পাবনার সাঁথিয়ায় সাপে কাটা এক রোগীকে ‘ইয়াবা সেবনকারী’ আখ্যা দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। পরে তাঁকে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হলে পথেই মারা যান ওই যুবক। এ ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলে তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে পরিবার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠে।
নিহত রুহান মোল্লা (২৬) উপজেলার কাশিনাথপুর ইউনিয়নের চরকাবারি কোলা গ্রামের হেলাল মোল্লার ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রুহান টেঁটা নিয়ে বাড়ির পাশের একটি মাঠে মাছ শিকারে যান। এ সময় পটলক্ষেতে একটি বিষধর সাপ তাঁকে কামড় দেয়। রুহান বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানালে স্বজনেরা প্রথমে তাঁকে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে কবিরাজি ঝাড়ফুঁকে অবস্থার আরও অবনতি হলে রাত তিনটার দিকে তাঁকে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
স্বজনদের দাবি, কোনো রকম জরুরি চিকিৎসা বা প্রতিষেধক না দিয়েই চিকিৎসক কেবল রক্তচাপ মেপে রোগীকে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেন। পাবনা যাওয়ার পথে মাধপুর নামক স্থানে বিষের যন্ত্রণায় কাতর হয়ে রুহানের মৃত্যু হয়। সাঁথিয়া হাসপাতালে সাপের কামড়ের পর্যাপ্ত প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম মজুত থাকার পরও কেন রোগীকে তা দেওয়া হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন স্বজনদের।
নিহতের বাবা হেলাল মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ‘হাসপাতালে সাপের কামড়ের কথা পরিষ্কারভাবে জানানোর পরও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাওসার আমার ছেলেকে বাঁচাতে কোনো অ্যান্টিভেনম (প্রতিষেধক) প্রয়োগ করেননি। চিকিৎসা না দিয়ে অবহেলা করে আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে, আমি ওই ডাক্তারের বিচার চাই।’
ওই সময়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাওসারের বলেন, ‘রোগীকে আনার পর তার সাথে আসা বন্ধুরা আমাদের জানান রোগী ইয়াবা সেবন করেছে এবং এ বিষয়টি যেনো আমরা তার পরিবারের কাছে না জানাই। এগুলো হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড রয়েছে। ফলে আমরা রোগীর পরিবারকে বিষয়টি সরাসরি জানাইনি।’
তিনি বলেন, ‘সাপে কামড়ের কথা বলায় আমরা সম্ভাব্য সকল যাচাই-বাছাই করেছি। কিন্তু সাপে কামড়ের কোনো চিহ্ন বা নমুনা আমরা পাইনি। এদিকে রোগীর এগ্রেসিভ আচরণ ও বমি বমি ভাব আরো বেড়ে যাচ্ছিলো। ফলে আমার মনে হয়েছে, রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে। এজন্য তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। আমাদের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় কোনো অবহেলা করা হয়নি। চিকিৎসা পদ্ধতিতেও ত্রুটি ছিলো না।’
সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল বাতেন জানান, ‘আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত এন্টিভেনম রয়েছে। কিন্তু রাতে রোগীর শরীরে সাপের কামড়ের কোনো চিহ্ন বা নমুনা দায়িত্বরত চিকিৎসক না পাওয়ায় এ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা দেয়া হয়নি। তবুও অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’
সাঁথিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




