চাল থেকে শর্করার পাশাপাশি পাওয়া যাবে প্রোটিনও। কলা ও ধানের সংমিশ্রণে চাল থেকে প্রোটিন পাওয়া সম্ভব। এমন উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার একটি স্কুল, যেটা উদ্ভাবনী প্রকল্প হিসেবে প্রথম স্থান অধিকার করে।
আজ শুক্রবার আখাউড়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঘোলখার রাণীখার উচ্চ বিদ্যালয় প্রকল্পটি উপস্থাপন করে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় ক্যাটাগরিতে এটি প্রথম স্থান অর্জন করে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) আওতাধীন ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস)’ এর উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার ১০টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় ঘোলখার রাণীখার উচ্চ বিদ্যালয়ের উপস্থাপিত ‘রিকম্বিনেট ডিএনএ মডেল প্রোটিন এনরিচড উইথ রাইস’ শীর্ষক প্রকল্পটি বিচারকদের কাছে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন পায়। এ সময় জানানো হয়, কলার প্রোটিনের ডিএনএ নিয়ে ধান বীজে প্রতিস্থাপন করে কলার প্রোটিন চালেও পাওয়া সম্ভব। তার মানে চালের শর্করা ও কলার প্রোটিন চাল থেকেই পাওয়া যাবে।
এ প্রকল্পে সহযোগিতায় থাকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আশিকুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘একই প্রকল্প নিয়ে শিক্ষার্থী ক্যাটাগরিতেও প্রথম স্থান অর্জন করে বিদ্যালয়টির দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের তিন শিক্ষার্থী সাইমা আক্তার, আয়েশা আক্তার ও জান্নাত আক্তার। এছাড়া তিনি ও শিক্ষল দেলোয়ার হোসপন শিক্ষক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন।’
আশিকুজ্জামান জানান, আমাদের এ প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে একসঙ্গে প্রোটিন ও শর্করা পাওয়া। আয়োজন চলাকালে বিষয়টি বিশদভাবে ব্যাখা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তৌহিদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ঘোলখার রাণীখার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ ভূঁইয়া।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা এবং বাস্তব জীবনের সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করার দক্ষতা বিকাশে উৎসাহিত করা হবে।




