২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ দিকের মহানাটকীয়তায় ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে মিশর। তাতে আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা এখনো জিইয়ে আছে।
তবে আর্জেন্টিনার এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের চেয়েও এখন বড় আলোচনার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) রহস্যজনক ভূমিকা।
মিশরের একটি গোল বাতিল এবং পেনাল্টি বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা দুটিকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে সমালোচনার ঝড় বইয়ে যাচ্ছে। মিশর কোচ হোসাম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোর পর এবার এ নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনহো।
আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারির ভূমিকাকে মরিনহো সরাসরি ‘দিনের আলোয় ডাকাতি’ আখ্যা দিয়েছেন। কিংবদন্তি এই কোচ বলেন, ‘যখন আপনি এই আর্জেন্টিনা দলের বিপক্ষে খেলবেন, তখন ২-০ গোলে এগিয়ে থাকাও যথেষ্ট নয়। কারণ আপনি মাঠে শুধু ১১ খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলছেন না। আপনি খেলছেন রেফারির বাঁশির বিরুদ্ধে, আপনি খেলছেন ভিএআর রুমের বিরুদ্ধে, এমনকি আপনি খেলছেন পুরো পাতানো চিত্রনাট্যের বিরুদ্ধে।’
মরিনহো আরো বলেন, ‘(মিশরের সঙ্গে) যা কিছু হয়ে গেল, সেটা সত্যিই লজ্জার। এটা তো দিনের আলোয় ডাকাতির মতো ঘটনা। আপনি খেলা চালিয়ে যেতে দিলেন, গোলও হয়ে গেল, তারপর আবার সিদ্ধান্ত নিলেন যে গোলটি বাতিল করবেন! যদি সত্যিই ফাউল হয়ে থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই খেলা থামানো উচিত ছিল। গোল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোনো মানেই হয় না।’
ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারারও ভিএআরের দ্বিচারিতার সমালোচনা করেছেন। এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘হয় দুটোই ফাউল, না হলে একটাও ফাউল নয়। কিন্তু তারা (ফিফা) তো আমাদের বলেছিল যে, তারা ম্যাচের ভেতর নতুন করে রেফারিং করবে না।’
রেফারিং নিয়ে বিশ্বখ্যাত দাবাড়ু ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গ্যারি ক্যাসপারভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিফাকে ধুয়ে দিয়েছেন, ‘মিসরের দুর্দান্ত একটি গোল বাতিল করা হলো অনেক দূরের এক ফাউলের অজুহাতে। অথচ কয়েক মিনিট পর ঠিক একই রকম পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার গোল বাতিল করা হলো না।’
ক্যাসপারভ সরাসরি ফিফাকে একটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত তামাশার সংস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ফিফা শুধু লিওনেল মেসির মতো বড় তারকাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ব্যস্ত।




