বিশ্বকাপ নিয়ে ইরানি-আমেরিকান ফুটবল সমর্থকেরা গভীর দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং উৎকণ্ঠার মুখোমুখি হয়েছেন। একদিকে মাঠে খেলা দেখার উত্তেজনা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে উভয় দেশের সমর্থকরা মানসিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামবে ইরান। তখন গ্যালারিতে বসে নিজের দেশকে সমর্থন জানাবেন ইরানি-আমেরিকান ব্যবসায়ী এহসান শাফি। প্রবাসী হয়ে নিজ দেশকে সমর্থনের এই সুযোগ বিরল হিসেবে দেখছেন তিনি।
তবে শাফির মত ভক্তরা দ্বিধাবিভক্ত খেলবে কি না। কারণ একদিকে ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে তেহরানে ওয়াশিংটনের হামলা, অন্যদিকে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করা ইরানিদের কঠোরভাবে দমন করেছে তেহরান। তাই নিছক ক্রীড়া উদযাপনের মুহূর্তটিও হয়ে দাড়িয়ছে তাদের জন্য আতঙ্কের।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইরানি-আমেরিকান ফুটবল ভক্তদের সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট পর্যালোচনা থেকে দেখা যায়, তারা ইরানি পরিচয়ে গর্বিত এবং দেশটির বর্তমান শাসকদের প্রত্যাখ্যানের মধ্যে বিভক্ত। এই পরিস্থিতি বিশ্বকাপ খেলা দেখা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব।
লস অ্যাঞ্জেলেসে বৃহৎ একটি অংশ জুড়ে ইরানি প্রবাসীরা বসবাস করে। এতে জায়গাটি ‘তেহরানজেলেস’ নামেও পরিচিত। সেখানে নিজেদের প্রিয় দল 'টিম মেল্লি' ভালোবাসেন তারা। তবে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে দলের প্রতি সমর্থন জানানোকে অনেকে তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে বৈধতা দেওয়ার সমান মনে করছেন।
ইরান ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে এবং এরপর ২৬ জুন মিশরের বিপক্ষে খেলতে সিয়াটলে যাবে। শাফিও টিকিট জোগাড় করেছেন । একজন ভক্তের মতোই আশাবাদী, স্টেডিয়ামে বসে ম্যাচগুলো উপভোগের বিরল সুযোগ হাত ছাড়া করবেন না।
তবে অনেক কট্টর ইরানি ফুটবল ভক্ত এবার খেলা দেখা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার বা বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দল দেশের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে না।
স্টেডিয়ামগুলোতে সরকারবিরোধী বা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভের আশঙ্কায় এবং মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির ভয়ে অনেক সমর্থক মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে দ্বিধাবোধ করছেন বলে জানা গেছে।




