• ই-পেপার

৬০ বছরের শিরোপা খরা ঘোচানোর মিশনে থ্রি লায়ন্সরা

বিশ্বকাপ নিয়ে অস্বস্তিকর অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানি সমর্থকরা

বিশ্বকাপ নিয়ে অস্বস্তিকর অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানি সমর্থকরা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ নিয়ে ইরানি-আমেরিকান ফুটবল সমর্থকেরা গভীর দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং উৎকণ্ঠার মুখোমুখি হয়েছেন। একদিকে মাঠে খেলা দেখার উত্তেজনা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে উভয় দেশের সমর্থকরা মানসিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামবে ইরান। তখন গ্যালারিতে বসে নিজের দেশকে সমর্থন জানাবেন ইরানি-আমেরিকান ব্যবসায়ী এহসান শাফি। প্রবাসী হয়ে নিজ দেশকে সমর্থনের এই সুযোগ বিরল হিসেবে দেখছেন তিনি। 

তবে শাফির মত ভক্তরা দ্বিধাবিভক্ত খেলবে কি না। কারণ একদিকে  ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে তেহরানে ওয়াশিংটনের হামলা, অন্যদিকে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করা ইরানিদের কঠোরভাবে দমন করেছে তেহরান। তাই নিছক ক্রীড়া উদযাপনের মুহূর্তটিও হয়ে দাড়িয়ছে তাদের জন্য আতঙ্কের। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইরানি-আমেরিকান ফুটবল ভক্তদের সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট পর্যালোচনা থেকে দেখা যায়, তারা ইরানি পরিচয়ে গর্বিত এবং দেশটির বর্তমান শাসকদের প্রত্যাখ্যানের মধ্যে বিভক্ত। এই পরিস্থিতি বিশ্বকাপ খেলা দেখা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব।

লস অ্যাঞ্জেলেসে বৃহৎ একটি অংশ জুড়ে ইরানি প্রবাসীরা বসবাস করে। এতে জায়গাটি ‘তেহরানজেলেস’ নামেও পরিচিত। সেখানে নিজেদের প্রিয় দল 'টিম মেল্লি' ভালোবাসেন তারা। তবে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে দলের প্রতি সমর্থন জানানোকে অনেকে তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে বৈধতা দেওয়ার সমান মনে করছেন।

ইরান ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে এবং এরপর ২৬ জুন মিশরের বিপক্ষে খেলতে সিয়াটলে যাবে। শাফিও টিকিট জোগাড় করেছেন । একজন ভক্তের মতোই আশাবাদী, স্টেডিয়ামে বসে ম্যাচগুলো উপভোগের বিরল সুযোগ হাত ছাড়া করবেন না।

তবে অনেক কট্টর ইরানি ফুটবল ভক্ত এবার খেলা দেখা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার বা বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দল দেশের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে না।

স্টেডিয়ামগুলোতে সরকারবিরোধী বা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভের আশঙ্কায় এবং মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির ভয়ে অনেক সমর্থক মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে দ্বিধাবোধ করছেন বলে জানা গেছে। 

বিশ্বকাপের পর অবসরের ইঙ্গিত দিলেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের পর অবসরের ইঙ্গিত দিলেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার কথা ভাবছেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে বেলজিয়ামের গ্রুপ পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

২০১১ সালে অভিষেক হওয়া ৩৪ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে ১০৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পরে গ্লাভস জোড়া তুলে রাখারই ইঙ্গিত দিলেন।

অনুশীলন ক্যাম্পে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‌এই মুহূর্তে আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা উচিত কি না, তা আমি জানি না, তবে এই টুর্নামেন্টের পর আমি খেলা চালিয়ে যাব কি না, তা বলার সময় আছে হয়তো কিছুটা।’

তবে আরো কয়েক বছর ক্লাব ফুটবল খেলে যেতে চান। তাই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের জন্য শরীরকে অতিরিক্ত চাপ থেকে মুক্ত রাখা জরুরি বলে যোগ করেন তিনি।

গত দেড় বছরে একের পর এক ছোট-বড় শারীরিক সমস্যা ও ইনজুরি ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন বলেও জানান তিনি। 

বেলজিয়াম দলে সেনে ল্যামেন্স এবং মাইক পেন্ডারসের মতো অনেক প্রতিভাবান তরুণ গোলরক্ষক উঠে আসছেন, যাদের হাতে তিনি দলের দায়িত্ব বা ‘মশাল’ তুলে দিতে চান। 

তবে তিনি পুরোপুরি দরজা বন্ধ করে দেননি। টুর্নামেন্টে বেলজিয়াম যদি অসাধারণ পারফর্ম করে এবং দলের ভেতরের পরিবেশ চমৎকার থাকে, তবে বিশ্বকাপের পর কোচ, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

ব্রাজিলের জার্সি গায়ে দানবাক্স চুরির চেষ্টা, মুচলেকায় মুক্তি তরুণের

অনলাইন ডেস্ক
ব্রাজিলের জার্সি গায়ে দানবাক্স চুরির চেষ্টা, মুচলেকায় মুক্তি তরুণের
সংগৃহীত ছবি

উজ্জ্বল হলুদ আর সবুজ রঙের ব্রাজিলের জার্সি গায়ে রাঙামাটির রাজবন বিহারের মূল মন্দিরের দানবাক্স নিয়ে পালানোর সময় এক তরুণকে হাতেনাতে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। পরে লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে রাঙামাটির রাজবন বিহারে এ ঘটনা ঘটে। 

অভিযুক্ত তরুণ খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার বাসিন্দা। আটকের সময় তাঁর পরনে ছিল ব্রাজিল ফুটবল দলের জার্সি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঐতিহ্যবাহী রাজবন বিহারের ভিক্ষু সংঘ যখন পিণ্ড বা খাবার খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তখন ওই তরুণ মূল মন্দিরে ঢুকে দানবাক্স নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বিহারে উপস্থিত উপাসক-উপাসিকাদের নজর এড়াতে পারেনি। তারা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদের সদস্য স্নেহাশিস চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক হওয়ার পর ওই তরুণ নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তাঁর কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

রাঙামাটির অন্যতম ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রাজবন বিহারে প্রতিদিন শত শত ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন। এখানে থাকা দানবাক্সের অর্থ বিহারের রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় করা হয়।

এ ঘটনার পর বিহারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিহার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা আরো জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন কেইন উইলিয়ামসন

ক্রীড়া ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন কেইন উইলিয়ামসন
ছবি : বয়টার্স

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান কেইন উইলিয়ামসন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশটির ইতিহাসে সব ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক আচমকা ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন। ৩৫ বছর বয়সী এই তারকা ব্যাটার ১৬ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৩৭৮টি ম্যাচ খেলেছেন এই কিইউ তারকা। নিউজিল্যান্ডের হয়ে সব ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৯হাজার৩শ৪৯ রানের রেকর্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে বিদায় নিচ্ছেন। যার মধ্যে আছে ৪৮টি শতক ও ছয়টি ডাবল শতক রয়েছে।

২০১০ সালে ব্লাকক্যাপসের হয়ে অভিষেক হয় উইলিয়ামসনের। গেল বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক  টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের পর পুরোপুরি  আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সরে দাড়ানোর ঘোষনায় বর্ণাঢ্য এক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটল। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উইলিয়ামসন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ানোর সময় এসে গেছে।

অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ভাবছিলাম, কিন্তু গত কয়েকদিনে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে এখনই সঠিক সময়। অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ভাবছিলাম, কিন্তু গত কয়েকদিনে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে এখনই সঠিক সময়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতি আমার সবসময় তীব্র ক্ষুধা ও একাগ্রতা ছিল। নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলা প্রতিটি ম্যাচে আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি বলে যোগ করে তিনি।

এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান তিন ফরম্যাটেই নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে অত্যন্ত সফল সময় কাটিয়েছেন।

তিনি ব্ল্যাকক্যাপসকে ৪০টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেখানে তিনি ২২টি জয়, ১০টি পরাজয় এবং আটটি ড্র অর্জন করেন। এর ফলে তিনি স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের ২৮টি জয়ের পর দেশের দ্বিতীয় সফলতম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে স্থান করে নেন। ওয়ানডেতে, উইলিয়ামসন নিউজিল্যান্ডকে ৯১টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৪৬টিতে জয়লাভ করেন। অন্যদিকে ৭৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার ৩৯টি জয় যেকোনো নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের মধ্যে সর্বোচ্চ।

উইলিয়ামসনের নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ড ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করে। তার নেতৃত্বেই ব্ল্যাকক্যাপসরা ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এবং ২০১৬ ও ২০২২ আসরের সেমিফাইনালে খেলেছিল।

২০১৯ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা জেতাতে না পারলেও টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় হন তিনি। একই বছর আইসিসি বর্ষসেরা টেস্ট খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ।

সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ২০১৬ গড়েন এক অনন্য রেকর্ড। দ্রুততম সময়ে সব টেস্টে খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে শতক হাঁকান।