• ই-পেপার

২০২৬ বিশ্বকাপে নজর কাড়তে পারেন সাত আফ্রিকান খেলোয়াড়

শিউলির মাকে জয় উৎসর্গ বাংলাদেশ দলের

ক্রীড়া ডেস্ক
শিউলির মাকে জয় উৎসর্গ বাংলাদেশ দলের
মা হারানো শিউলি আজিমকে সান্ত্বনা দেন সতীর্থরা। ছবি: মীর ফরিদ, গোয়া থেকে

বাস্তবতা হলো নির্মম এক আয়না। এটি কারো ইচ্ছেমতো চলে না। শিউলি আজিম যেন পারলেন না। মায়ের শেষ বিদায়ে যেমন পাশে থাকতে পারলেন না। ১৮ কোটি জনসংখ্যার প্রত্যাশার ভার যে তার কাঁধে। 

তাই গতকাল মায়ের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর বুকে শোকের পাথর চেপে বাংলাদেশ দলের সঙ্গেই গোয়াতে থেকে গেলেন শিউলি। জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে যে আজ ছিল সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল। ডিফেন্ডারের ত্যাগ বিফলে যেতে দেননি তার সতীর্থরা।

আরো পড়ুন
যোগ করা সময়ে সাগরিকার গোল, নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

যোগ করা সময়ে সাগরিকার গোল, নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

 

শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ২-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের ফাইনালে ওঠেছেন মারিয়া মান্দা-ঋতুপর্ণা চাকমারা। ফাইনালে ওঠার ম্যাচে অবশ্য মাঠে নামার সুযোগ হয়নি শিউলির। বেঞ্চে বসে জয় উদযাপন করেছেন তিনি।

এমন আনন্দের মুহূর্তে শিউলির মাকে ভুলে যাননি বাংলাদেশের ফুটবলাররা। তাই তো ম্যাচ শেষে সতীর্থর মাকে জয় উৎসর্গ করেছেন ঋতুপর্ণা-আফঈদা খন্দকাররা। অলিম্পিক গোল ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরা হওয়া ঋতুপর্ণা ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘এই ম্যাচটি আমরা আমাদের টিমমেট শিউলি দিদির মাকে উৎসর্গ করেছি। পাশাপাশি দেশের সব মানুষকে এটি উৎসর্গ করছি।’ 

সেমিফাইনালের শুরুতেই অবশ্য পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। ২২ মিনিটে কর্নার থেকে এগিয়ে যায় নেপাল। বিরতিতে যাওয়ার আগে অলিম্পিক গোলে  (কর্নার কিক থেকে সরাসরি গোল) দলকে সমতায় ফেরান ঋতুপর্ণা। পরে যোগ করা সময়ে মোসাম্মাৎ সাগরিকার গোলে বিজয়োল্লাস করে বাংলাদেশ।

দল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ, তবু তিনি গোল্ডেন বুট জয়ী

সাহিদ রহমান অরিন
দল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ, তবু তিনি গোল্ডেন বুট জয়ী
ওলেগ সালেঙ্কো। ছবি : এএফপি

‘আমি স্বপ্ন দেখেছি অনেকগুলো গোল করতে যাচ্ছি, আমরা ক্যামেরুনকে বিধ্বস্ত করতে যাচ্ছি’—ঘুম থেকে জাগা পেয়েই সতীর্থদের বলেছিলেন ওলেগ সালেঙ্কো। কিন্তু সালেঙ্কোর কথাটিকে সতীর্থ দিমিত্রি রাদচেঙ্কোর পাগলের প্রলাপ মনে হয়েছিল। 

এমনটা মনে হওয়াই স্বাভাবিক। বিশ্বকাপের মতো মহাযজ্ঞে জালের দেখা পাওয়াই ফরোয়ার্ডদের কাছে অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে। সেখানে এক ম্যাচে অনেকবার লক্ষ্যভেদ করা আক্ষরিক অর্থেই অকল্পনীয় ব্যাপার।

কিন্তু সেই সময়ের ২৪ বছর বয়সী টগবগে যুবক সালেঙ্কো যেন অসাধ্য সাধন করতে চেয়েছিলেন এবং তাতে তিনি সফলও হয়েছিলেন। 

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে একটি-দুটি কিংবা শুধু হ্যাটট্রিক নয়; একাই পাঁচ গোল করেছিলেন সালেঙ্কো, যা এখনো বিশ্বকাপের এক ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। 

Record
১৯৯৪ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে একাই পাঁচ গোল করেন রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কো। ছবি: সংগৃহীত

সালেঙ্কোর একক নৈপুণ্যে সেদিন তার দল রাশিয়া ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ক্যামেরুনকে। কিন্তু ব্রাজিল ও সুইডেনের কাছে প্রথম দুই ম্যাচে হারায় রাশিয়া বিদায় নিতে হয় গ্রুপ পর্ব থেকেই। 

সুইডেনের বিপক্ষেও একটি গোল করেন সালেঙ্কো। সব মিলিয়ে ছয় গোল করে বুলগেরিয়ার হ্রিস্টো স্টইচকভের সঙ্গে যৌথভাবে সেই আসরে গোল্ডেন বুট জেতেন। স্টইচকভ তার দেশ বুলগেরিয়াকে তুলেছিলেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য। কিন্তু সালেঙ্কো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়েও গোল্ডেন বুট জেতা একমাত্র ফুটবলার।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ১৯৯৪ বিশ্বকাপে করা ওই ৬ গোলই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সালেঙ্কোর সর্বমোট গোল। চোটের কারণে এই স্ট্রাইকারের ক্যারিয়ার খুব বেশি লম্বা হয়নি। মাত্র ৩১ বছর বয়সে অবসর নিতে বাধ্য হন।

সালেঙ্কোর জন্ম সোভিয়েত ইউনিয়নের লেনিনগ্রাদে, বর্তমানে যে শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ নামে পরিচিত। তার বাবা রাশিয়ান হলেও মা ইউক্রেনীয়। 
আন্তর্জাতিক ফুটবলে সালেঙ্কোর অভিষেক হয়েছিল ইউক্রেনের হয়ে; মায়ের দেশের জার্সিতে খেলেছেন ওই একটিমাত্র ম্যাচ। এরপর রাশিয়া দলে যোগ দিয়ে খেলেন ৮ ম্যাচ। 

বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী সালেঙ্কো থাকেন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে। তার ছেলে রোমান সালেঙ্কোও পেশাদার ফুটবলার। খেলেন ইউক্রেনের ক্লাব জরিয়া লুহানস্কে। 

তবে সালেঙ্কো ধীরে ধীরে নিজেকে পেশাদার ফুটবল থেকে গুটিয়ে নেন। মাঝে মাঝে স্থানীয় ফুটবল কার্যক্রমে তাকে দেখা গেলেও ব্যক্তিগত ব্যবসা আর দাতব্য কাজে বেশি সময় ব্যয় করেন। 

আক্ষেপ নিয়ে সালেঙ্কো মাঝে মাঝে হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। ইস! শরীরটা যদি বেঈমানি না করত, তাহলে নিজেকে নিশ্চয় সেরা স্ট্রাইকারদের কাতারে দেখতেন। তবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচেই পাঁচ গোল তাকে যে পরিচিতি এনে দিয়েছে, সেটাই বা কম কী?

ফ্রেঞ্চ ওপেন

সাবালেঙ্কাকে বিদায় করে রুশ তরুণীর চমক

ক্রীড়া ডেস্ক
সাবালেঙ্কাকে বিদায় করে রুশ তরুণীর চমক
সর্বশেষ ফ্রেঞ্চ ওপেনে রানার্স-আপ হলেও এবার কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় সাবালেঙ্কার। ছবি : এক্স থেকে

নামের পাশে চারটি গ্র্যান্ড স্লাম থাকলেও ফ্রেঞ্চ ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হওয়া হয়নি আরিনা সাবালেঙ্কার। সর্বশেষবার ফাইনালে উঠলেও কোকো গফের কাছে হারতে হয়েছে নারী এককের শীর্ষ বাছাইকে।

নিশ্চয়ই এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর লক্ষ্যে নেমেছিলেন সাবালেঙ্কা। চতুর্থ রাউন্ডে দুই বারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী নাওমি ওসাকাকে হারিয়ে রোলাঁ গ্যারোতে ছুটছিলেনও দুর্দান্ত গতিতে। কিন্তু আজ বেলারুশ তারকার দৌড় থামিয়ে দিলেন ডায়ানা শ্নাইডার। যিনি কিনা এবারই প্রথমবারের মতো কোনো গ্র্যান্ড স্লামের সেমিফাইনালে উঠলেন।

 

পরিসংখ্যানের হিসেবে তাই সাবালেঙ্গার বিদায়কে অঘটনই বলা যায়। রোঁলা গারোর কোয়ার্টার ফাইনালে ৬-৩, ৫-৭ ও ০-৬ গেমে হেরেছেন তিনি। অথচ ২২ বছর বয়সী ডায়ানার বিপক্ষে প্রথম সেট জিতে শুরুটা দারুণ করেছিলেন সাবালেঙ্কা। ফিরতি সেটে লড়াই করলেও শেষ সেটে রাশিয়ান তরুণীর সামনে দাঁড়াতেই পারেননি তিনি। 

সাবালেঙ্কাকে বিদায় করে সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছেন পোল্যান্ডের মায়া শোয়ালিনস্কা। অন্য সেমিফাইনালে লড়বেন মিরা আন্দ্রিভা ও মার্তা কস্ত্যুক। চারজনই প্রথমবারে মতো কোনো গ্র্যান্ড স্লামের শেষ চারে উঠেছেন। ফ্রেঞ্চ ওপেন তাই নতুন রানিই পেতে যাচ্ছে।

মোসাদ্দেককে বাংলাদেশ দলে ফেরানোর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান নির্বাচক

ক্রীড়া ডেস্ক
মোসাদ্দেককে বাংলাদেশ দলে ফেরানোর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান নির্বাচক
৪ বছর আবারও জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন মোসাদ্দেক। ছবি : ক্রিকইনফো

দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান। ৪ বছর আবারও বাংলাদেশ দলে জায়গা পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সর্বশেষ ২০২২ সালে নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে খেলেছেন তিনি।

মোসাদ্দেক ওয়ানডে খেলেছেন তারও ৩ মাস আগে। একই বছরের আগস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবার ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে ফিরছেন তিনি। প্রথম দুই ওয়ানডের ঘোষিত দলে আছেন তিনি।

তাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পারফরম্যান্সের পুরস্কারই পেলেন মোসাদ্দেক। আবাহনী লিমিটেডের হয়ে ৩১০ রান করা ব্যাটার শীর্ষ রান সংগ্রাহকের তালিকায় ১১ নম্বরে থাকলেও এবার বেশ ধারাবাহিক তিনি। ৩০ বছর বয়সী ব্যাটারের ৬ ইনিংস তারই প্রমাণ। ইনিংসগুলো হচ্ছে—১৭, ১০১, ৬২*, ৫৭, ৩০ ও ৪৩ (শুরুতে প্রথম ম্যাচ)।

আরো পড়ুন
৪ বছর পর বাংলাদেশ দলে মোসাদ্দেক

৪ বছর পর বাংলাদেশ দলে মোসাদ্দেক

 

দুর্দান্ত ফর্মের জন্যই দলে জায়গা পেয়েছেন মোসাদ্দেক। ১৬ সদস্যের দল ঘোষণায় সেটাই উল্লেখ করেছেন হাবিবুল বাশার সুমন। অলরাউন্ডারকে নেওয়ার ব্যাখ্যায় বিসিবির প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে যেখানে মোসাদ্দেককে আমরা চিন্তা করছি যেখানে আফিফ ব্যাটিং করে, নাম্বার সিক্স, সেখানে মোসাদ্দেক এই মুহূর্তে খুব ভালো ব্যাটিং করছে এবং নাম্বার সিক্সে হি ইজ মোর... তার স্কিল লেভেলটা আরো বেশি কাজে লাগবে আমাদের জন্য। সঙ্গে সে একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। আগেও খেলেছে, এমনকি প্রিমিয়ার লিগে খুব ভালো ফর্মে আছে। একই সঙ্গে ওর যে অলরাউন্ডার এবিলিটি সেটাও আমরা কাজে লাগাতে পারব। কারণ তার বোলিং দক্ষতা বেশ কাজে লাগবে।’

ব্যাটের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগে বোলিং দক্ষতার প্রমাণও দিয়েছেন মোসাদ্দেক। ৭ ইনিংসে নিয়েছেন ১২ উইকেট। তার ফেরাটা দলে ভারসাম্য রাখবে বলে মনে করেন হাবিবুল বাশার। সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, ‘তিনি যদি আসেন আমাদের ব্যালেন্সটা আরেকটু ভালো হয়। আমরা পাঁচজন ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলি, দেন নাম্বার সিক্স বোলারদের মাঝে মাঝে আমরা একটু অভাব অনুভব করি। আমার মনে হয় মোসাদ্দেক সেই কাজটা খুব ভালো মতো কভার করতে পারবে—ব্যাটিংয়ের সঙ্গে বোলিং দক্ষতা দিয়ে।’