• ই-পেপার

শাপুরের শেষ বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রশিদ-নবিরা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ

এমবাপ্পে ও দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে বিদায় করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

এমবাপ্পে ও দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে বিদায় করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স
ফ্রান্সের দুই গোলদাতা এমবাপ্পে (বাঁয়ে) ও দেম্বেলে। ছবি: ফিফা

ফ্রান্স ২-০ মরক্কো

২-০! ঠিক একই ফল। শুধু ভেন্যু আর বিশ্বকাপের পর্ব আলাদা, এই যা!

২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল ফ্রান্স। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও সেই মরক্কোকে একই ব্যবধানে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল দিদিয়ের দেশমের দল। 

দারুণ ফুটবল উপহার দিয়ে এত দূর আসা মরক্কোর অবশেষে বিদায় ঘণ্টা বেজেই গেল। এর মধ্য দিয়ে টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডেও ছেদ পড়ল তাদের।

Morocco Eliminated
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশা মরোক্কানদের। ছবি: ফিফা

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে আজ ফ্রান্সের হয়ে গোল দুটি করেছেন দলের সবচেয়ে বড় দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে। 

গোলকিপার ইয়াসিন বুনুর বীরত্বে অবশ্য প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে বেশ চাপে রেখেছিল মরক্কো। ফরাসিদের প্রায় সব আক্রমণ বলতে গেলে একাই নস্যাৎ করে দিয়েছেন বুনু। এর মধ্যে এমবাপ্পের পেনাল্টি ঠেকানো একটি।

নুসাইর মাজরাউয়ি নিজেদের বক্সে এমবাপ্পেকে ফেলে দিলে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান আর্জেন্টাইন রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো। 

কিন্তু ২৮ মিনিটে নেওয়া স্পট কিক থেকে ব্যর্থ হয়েছেন এমবাপ্পে। নিজের বাঁ দিকে ঝাপিয়ে পড়ে ফরাসি অধিনায়কের শট রুখে দেন বুনু।

এরপর আরেকটি সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন দেজিরে দুয়ে। এ দফায়ও বাধা হয়ে দাঁড়ান বুনু। 

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লুকাস দিনিয়ের শট বারে লেগে ফিরলে হতাশা নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় ফরাসিদের।

দ্বিতীয়ার্ধেও বল দখলে আধিপত্য ধরে রেখে খেলতে থাকে ফ্রান্স। শুধু গোলটাই আসছিল না। 

অবশেষে ‘ডেডলক’ ভাঙেন এমবাপ্পে। ৬০ মিনিটে তার শটে বল হাওয়ায় একটু বাঁক নিয়ে পোস্ট ঘেঁষে মরক্কোর জাল খুঁজে নেয়। দলকে এগিয়ে দিয়ে যেন পেনাল্টি মিসের প্রায়শ্চিত্ত করেন এমবাপ্পে। 

বিশ্বকাপে এটি তার ২০তম গোল; এবারের আসরে ৮ম। লিওনেল মেসির গোলও ৮টি। তবে এমবাপ্পে বেশি অ্যাসিস্ট করায় আপাতত গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে তিনিই এগিয়ে। 

এমবাপ্পের সেই গোলের পর ফ্রান্সকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ৬৬ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেম্বেলে। 

দেম্বেলেকে বল বাড়িয়ে ডান পাশ দিয়ে ক্ষিপ্রতায় ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপ্পে। দুই ডিফেন্ডারও সেদিকে মনোযোগ দেন। আর সেই মুহূর্তে খানিকটা ডান পাশে সরে জোরালো শটে বুনুকে পরাস্ত করেন বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী দেম্বেলে। 

আগামী ১৪ জুলাই ডালাসে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে স্পেন অথবা বেলজিয়াম। 

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ

এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস, গোলশূন্য সমতায় শেষ প্রথমার্ধ

ক্রীড়া ডেস্ক
এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস, গোলশূন্য সমতায় শেষ প্রথমার্ধ

ফ্রান্স ০-০ মরক্কো

মরক্কো এখন আর শুধু আফ্রিকার নয়; বিশ্ব ফুটবলেরই যে পরাশক্তি হয়ে উঠেছে, সেটাই যেন প্রমাণ করতে খেলতে নেমেছে।

যে ফ্রান্স গোল করাকে মুড়ি-মুড়কির মতো ব্যাপার বানিয়ে ফেলেছে, যে ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোল (১৪টি) করেছে, সেই তাদেরই মরক্কোর বিপক্ষে একটা গোল পেতেই ঘাম ছুটে যাচ্ছে!

বোস্টনে বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম সুবর্ণ সুযোগ ফ্রান্সই পেয়েছিল। নুসাইর মাজরাউয়ি নিজেদের বক্সে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ফেলে দিলে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান আর্জেন্টাইন রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো। 

কিন্তু ২৮ মিনিটে নেওয়া স্পট কিক থেকে ব্যর্থ হয়েছেন এমবাপ্পে। নিজের বাঁ দিকে ঝাপিয়ে পড়ে ফরাসি অধিনায়কের শট রুখে দেন মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনু।

এরপর আরেকটি সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন দেজিরে দুয়ে। এ দফায়ও বাধা হয়ে দাঁড়ান বুনু।প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লুকাস দিনিয়ের শট বারে লেগে ফিরলে হতাশা নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় ফরাসিদের।

জন্মভূমি ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলতে নামলেন মরক্কোর ৬ ফুটবলার

ক্রীড়া ডেস্ক
জন্মভূমি ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলতে নামলেন মরক্কোর ৬ ফুটবলার
মরক্কো দলের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে নেমেছে ফ্রান্স ও মরক্কো। তবে এই ম্যাচে এমন ৬ জন আছেন, যারা নিজেদের জন্মভূমির বিপক্ষে খেলছেন!

মরক্কোর ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আছেন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ছয় ফুটবলার। তারা হলেন রেদুয়ান হালহাল, গেসিম ইয়াসিন, সামির এল মুরাবেত, আইয়ুব বুয়াদ্দি, নিল এল আয়নাউয়ি ও ইসা দিওপ। তাদের সবার পারিবারিক শিকড় মরক্কোতে। 

আইয়ুব বুয়াদ্দি তো তিন মাস আগেও ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-২১ দলের অধিনায়ক ছিলেন। এবারের বিশ্বকাপ শেষে এই তরুণ মিডফিল্ডার হয়তো ফ্রান্স জাতীয় দলের পরিকল্পনাতেও চলে আসতেন। ২০৩০ বিশ্বকাপে এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের পাশে খেলার সুযোগও হয়তো মিলতো। 

কিন্তু আইয়ুব বুয়াদ্দি বিশ্বকাপে খেলার জন্য আরো ৪ বছর অপেক্ষা করতে চাননি। তাই বাবা ও মায়ের দেশ মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন থেকে ডাক পড়তেই ‘হ্যাঁ’ বলে দিয়েছেন।

তবে আগের প্রজন্মের অভিবাসী পরিবারের সন্তান হওয়ায় জন্মসূত্রে ফ্রান্স এবং বংশসূত্রে মরক্কো—দুই দেশের হয়েই খেলার সুযোগ ছিল তাদের।

যে দেশের বিপক্ষে খেলা, সেই দেশে জন্ম নেওয়া ফুটবলারদের নিয়ে মরক্কোর এটি প্রথম ম্যাচ নয়। এর আগে তারা রাউন্ড অব ৩২ পর্বে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয় দেশটিতে জন্ম নেওয়া ৩ খেলোয়াড় নিয়ে। এবার ফ্রান্সের ক্ষেত্রে এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যা দ্বিগুণ।

দ্বৈত নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকা প্রতিভাবান ফুটবলারদের জাতীয় দলে টানার কাজটি কয়েক বছর ধরেই করছে মরক্কো। 

এবারের আগেও ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া বা বেড়ে ওঠা ফুটবলারদের মধ্যে সোফিয়ান বৌফাল, রোমাঁ সাইস, মারুয়ান শামাখ, মেহদী বেনাতিয়া ও মুস্তাফা হাদজি মরক্কোর জার্সিতে খেলেছেন।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালের ৪০ মিনিট চলছিল। গোল করতে পারেনি কোনো দলই।

Penalty
এমবাপ্পের পেনাল্টি রুখে দিয়েছেন বুনু। ছবি: ফিফা

সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার নেওয়া পেনাল্টি কিক রুখে দিয়েছেন মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনু।

ব্রাজিল বা জার্মানিকে ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনাল বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিল বা জার্মানিকে ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনাল বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম
ব্রাজিল ও জার্মানির হতাশ নারী সমর্থক। ছবি: সংগৃহীত

আর কয়েক মিনিট পরেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব শুরু হতে চলেছে। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের বড় একটি অংশের মনে ভর করতে পারে শূন্যতা ও হাহাকার।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবারই প্রথম যে কোয়ার্টার ফাইনালে নেই সফলতম দুই দল ব্রাজিল ও জার্মানি! রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবার শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়েছে। জার্মানি ছিটকে গেছে রাউন্ড অব ৩২ থেকে।

এটি বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। এর মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল বা হতে চলেছে ১৮টি আসরে। এর ১০টিতেই ব্রাজিল-জার্মানি দুই দলই খেলেছে।

শুধু ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে ১৪টি আসরে। এবারের আগে সেলেসাওরা ১৯৩৪, ১৯৬৬ ও ১৯৯০ আসরে কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বাদ পড়েছে।

শুধু জার্মানি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ১৭ বার। এবারের আগে ডি মানশাফটরা এই পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে ১৯৩৮, ১৯৫০, ২০১৮ ও ২০২২ আসরে।  

১৯৩০, ১৯৫০, ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব ছিল না।

এবারের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, স্পেন, মরক্কো, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ে। এই আট দলের মধ্যে প্রথম চারটি দল অতীতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শেষের চারটি দল এখনো প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষায়।

বেলজিয়াম ও মরক্কো কখনো সেমিফাইনালের বেশি এগোতে পারেনি। সুইজারল্যান্ড সর্বশেষ ১৯৫৪ সালে নিজেদের মাটিতে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল। আর নরওয়ে এর আগে কখনও শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে পারেনি।

এবারের আট দলের মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে সবচেয়ে হতাশাজনক রেকর্ড ইংল্যান্ডের। তারা ১০ বার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে; কিন্তু জিতেছে মাত্র ৩ বার।

ফ্রান্স ৯ বার, আর্জেন্টিনা ৮ বার, স্পেন ৫ বার, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ড ৩ বার করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। মরক্কোর জন্য এমন অভিজ্ঞতা হতে চলেছে দ্বিতীয়বার আর নরওয়ের প্রথমবার।

এবারের কোয়ার্টার ফাইনালে একটি আফ্রিকান ও একটি দক্ষিণ আমেরিকান দল। বাকি ছয়টি ইউরোপীয় দল।

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপেও একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। আর সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার ইউরোপের একটি দল বেশি রয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে।

গ্রুপ পর্বের শীর্ষে থেকে নকআউট পর্বে ওঠা দলগুলোর মধ্যে এখনো ছয়টি টিকে আছে। দলগুলো হলো আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। মরক্কো ও নরওয়ে নিজেদের গ্রুপে রানার্স আপ হয়েছিল।

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ১৪টি করে গোল করেছে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা। তাদের ঠিক পেছনেই আছে বেলজিয়াম (১৩ গোল)।