• ই-পেপার

ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ, ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার সিলগালা

পিরোজপুরে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণিল শোভাযাত্রা

পিরোজপুর প্রনিতিধি
পিরোজপুরে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণিল শোভাযাত্রা
ছবি: কালের কণ্ঠ

পিরোজপুরে ফুটবলপ্রেমীদের অংশগ্রহণে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলের সমর্থকদের পৃথক আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে দুই দলের সমর্থকেরা নিজ নিজ ব্যানার, পতাকা ও জার্সি নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে র‌্যালিতে অংশ নেন।

প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত ফুটবলপ্রেমী শহরে জড়ো হন। কেউ পায়ে হেঁটে, আবার কেউ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। রঙিন পতাকা, ফেস্টুন ও খেলোয়াড়দের জার্সিতে সজ্জিত সমর্থকদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা বিশাল আকৃতির জাতীয় পতাকা বহন করে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন। শোভাযাত্রাজুড়ে স্লোগান, গান এবং প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার নানা প্রকাশ দেখা যায়। শহরের বিভিন্ন মোড় ও সড়কে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষও এ আয়োজন উপভোগ করেন।

00

অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকেরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করেন। সাউন্ড সিস্টেমে বাজতে থাকা সংগীতের তালে তালে নাচ-গান এবং উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। সবুজ-হলুদ পতাকা ও জার্সিতে সজ্জিত সমর্থকদের উপস্থিতি শোভাযাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মতে, বিশ্ব ফুটবলকে ঘিরে পিরোজপুরে প্রতি আসরেই এমন উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। খেলাকে কেন্দ্র করে ভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও আনন্দ ভাগাভাগির এই সংস্কৃতি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রিয় দলের সাফল্যের প্রত্যাশায় দিনভর চলা এই আয়োজন পিরোজপুরের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে সতর্ক বিজিবির ৩ ব্যাটালিয়ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে সতর্ক বিজিবির ৩ ব্যাটালিয়ন
ছবি: কালের কণ্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪টি উপজেলার স্থল ও নদী এবং কাঁটাতারের বেড়া ও বেড়াবিহীন সীমান্তে বিএসএফ কর্তক পুশইন ঠেকাতে কাজ করে যাচ্ছে বিজিবি। সীমান্তে মোতায়েন বিজিবির ৩টি পৃথক ব্যাটালিয়ন রাতদিন এ ব্যাপারে নজরদারি অব্যহত রেখেছে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং স্থানীয়  সীমান্তেবাসী জনগনও এ ব্যাপারে বিজিবিকে সহযোগিতা অব্যহত  রেখেছেন। বাড়ানো হয়েছে টহল, গোয়েন্দা নজরদোরি ও বিজিবির জনবল।

বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে পুশইনের ব্যাপারে কোন ঢিলেমি করা হবে না। সীমান্তে পেরিয়ে কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৫৩ বিজিবি) লে. কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আওতাধীন প্রায় ৫৫ কিলোমিটার সীমান্তে বিজিবি সতর্ক নজর রাখছে। পুশইনের ব্যাপারে শৈথিল্যর সামাণ্য কোন সূযোগ নেই। বিএসএফ পুশইনের কোন চেষ্টা করলেই কঠোরভাবে তা মোকাবেলা করা হবে। জেলার সদর, শিবগঞ্জ উপজেলার একাংশ এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার একাংশ নিয়ে পাহারা দিচ্ছে ৫৩ বিজিবি। কাজ করছে ১৭টি বিওপি ও ২টি চেক পয়েন্টে। সীমান্তে কখনও কোন পয়েন্ট দিয়ে গোপনে পুশইন করানোর কোন সূযোগ রাখছে না বিজিবি। গত প্রায় ২ বছরে এই সীমান্তে একবার পুশইনের ঘটনা ঘটেছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়নের(৫৯) অধিনায়ক লে.কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সম্প্রতি এই সীমান্তে পুশইনের কোন ঘটনা ঘটেনি। জেলার ভোলাহাট ও শিবগঞ্জের একাংশ সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে এই বিজিবি। ১৭টি বিওপি ও ২টি চেকপোষ্ট  থেকে নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য গত ২ বছরে  ৫৯ বিজিবির আওতাধীণ ভোলাহাট সীমান্তে দিয়ে পুশইনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা সীমান্ত পাহারা দেয়া নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬বিজিবি) অধিনায়ক লে.কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘এখন এই ব্যাটালিয়নের আওতাধীণ নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশইনের জন্য কারও অবস্থান বা সমাবেশ দেখা যাচ্ছে না। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন  গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ ২৮ জনেক পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির কঠোর প্রতিরোধে ২দিন সীমান্তে অবস্থানের পর তাঁদের সরিয়ে নেয় বিএসএফ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনিয়ে সীমান্তে টানা ৩দিন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গোমস্তাপুর সীমান্তে ৬টি বিওপি কাজ করছে। এই সীমান্তে থেকে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ নিকটে হওয়ায়  বারবার এ সীমান্ত দিয়ে পুশইন করে বিএসএফ।

বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মারা গেছেন

অনলাইন ডেস্ক
বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মারা গেছেন

একাত্তরে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের মুজিব বাহিনীর প্রধান ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন (মনি) মারা গেছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর উপ-প্রধান মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম বলেন, আলী হোসেন শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের একজন সাক্ষী ছিলেন। তার মৃত্যুতে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সকালে মৃত্যুর পর আলী হোসেনের মরদেহ নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজার পর সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, আলী হোসেন ষাটের দশকে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। ছয় দফা আন্দোলন ও ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকেই ভারতে গিয়ে দেরাদুনে প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

স্বাধীনতার পর আলী হোসেন জাসদ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন এবং জেলা জাসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে দলীয় বিভক্তির পর জাসদের (ইনু) জেলা সভাপতি হন। ১৯৯৭ সালে জাসদ পুনরায় একীভূত হলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন।

সাপে কাটা রোগীকে ‘ইয়াবা সেবনকারী’ আখ্যা দিয়ে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পাবনা
সাপে কাটা রোগীকে ‘ইয়াবা সেবনকারী’ আখ্যা দিয়ে চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

পাবনার সাঁথিয়ায় সাপে কাটা এক রোগীকে ‘ইয়াবা সেবনকারী’ আখ্যা দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। পরে তাঁকে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হলে পথেই মারা যান ওই যুবক। এ ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলে তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে পরিবার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠে।

নিহত রুহান মোল্লা (২৬) উপজেলার কাশিনাথপুর ইউনিয়নের চরকাবারি কোলা গ্রামের হেলাল মোল্লার ছেলে। 

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রুহান টেঁটা নিয়ে বাড়ির পাশের একটি মাঠে মাছ শিকারে যান। এ সময় পটলক্ষেতে একটি বিষধর সাপ তাঁকে কামড় দেয়। রুহান বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানালে স্বজনেরা প্রথমে তাঁকে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে কবিরাজি ঝাড়ফুঁকে অবস্থার আরো অবনতি হলে রাত ৩টার দিকে তাঁকে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

স্বজনদের দাবি, কোনো রকম জরুরি চিকিৎসা বা প্রতিষেধক না দিয়েই চিকিৎসক কেবল রক্তচাপ মেপে রোগীকে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেন। পাবনা যাওয়ার পথে মাধপুর নামক স্থানে বিষের যন্ত্রণায় কাতর হয়ে রুহানের মৃত্যু হয়। সাঁথিয়া হাসপাতালে সাপের কামড়ের পর্যাপ্ত প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম মজুদ থাকার পরও কেন রোগীকে তা দেওয়া হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন স্বজনদের। 

নিহতের বাবা হেলাল মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ‘হাসপাতালে সাপের কামড়ের কথা পরিষ্কারভাবে জানানোর পরও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাওসার আমার ছেলেকে বাঁচাতে কোনো অ্যান্টিভেনম (প্রতিষেধক) প্রয়োগ করেননি। চিকিৎসা না দিয়ে অবহেলা করে আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে, আমি ওই ডাক্তারের বিচার চাই।’

ওই সময়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাওসার বলেন, ‘রোগীকে আনার পর তার সঙ্গে আসা বন্ধুরা আমাদের জানান রোগী ইয়াবা সেবন করেছে এবং এ বিষয়টি যেন আমরা তার পরিবারের কাছে না জানাই। এগুলো হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড রয়েছে। ফলে আমরা রোগীর পরিবারকে বিষয়টি সরাসরি জানাইনি।’

তিনি বলেন, ‘সাপে কামড়ের কথা বলায় আমরা সম্ভাব্য সব যাচাই-বাছাই করেছি। কিন্তু সাপে কামড়ের কোনো চিহ্ন বা নমুনা আমরা পাইনি। এদিকে রোগীর এগ্রেসিভ আচরণ ও বমি বমি ভাব আরো বেড়ে যাচ্ছিল। ফলে আমার মনে হয়েছে, রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে। এজন্য তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। আমাদের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় কোনো অবহেলা করা হয়নি। চিকিৎসা পদ্ধতিতেও ত্রুটি ছিল না।’

সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল বাতেন জানান, ‘আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত এন্টিভেনম রয়েছে। কিন্তু রাতে রোগীর শরীরে সাপের কামড়ের কোনো চিহ্ন বা নমুনা দায়িত্বরত চিকিৎসক না পাওয়ায় এ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তবু অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

সাঁথিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।