• ই-পেপার

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় বিশ্বকাপ প্রদর্শনীর আয়োজক নিহত

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মধ্যেই পক্ষপাতমূলক আচরণের মাধ্যমে একের পর এক বির্তকের জন্ম দিচ্ছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া বা আর্জেন্টিনা গোল খেলে ইনফান্তিনোর মন খারাপ করার ব্যাপার তো আছেই, সঙ্গে যোগ হয়ে আরেকটি বড় ধরনের বিতর্ক। 

যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারকে ঘিরে এবার সরাসরি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একাধিক আইনপ্রণেতা। 

ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ম্যাচে খেলার কথা ছিল না বালোগানের। কিন্তু হঠাৎ করে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ফিফা। 

অভিযোগ উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরই এই সিদ্ধান্ত আসে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, লারা ভোল্টার্স ও নিলস ফুগলসাং এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, বিশ্বকাপ চলাকালীন এর নিয়ম পরিবর্তন করা ফুটবলের ন্যায্যতার পরিপন্থী এবং এটি বিচার ব্যবস্থার বিকৃতি। রাজনৈতিক চাপে ফিফা সিদ্ধান্ত বদল করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন আইনপ্রণেতা এই তদন্তের দাবিতে সমর্থন জানিয়েছেন। তারা ইউরোপীয় দেশগুলোর ফুটবল ফেডারেশনগুলোকেও আহ্বান জানিয়েছেন যেন ফিফার এথিকস কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে।

যদিও ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছিল সম্পূর্ণভাবে তাদের শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত।

বালোগানের শাস্তি বাতিল করে অবশ্য লাভ হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের। বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে এবারের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা। 

আর্জেন্টিনার জয় দিনের আলোয় ডাকাতির মতো : মরিনহো

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার জয় দিনের আলোয় ডাকাতির মতো : মরিনহো

২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ দিকের মহানাটকীয়তায় ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে মিশর। তাতে আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা এখনো জিইয়ে আছে। 

তবে আর্জেন্টিনার এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের চেয়েও এখন বড় আলোচনার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) রহস্যজনক ভূমিকা। 

মিশরের একটি গোল বাতিল এবং পেনাল্টি বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা দুটিকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে সমালোচনার ঝড় বইয়ে যাচ্ছে। মিশর কোচ হোসাম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোর পর এবার এ নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনহো। 

আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারির ভূমিকাকে মরিনহো সরাসরি ‘দিনের আলোয় ডাকাতি’ আখ্যা দিয়েছেন। কিংবদন্তি এই কোচ বলেন, ‘যখন আপনি এই আর্জেন্টিনা দলের বিপক্ষে খেলবেন, তখন ২-০ গোলে এগিয়ে থাকাও যথেষ্ট নয়। কারণ আপনি মাঠে শুধু ১১ খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলছেন না। আপনি খেলছেন রেফারির বাঁশির বিরুদ্ধে, আপনি খেলছেন ভিএআর রুমের বিরুদ্ধে, এমনকি আপনি খেলছেন পুরো পাতানো চিত্রনাট্যের বিরুদ্ধে।’

মরিনহো আরো বলেন, ‘(মিশরের সঙ্গে) যা কিছু হয়ে গেল, সেটা সত্যিই লজ্জার। এটা তো দিনের আলোয় ডাকাতির মতো ঘটনা। আপনি খেলা চালিয়ে যেতে দিলেন, গোলও হয়ে গেল, তারপর আবার সিদ্ধান্ত নিলেন যে গোলটি বাতিল করবেন! যদি সত্যিই ফাউল হয়ে থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই খেলা থামানো উচিত ছিল। গোল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোনো মানেই হয় না।’

ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারারও ভিএআরের দ্বিচারিতার সমালোচনা করেছেন। এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘হয় দুটোই ফাউল, না হলে একটাও ফাউল নয়। কিন্তু তারা (ফিফা) তো আমাদের বলেছিল যে, তারা ম্যাচের ভেতর নতুন করে রেফারিং করবে না।’ 

রেফারিং নিয়ে বিশ্বখ্যাত দাবাড়ু ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গ্যারি ক্যাসপারভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিফাকে ধুয়ে দিয়েছেন, ‘মিসরের দুর্দান্ত একটি গোল বাতিল করা হলো অনেক দূরের এক ফাউলের অজুহাতে। অথচ কয়েক মিনিট পর ঠিক একই রকম পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার গোল বাতিল করা হলো না।’ 

ক্যাসপারভ সরাসরি ফিফাকে একটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত তামাশার সংস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ফিফা শুধু লিওনেল মেসির মতো বড় তারকাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ব্যস্ত।

ব্রাজিলের বিদায়ে উচ্ছ্বসিত জার্মানির তারকা

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিলের বিদায়ে উচ্ছ্বসিত জার্মানির তারকা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এমন বিদায়ে মর্মাহত সেলেসাও সমর্থকরা। তবে  ব্রাজিলের বিদায়ের পর কড়া ভাষায় নেইমারের সমালোচনা করলেন জার্মানির সাবেক অধিনায়ক লোথার ম্যাথাউস। তাঁর দাবি, ব্রাজিলের বিদায়ে তিনি সন্তুষ্ট এবং মাঠে নেইমারের অতিরিক্ত অঙ্গভঙ্গি এবং অভিযোগ করার অভ্যাস আর সহ্য করতে পারছেন না তিনি। 

নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে পেনাল্টি থেকে দলের একমাত্র গোল করেন নেইমার। তবে হারের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা করেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার।

জার্মান সংবাদমাধ্য ‌‘স্কাই জার্মানি’ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাথাউস বলেন, ‘ব্রাজিলের বিদায়ে আমি খুশি। নেইমারের এই অবিরাম অভিযোগ এবং অঙ্গভঙ্গি আমি আর সহ্য করতে পারি না।’

ম্যাচে নরওয়ের গোলকিপার অরিয়ান নিল্যান্ডের সঙ্গে নেইমারের বাগবিতণ্ডার ঘটনাও তুলে ধরেন ম্যাথাউস। পেনাল্টি থেকে গোল করার পর নিল্যান্ড কিছুটা সময় নষ্ট করে। বল নিজের কাছে রেখে দেন। সঙ্গে সঙ্গে নেইমারের হাতে বল তুলে দেননি। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। 
এই প্রসঙ্গে ম্যাথাউস বলেন, ‘পেনাল্টি দ্রুত নেওয়ার বদলে নেইমার শট নেওয়ার আগে এবং পরে গোলকিপারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিল। তার এই আচরণই প্রমাণ করে, দলের সাফল্যের চেয়ে নিজের অহংকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।’

নেইমারকে নিয়ে ম্যাথাউসের সমালোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপেও তিনি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে ‘ডাইভার’ এবং ‘অভিনেতা’ বলে আখ্যা দিয়ে ম্যাথাউস বলেছিলেন, ‌‌‘নেইমার অসাধারণ একজন ফুটবলার। বিশ্বের সেরা পাঁচজনের একজন। কিন্তু অভিনয় করার কী দরকার? এতে মানুষের সহানুভূতি পাওয়া যায় না। দিয়েগো মারাদোনা অভিনয় করতেন না, লিওনেল মেসিও করেন না। আমাদের নেইমারের মতো খেলোয়াড় দরকার। কিন্তু অভিনেতা নয়।’

এদিকে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নরওয়েকে নিজের ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ম্যাথাউস। ব্রাজিলকে হারিয়ে নরওয়ে সেই ধারণাকেই আরো শক্তিশালী করেছে বলে মনে করেন তিনি। 

ম্যাথাউস বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নরওয়েকে আমি ডার্ক হর্স বলেছিলাম। বাছাইপর্বে ওরা ইতালিকে দুবার হারিয়েছে। এবার ব্রাজিলকে বিদায় করেছে। মার্টিন ওডেগার্ড, বুন্দেসলিগার প্রতিভাবান আন্তোনিও নুসা এবং গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের মতো অসাধারণ খেলোয়াড় দলে রয়েছে।’

 এদিকে নরওয়ের বিপেক্ষে ইংল্যান্ড সহজ উত্তরাতে পারবেন না বলে যোগ করেন ১৯৯০ সালে জার্মান বিশ্বকাপ দলের এই সদস্য। 

নরওয়ের বিপক্ষে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার সম্ভাবনা ইংলিশ তারকার

ক্রীড়া ডেস্ক
নরওয়ের বিপক্ষে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার সম্ভাবনা ইংলিশ তারকার
ইংল্যান্ডের ডেক্লান রাইস রিস জেমসকে উঠতে সাহায্য করছেন। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের মহারণে আগামীকাল শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনাল। বোস্টনে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স এবং মরক্কো। আগামী ১২ জুলাই নরওয়ের বিপক্ষে সেমিতে যাওয়া লক্ষ্যে মাঠে নামবে। নরওয়ের বিপক্ষে ইনজুরি কাটিয়ে ইংলিশদের সেরা রিস জেমসকে পাওয়ার আশা থ্রি লায়ন্স শিবিরের। 

ইনজুরির কারণে চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের শেষ তিনটি ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি চেলসির এই তারকা রাইট-ব্যাক। এমনকি শেষ ষোলোর নকআউট পর্বে মেক্সিকোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৩-২ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়ের ম্যাচেও দলের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্টের ‘বিশ্বকাপের ইনজুরি ট্র্যাকার নিয়ে তৈরি এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ঘানার বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ার পর থেকেই পুনর্বাসনে আছেন জেমস। তার এই অনুপস্থিতি ইংল্যান্ড শিবিরে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ স্কোয়াডে থাকা তার বিকল্প রাইট-ব্যাকরাও বর্তমানে ইনজুরি সমস্যায় ভুগছেন। রক্ষণভাগের এই সংকট টমাস টুখেলের দলের জন্য বড় একটি ধাক্কা।

ইংল্যান্ড ম্যানেজার টমাস টুখেল আশা করছেন, শনিবার নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালের ম্যাচের আগে রিস জেমস খেলার জন্য ফিট হয়ে উঠবেন।

এদিকে ইংলিশ শিবিরে কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, জেমসের চোটের উন্নতি হচ্ছে। আগামী শনিবার নরওয়ের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচকে সামনে রেখে জোরকদমে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াই চালাচ্ছেন তিনি। দলের মেডিকেল টিমও তাকে মাঠে ফেরাতে সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। কোয়ার্টার ফাইনালের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারকে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে থ্রি লায়ন্স শিবির।