‘আমি স্বপ্ন দেখেছি অনেকগুলো গোল করতে যাচ্ছি, আমরা ক্যামেরুনকে বিধ্বস্ত করতে যাচ্ছি’—ঘুম থেকে জাগা পেয়েই সতীর্থদের বলেছিলেন ওলেগ সালেঙ্কো। কিন্তু সালেঙ্কোর কথাটিকে সতীর্থ দিমিত্রি রাদচেঙ্কোর পাগলের প্রলাপ মনে হয়েছিল।
এমনটা মনে হওয়াই স্বাভাবিক। বিশ্বকাপের মতো মহাযজ্ঞে জালের দেখা পাওয়াই ফরোয়ার্ডদের কাছে অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে। সেখানে এক ম্যাচে অনেকবার লক্ষ্যভেদ করা আক্ষরিক অর্থেই অকল্পনীয় ব্যাপার।
কিন্তু সেই সময়ের ২৪ বছর বয়সী টগবগে যুবক সালেঙ্কো যেন অসাধ্য সাধন করতে চেয়েছিলেন এবং তাতে তিনি সফলও হয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে একটি-দুটি কিংবা শুধু হ্যাটট্রিক নয়; একাই পাঁচ গোল করেছিলেন সালেঙ্কো, যা এখনো বিশ্বকাপের এক ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।
সালেঙ্কোর একক নৈপুণ্যে সেদিন তার দল রাশিয়া ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ক্যামেরুনকে। কিন্তু ব্রাজিল ও সুইডেনের কাছে প্রথম দুই ম্যাচে হারায় রাশিয়া বিদায় নিতে হয় গ্রুপ পর্ব থেকেই।
সুইডেনের বিপক্ষেও একটি গোল করেন সালেঙ্কো। সব মিলিয়ে ছয় গোল করে বুলগেরিয়ার হ্রিস্টো স্টইচকভের সঙ্গে যৌথভাবে সেই আসরে গোল্ডেন বুট জেতেন। স্টইচকভ তার দেশ বুলগেরিয়াকে তুলেছিলেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য। কিন্তু সালেঙ্কো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়েও গোল্ডেন বুট জেতা একমাত্র ফুটবলার।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ১৯৯৪ বিশ্বকাপে করা ওই ৬ গোলই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সালেঙ্কোর সর্বমোট গোল। চোটের কারণে এই স্ট্রাইকারের ক্যারিয়ার খুব বেশি লম্বা হয়নি। মাত্র ৩১ বছর বয়সে অবসর নিতে বাধ্য হন।
সালেঙ্কোর জন্ম সোভিয়েত ইউনিয়নের লেনিনগ্রাদে, বর্তমানে যে শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ নামে পরিচিত। তার বাবা রাশিয়ান হলেও মা ইউক্রেনীয়।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে সালেঙ্কোর অভিষেক হয়েছিল ইউক্রেনের হয়ে; মায়ের দেশের জার্সিতে খেলেছেন ওই একটিমাত্র ম্যাচ। এরপর রাশিয়া দলে যোগ দিয়ে খেলেন ৮ ম্যাচ।
বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী সালেঙ্কো থাকেন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে। তার ছেলে রোমান সালেঙ্কোও পেশাদার ফুটবলার। খেলেন ইউক্রেনের ক্লাব জরিয়া লুহানস্কে।
তবে সালেঙ্কো ধীরে ধীরে নিজেকে পেশাদার ফুটবল থেকে গুটিয়ে নেন। মাঝে মাঝে স্থানীয় ফুটবল কার্যক্রমে তাকে দেখা গেলেও ব্যক্তিগত ব্যবসা আর দাতব্য কাজে বেশি সময় ব্যয় করেন।
আক্ষেপ নিয়ে সালেঙ্কো মাঝে মাঝে হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। ইস! শরীরটা যদি বেঈমানি না করত, তাহলে নিজেকে নিশ্চয় সেরা স্ট্রাইকারদের কাতারে দেখতেন। তবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচেই পাঁচ গোল তাকে যে পরিচিতি এনে দিয়েছে, সেটাই বা কম কী?









