বিশ্বকাপ জ্বর শুরু হতে আর ৮ দিন বাকি। এই জ্বরে মাততেই ৪ বছর পর পর অপেক্ষায় থাকেন ফুটবলারসহ দর্শক-সমর্থকরা। তবে নির্মল আনন্দ নিতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে সারাবিশ্ব।
কেননা বিশ্বকাপের কারণে কর্মীদের কাজে মনোযোগী রাখা এবং অফিসে ধরে রাখা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগকর্তাদের। গত মঙ্গলবার ইউকেজি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের কারণে বিশ্বজুড়ে নিয়োগকর্তাদের উৎপাদনশীলতায় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা (১৭০০ কোটি ডলার) ক্ষতি হতে পারে। বিশ্বকাপের কারণে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই উৎপাদনশীলতায় ক্ষতি হতে পারে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা (১১৭০ কোটি ডলার)। এর পরেই রয়েছে জার্মানি, যেখানে ১৬ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা (১৩৪ কোটি ডলার) ক্ষতি হতে পারে।
বিশ্বকাপের সময় তাই ৩৭ শতাংশ কর্মী কাজের সময়সূচি পরিবর্তন করতে পারে বলে জরিপটি জানিয়েছে। অবশ্য শুধু কর্মীরাই নন, ৪৫ শতাংশ ব্যবস্থাপক শেষ মুহূর্তে কাজের সময় পরিবর্তনের চিন্তা করছেন। বিপরীতে ৪২ শতাংশ ব্যবস্থাপক আবার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দেখার জন্য ছুটি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
মানবসম্পদ, বেতন ও কর্মী ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্ম ইউকেজির জরিপ অনুযায়ী, ২৭ শতাংশ কর্মী দেরিতে অফিসে এসে, আগেভাগে চলে গিয়ে কিংবা অনুপস্থিত থেকে কর্মদিবস ফাঁকি দিতে পারেন। ১১ শতাংশ কর্মীর সরল স্বীকারোক্তি আগের রাতে মদ্যপানের ঘোর নিয়ে তারা কাজ করবেন। বিপরীতে ১৪ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন অফিস চলাকালীন লুকিয়ে ম্যাচ ও হাইলাইটস স্ট্রিমিং করে দেখবেন।
কর্মক্ষেত্রে বিশ্বকাপের প্রভাব মূল্যায়ন করতে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ৮ হাজার কর্মীর ওপর এই জরিপ চালিয়েছে ইউকেজি।
এবারই প্রথম ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হবে। আগামী ১১ জুন শুরু হয়ে শেষ হবে ১৯ জুলাই। ২৩তম বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো।




