উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার সন্দেহে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেপ্তার আরো চারজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রিমান্ডে পাঠানো দুই আসামি হলেন শাহ আমানত সাবির ও হোসাইন তানিম। আর কারাগারে পাঠানো চারজন হলেন জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, আবিদুর রহমান ও বায়োজিত।
আদালতে এদিন ছয় আসামিকে হাজির করা হয়। এর আগে গত রোববার (৫ জুলাই) তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) এ বি সিদ্দিক দুই আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মো. সাদ্দাম হোসেন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, আসামিরা শিক্ষার্থী এবং তাদের বয়স কম। ইতিমধ্যে তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, তবে তদন্তে উল্লেখযোগ্য কিছু পাওয়া যায়নি।
এ সময় আদালত বলেন, এ মামলায় পুলিশের এপ্রোচ ভালো। তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে কিছু না পাওয়া গেলে তারা স্বাভাবিকভাবেই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মুক্তি পাবেন।
পরে বিচারক আসামিদের উদ্দেশে জানতে চান, রিমান্ডে তাদের কোনো নির্যাতন করা হয়েছে কি না। এ সময় আসামি শাহ আমানত সাবির মাথা নেড়ে ‘না’ সূচক জবাব দেন।
মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত রোববার ভোরে যাত্রাবাড়ী থানাধীন মিনি কক্সবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের পাশের বালুর মাঠে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের কয়েকজন সদস্য প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে গেলে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে সেখান থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সেখানে জড়ো হওয়ার বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।







