হিসাব/এমএফএস হিসাবগুলোতে কারা/কী কারণে অর্থ জমা প্রদান করেছে এবং জমাকৃত অর্থ কার নিকট হস্তান্তর/কোথায় কিভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যগুলো মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত কাজে সহায়ক হবে।

আবেদনে আরো বলা হয়, আসামির দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত। তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটবে।

আসামিপক্ষে শ্যামল কুমার রায় জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ১২ জুলাই ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম। মামলা দায়েরের দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ১৩ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। 

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। অনুসন্ধানের অভিযোগ পর্যালোচনায় জানা যায়, হরিদাস চন্দ্র তরণী একজন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং তিনি ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারসহ হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

তার নামে থাকা ৯ ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য কাগজপত্র বিশ্লেষণে জানা যায়, তার ব্যাংক হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসাবহির্ভভূত নগদ অর্থ জমা হয়েছে। হরিদাস চন্দ্র তরণীসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র হুন্ডি তথা ‘দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার’ করতেন। ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অপরাধলব্ধ অর্থ অর্জনসহ অর্জিত টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা গোপন করেছে।