বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে রোমাঞ্চের সবটুকু রঙ ছড়াল আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচ। প্রথমার্ধেই লিওনেল মেসির জাদুকরী পাস আর ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে লিড নিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা ফেরায় সুইসরা। ম্যাচের শেষ ১৮ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেললেও আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ বুক চিতিয়ে রুখে দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচটি এখন গড়িয়েছে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।
ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা ছন্দে আক্রমণ শানাতে থাকে আর্জেন্টিনা। নবম মিনিটেই কর্নার পায় তারা। কর্নার থেকে একেবারে মাপা শট নেন কাপ্তান লিওনেল মেসি। সুইসদের দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে গোল পেতে হলে অনেকটা লাফাতে হতো ম্যাক অ্যালিস্টারকে। তবে তার সামনে থাকা সুইস ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকানজি লাফিয়েও বলের নাগাল পাননি। সেই সুযোগটাই কাজে লাগান অ্যালিস্টার। দ্বিতীয় বার ঘেঁষে বল যখন জালে জড়ায়, সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের কেবল তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। এই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে সুইজারল্যান্ড। ডান দিক থেকে থ্রু বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ব্রিল এম্বোলো। তিনি বল বাড়িয়ে দেন বাঁ দিকে থাকা এনদোয়ের উদ্দেশ্যে। এনদোয়ে শট নিলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেস দুর্দান্ত এক ব্লকে আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন। অবশ্য গোল হলেও সেটি বৈধ হতো না, কারণ তার আগেই এম্বোলোর অফসাইডের পতাকা তুলেছিলেন লাইন্সম্যান।
কিছুক্ষণ পর আবারও আক্রমণ। বাঁ দিক থেকে ভেসে আসা ক্রস দূরের পোস্টে হেড করেন এনদোয়ে। তবে বাজপাখির মতো ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল আটকে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এরপর বক্সের বাইরে প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে সুইস মিডফিল্ডারের এক জোরালো শট মার্তিনেসের সামনে ড্রপ খেয়ে দিক পাল্টালেও দক্ষতার সঙ্গে তা রুখে দেন এই গোলরক্ষক।
আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ৬৭ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় সুইজারল্যান্ড। বাঁ দিকে রদ্রিগেজের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন এনদোয়ে। কোণাকুনি শটে পরাস্ত করেন মার্তিনেসকে। বল দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ালে উল্লাসে মাতে সুইস শিবির।
গোল করার ঠিক ৫ মিনিট পর বড় ধাক্কা খায় সুইজারল্যান্ড। ফাউলের অভিনয় করার দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস ফরোয়ার্ড এম্বোলোর। এর আগে ৬৯ মিনিটে রেফারি লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখালেও, ভিএআর রিভিউতে দেখা যায় দুজনের মধ্যে কোনো সংস্পর্শই হয়নি। ফলে ফাউলের অভিনয় করায় শাস্তি পান এম্বোলো।
১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ডের ওপর আক্রমণের স্টিমরোলার চালায় আর্জেন্টিনা। ৯০ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের ক্রস থেকে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে বল পেয়ে ডান দিকে কাট ইন করে জোরালো শট নেন মেসি। কিন্তু বলটি বিপজ্জনকভাবে বাঁক খেয়ে পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে মেসির কর্নার থেকে বক্সের ভেতর জটলার সৃষ্টি হলে লিসান্দ্রো মার্তিনেস একটি অ্যাক্রোবেটিক কিক নেন। তবে সুইস কিপার কোবেল সহজেই তা লুফে নিলে সমতাতেই শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা।




