• ই-পেপার

শচিনের ৩৭ বছরের রেকর্ড ভাঙতে পারেন ১৫ বছরের সূর্যবংশী

বাংলাদেশ থেকে খেলা দেখা যাবে ৩ টিভি চ্যানেলে

ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশ থেকে খেলা দেখা যাবে ৩ টিভি চ্যানেলে
ছবি : রয়টার্স

অবশেষে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে দুশ্চিন্তা শেষ হল বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রেমীদের। আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ দেখা যাবে দেশের তিন টেলিভিশন চ্যানেলে। বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় টিভির পর্দায় উপভোগ করা যাবে ম্যাচগুলো। 

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশে বরাবরই থাকে আলাদা উন্মাদনা। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগালের মতো প্রিয় দলগুলোর ম্যাচ দেখতে রাত জাগেন ভক্তরা। 

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপের জন্য সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড’ ফিফার কাছ থেকে বাংলাদেশের সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল। স্থানীয়ভাবে তা বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায় প্রতিষ্ঠানটি। 

এরপর তথ্য মন্ত্রণালয় ও বাফুফে একযোগে বিভিন্ন ক্রীড়া চ্যানেল, জাতীয় গণমাধ্যম, টেলিকম সংস্থা এবং একাধিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপরই নিশ্চিত হয় দর্শকদের খেলা দেখা। 

তিনটি টিভি চ্যানেল ছাড়াও ডিজিটাল মাধ্যমে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগ করা যাবে মাই রবি এপ, বাংলালিংকের ওটিটি সেবা টফি এবং গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপ-এ। 
 

ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিতে হাত মেলালেন না দুই প্রতিদ্বন্দ্বী, ফাইনালে আন্দ্রেভা

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিতে হাত মেলালেন না দুই প্রতিদ্বন্দ্বী, ফাইনালে আন্দ্রেভা
ছবি : রয়টার্স

ফ্রান্স ওপেনের সেমিফাইনালে শীর্ষ বাছাই রুশ তারকা মিরা আন্দ্রেভার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছেন ইউক্রেনের মার্তা কস্তিউক। এতেই রোলা গ্যারোতে (ফ্রেঞ্চ ওপেন) মেয়েদের এককের ফাইনালে পৌঁছে গেলেন রাশিয়ার ১৯ বছর বয়সী কিশোরী মিরা। 

কস্ত্যুককে ৬-১, ৬-৩ গেমে উড়িয়ে দিয়ে ম্যাচটিতে নিজের পরিণত মানসিকতার পরিচয় দেন রুশ উদীয়মান তারকা। গত ৩০ বছরে মার্টিনা হিঙ্গিস, কিম ক্লাইস্টার্স ও কোকো গফের পর চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে ওঠার রেকর্ড গড়লেন আন্দ্রেভা।

মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকে শীর্ষ স্তরে খেলা আন্দ্রেভা এত দিন নিজের রাগ, আবেগ এবং প্রত্যাশার চাপ সামলাতে বেশ ভুগছিলেন। তবে অবশেষে যেন তিনি নিজেকে চিনেছেন এবং বড় শিরোপার জন্য প্রস্তুত করেছেন। ম্যাচ শেষে আন্দ্রেভা বলেন, ‘আমি নিজেকে শান্ত ও ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করছি। ইদানীং আমি অনেক কিছু নিয়ে কাজ করছিলাম। মনে হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত আমি সঠিক পথটি খুঁজে পেয়েছি যা আমার জন্য কাজ করছে।’

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক ১১ দিন আগে, প্রথম রাউন্ডের ম্যাচের দিন সকালে কস্তিউক জানতে পারেন যে ইউক্রেনে তার পারিবারিক বাড়ির মাত্র ১০০ মিটার দূরে একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। যেখানে তার মা, বোন ও নানি অবস্থান করছিলেন। ক্যারিয়ারের সেরা গ্র্যান্ড স্লাম সফর শেষে সেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের খেলোয়াড়ের কাছে হেরেই বিদায় নিতে হলো তাকে।

হারের পর কস্তিউক বলেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালের পর দর্শকরা যেভাবে আমাকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছে, তা আমি কোনো দিন ভুলব না। এই স্মৃতি আমি চিরকাল বয়ে বেড়াব। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে কোনো খেলোয়াড় যদি বলে যে তাদের কোনো প্রভাব নেই, আমি তা কখনোই বিশ্বাস করব না। কারণ আমি নিজে এর প্রমাণ পেয়েছি।’

এদিকে ম্যাচের আগে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আশা করি পরিস্থিতি নিয়ে সবার একটি স্পষ্ট অবস্থান থাকবে, বিশেষ করে যখন আপনার দেশ অন্য দেশের মানুষকে হত্যা করছে। এই পরিস্থিতির পরও কোনো কথা না বলে কেউ কীভাবে রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে, তা আমার জানা নেই।’

গত চার বছর ধরে ডব্লিউটিএ ট্যুরে ইউক্রেন এবং রাশিয়ার খেলোয়াড়দের এই বৈরিতা নিয়মিত রূপ নিয়েছে। ম্যাচের আগে টসের সময় দুই দেশের খেলোয়াড়রা শিশুদের সঙ্গে আলাদাভাবে ছবি তোলেন। ম্যাচ শেষে যথারীতি আন্দ্রেভার সঙ্গে করমর্দন করা থেকে বিরত থাকেন কস্তিউক। 

অন্যদিকে, ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় জয়ের পরও আন্দ্রেভাকে দেখা যায় বেশ সংযত। কস্তিউক করমর্দন করবেন না এমন সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে ম্যাচ জয়ের পর জালের দিকে এগিয়ে যাওয়ার গতি কমিয়ে দেন তিনি, যাতে দুই খেলোয়াড়কে একই সময়ে নেটের সামনে মুখোমুখি হতে না হয়। 

চেলসি কিংবদন্তি ববি ট্যাম্বলিং আর নেই

ক্রীড়া ডেস্ক
চেলসি কিংবদন্তি ববি ট্যাম্বলিং আর নেই
সংগৃহীত ছবি

ইংলিশ ক্লাব চেলসির কিংবদন্তি ফুটবলার ববি ট্যাম্বলিং মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। 

১৯৫৯ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে চেলসির হয়ে ৩৭০ ম্যাচে ২০২ গোল করেছিলেন ট্যাম্বলিং। ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার এই রেকর্ড তিনি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ধরে রেখেছিলেন। অবশেষে ২০১৩ সালে ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড তার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েন।

ল্যাম্পার্ড রেকর্ডটি নিজের করে নেয়ার পর ট্যাম্বলিং মজার ছলে বলেছিলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমাদের মধ্যে বেশ ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। কারণ আমরা দুজনই জানতাম, একদিন না একদিন এই দিনটি আসবেই।’
 
তিনি আরো বলেছিলেন, “আমি সবসময় ফ্র্যাঙ্ককে বলতাম, ‘চলো ফ্র্যাঙ্ক, তাড়াতাড়ি করো।’ আর আমার সঙ্গী মজা করে বলতেন, ‘ফ্র্যাঙ্ক, আর কোনো পেনাল্টি নিও না।”

তবে একটি রেকর্ড এখনো ট্যাম্বলিংয়ের দখলেই রয়েছে। ১৯৬৬ সালে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে এক ম্যাচে পাঁচ গোল করে তিনি চেলসির হয়ে এক ম্যাচে সর্বাধিক গোলের কীর্তি গড়েছিলেন।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে চেলসির জার্সিতে অভিষেক হয় তার। ১৯৬৫ সালের ফুটবল লিগ কাপ ফাইনালে লেস্টার সিটি এবং ১৯৬৭ সালের এফএ কাপ ফাইনালে টটেনহ্যামের বিপক্ষেও গোল করেছিলেন তিনি।

চেলসির হয়ে দুর্দান্ত সময় কাটানোর পরও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন ট্যাম্বলিং। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড দলেও জায়গা হয়নি তার।

চেলসি ছাড়ার পর তিনি লন্ডনের আরেক ক্লাব ক্রিস্টাল প্যালেসে খেলেন। পরে আয়ারল্যান্ডে ক্যারিয়ার শেষ করে অবসরের পর সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

আয়ারল্যান্ডের কর্ক শহরে বসতি গড়ে তিনি স্থানীয় বেশ কয়েকটি ক্লাবের কোচ ও ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জীবনের শেষ সময়ে ট্যাম্বলিং ডিমেনশিয়া রোগে ভুগছিলেন।

বিশ্বকাপ ঘিরে মেক্সিকোয় রমরমা দেহ ব্যবসার আশঙ্কা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ঘিরে মেক্সিকোয় রমরমা দেহ ব্যবসার আশঙ্কা
প্রতীকী ছবি: এআই দিয়ে বানানো

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। তবে এই মেগা ইভেন্টের আড়ালে অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোয় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এক অন্ধকার জগৎ। 

মেক্সিকোয় বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া লাখ লাখ বিদেশি পর্যটক ও ফুটবলপ্রেমীদের আগমনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে মানবপাচার এবং জোরপূর্বক যৌন বাণিজ্যের (দেহ ব্যবসা) বাজার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।

মেক্সিকোর অন্যতম শীর্ষ জাতীয় দৈনিক মিলেনিও এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মিলেনিওর খবরে বলা হয়েছে, কুখ্যাত মাদক কার্টেল (অপরাধীদের বাণিজ্যিক জোট, সিন্ডিকেট বা সমিতি) এবং অপরাধী চক্রগুলো আসন্ন বিশ্বকাপকে তাদের অবৈধ আয়ের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। 

এবারের বিশ্বকাপে মেক্সিকো মোট ১৩টি ম্যাচ আয়োজন করবে। খেলাগুলো হবে দেশটির তিনটি শহর মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্তেররেইয়ে। মেক্সিকোর অপরাধবিষয়ক গবেষকদের মতে, এই তিনটি প্রধান শহরের যৌন বাণিজ্যের রুটগুলো এখন সম্পূর্ণভাবে অপরাধী সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

গুয়াদালাহারা শহরটি মূলত হালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি) মূল ঘাঁটি। সেখানে স্বাধীনভাবে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। যৌনকর্মীদের নিয়মিত এই কার্টেলকে নির্দিষ্ট অংকের ফি বা চাঁদা দিতে হয়।

মন্তেররেইয়ে আধিপত্য বিস্তার করছে নর্থইস্ট কার্টেল এবং সিনালোয়া কার্টেল। বিশেষ করে শহরের বারিও আন্তিগুয়ো এলাকায় তাদের সঙ্গী প্রদানকারী পরিষেবা ও বারের ব্যবসা এখন রমরমা।

রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে মানবপাচারের চিত্র আরো ভয়াবহ। শহরের দক্ষিণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে ভেনিজুয়েলার কুখ্যাত গ্যাং ত্রেন দে আরাগুয়া এবং স্থানীয় ত্লাহুয়াক কার্টেল। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ও পূর্ব অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে সিজেএনজিসিনালোয়া কার্টেল

মেক্সিকোর আরেক সংবাদমাধ্যম অ্যানিমেল পলিটিকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ সামনে রেখে দেশটির ১০টি অপরাধী চক্রের মধ্যে ৯টিই এখন জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা বা পতিতাবৃত্তি থেকে মুনাফা লুটছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক ব্যবসার পাশাপাশি মানবপাচার এখন কার্টেলগুলোর অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, এই কালোবাজারি ব্যবসার বৈশ্বিক মূল্য বছরে প্রায় ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১২ লাখ ১৭ হাজার ১৩ কোটি টাকা)। 

মাদক চক্রগুলো নারীদের শুধু যৌন কাজেই বাধ্য করছে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তাদের দিয়ে মাদক পাচার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের ওপর নজরদারির কাজও করাচ্ছে বলে দাবি করেছে অ্যানিমেল পলিটিকো