• ই-পেপার

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম

শ্রীমঙ্গলে জলাবদ্ধতায় জনজীবন স্থবির, দুর্ভোগে পরীক্ষার্থীরা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
শ্রীমঙ্গলে জলাবদ্ধতায় জনজীবন স্থবির, দুর্ভোগে পরীক্ষার্থীরা
ছবি: কালের কণ্ঠ

লঘুচাপের প্রভাবে অবিরাম বর্ষণে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ৩৬ ঘণ্টায় ১৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণের ফলে শহরের রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৬টা - বুধবার সকাল ৬টা): ৯১ মিলিমিটার। পরবর্তী ১২ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৬টা - সন্ধ্যা ৬টা): ৭৯ মিলিমিটার। মোট ১৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ।

ভারী বর্ষণে শ্রীমঙ্গল শহরতলীর শাহীবাগ, সবুজবাগ, লালবাগ ও সন্ধানী আবাসিক এলাকাসহ বেশ কিছু নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে এবং অনেক নিচু এলাকার বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।

বিশেষ করে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন। পরীক্ষা শেষে বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরতে গিয়ে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বৃষ্টির তীব্রতায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী ৪ থেকে ৫ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। 

আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরো ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বদলির খবরে শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখলেন শিক্ষক-কর্মচারীরা

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
বদলির খবরে শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখলেন শিক্ষক-কর্মচারীরা
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ভাঙ্গায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক ও দপ্তরি কাম প্রহরীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি। 

এর আগে গত ৭ জুলাই রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার সই করা পত্রে এ বদলির আদেশ জারি করা হয়। ওই পত্রে জানানো হয়েছে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। 

শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধের সময় উপস্থিত প্রধান শিক্ষকরা জানান, ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন ঘুষ ও দুর্নীতি ছাড়া কিছুই বোঝেন না। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিদ্যালয় উন্নয়ন বরাদ্দের শেষ কিস্তির স্কুলপ্রতি সর্বনিম্ন ১৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২২ হাজার টাকার কাজ প্রধান শিক্ষকদের দিয়ে করিয়ে ভাউচার জমা নিয়েছেন তিনি, কিন্তু টাকা দেননি। দিনের পর দিন ঘুরাচ্ছেন। এখন চলে গেলে ভাঙ্গা উপজেলার ১২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ২৫ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা থেকে বঞ্চিত হবেন। 

উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ভাঙ্গার আলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহীন আলম বলেন, ‘গত অর্থবছরের উন্নয়ন বরাদ্দ বাবদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আমাকে দিয়ে ১৫ হাজার টাকার কাজ করিয়েছেন। আমি ভাউচার জমা দিয়েছি। আমাকে দিনের পর দিন ঘোরাচ্ছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার ভাঙ্গায় শেষ অফিস। তাই টাকা মেরে যাতে না যেতে পারেন, সে জন্য এসেছি। অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এসেছেন। তিনি ঘুষ ছাড়া কিছু বোঝেন না।’

ভাঙ্গার ভদ্রকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের তিন মাসের বেতন শিক্ষা অফিসার দেন না। শুনেছি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই তিনি ৭৪ জন দপ্তরি কাম প্রহরীর তিন মাসের বেতনের টাকা সরিয়ে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে রেখেছেন। তিনি চলে গেলে আমরা টাকা পাব কিভাবে? তাই আমরা আমাদের বেতনের টাকার দাবিতে এখানে এসেছি।’

ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমি চক্রান্তের শিকার। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।’

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন শিক্ষক ও কর্মচারী দ্বারা অবরুদ্ধ হয়েছেন। এ খবর পাওয়ার পর আমি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছি। অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ভারি বর্ষণে পটিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা সড়ক

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
ভারি বর্ষণে পটিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা সড়ক
ছবি: কালের কণ্ঠ

কয়েকদিন টানা ভারি বর্ষণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা, জিরি, কোলাগাঁও, হাবিলাসদ্বীপ, বড়লিয়া, জঙ্গলখাইন, আশিয়া, কাশিয়াইশ, ছনহরা, ভাটিখাইন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। টানা বর্ষণে এসব এলাকার বিভিন্ন গ্রামের বাড়িঘর, কাঁচা সড়ক, কৃষিজমি, বীজতলা ও পুকুর জলাশয়ের মাছ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভোগান্তি আরো বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পটিয়ার একাধিক ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক গ্রামের কাঁচা সড়ক কাদায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, কোথাও কোথাও রাস্তার অংশ বিশেষ ভেঙেও গেছে। কৃষকদের বীজতলা ও আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে পুকুর ও জলাশয়ের মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষুদ্র মৎস্যচাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কিছু এলাকায় বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় পরিবারগুলোকে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বন্যার পানি নিষ্কাশনের স্বার্থে ভেল্লাপাড়া স্লুইসগেট নিয়মিত খুলে রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত আকবর। 

তিনি বলেন, ‘অতিভারি বৃষ্টির কারণে পশ্চিম পটিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য ভেল্লাপাড়া সুইচ গেইট নিয়মিত খুলে রেখে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরো বলেন, ‘রাস্তাঘাট, কৃষিজমি, বীজতলা, মাছের ঘের ও বসতবাড়ির যে ক্ষতি হয়েছে, তা দ্রুত তালিকাভুক্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা দরকার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।’

বুধবার পটিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে নিচু অঞ্চলগুলোতে পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও বাড়ির উঠান, কোথাও বসতঘর, আবার কোথাও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক গ্রামের কাঁচা সড়ক কাদায় একেবারে অচল হয়ে পড়েছে। কোথাও রাস্তার অংশ ভেঙে যাওয়ায় জরুরি চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, বীজতলা ও নতুন আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মৌসুমি চাষাবাদে বড় ধাক্কা লেগেছে। ইতিমধ্যে অনেকে নতুন করে বীজতলা তৈরির চিন্তায় পড়েছেন। অন্যদিকে পুকুর ও জলাশয়ের মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষুদ্র মৎস্যচাষিদের মাথায় হাত। তারা বলছেন, এক রাতের বৃষ্টিতেই কয়েক মাসের বিনিয়োগ পানিতে ভেসে গেছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ভোগ আরো বাড়ছে; পানিবন্দি পরিবারগুলো নিরাপত্তা, রান্না ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

এদিকে বৃষ্টিজনিত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জানতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যেবক্ষণে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন বলে জানিয়েছে কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় মোবাইলফোনে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি পর্যেবক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সার্বিক অবস্থা মূল্যায়নেও প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হতে পারে। তাই জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা বা সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অপরদিকে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই সময়ে উপজেলা প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক তদারকি ও দায়িত্বশীল ভূমিকা স্থানীয় মানুষের মাঝে আস্থা তৈরি করেছে। আমরা আশা করি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পানি নিষ্কাশন, রাস্তাঘাট মেরামত এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতা আরো তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং কৃষক ও মৎস্যচাষিদের জন্য সহায়তা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পটিয়ার এই জলাবদ্ধতা কেবল সাময়িক বৃষ্টির জন্য নয় এটি দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, খাল নালা ভরাট, প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং সুইচ গেইট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারও ফল। তাই তাৎক্ষণিকভাবে পানি নামানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে খাল নালা পুনঃখনন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলপ্রবাহের পথ সচল রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্লুইসগেটগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের প্রধান দাবি দ্রুত পানি নিষ্কাশনে ভেল্লাপাড়া স্লুইসগেট নিয়মিত খুলে রাখা, ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা সড়ক জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন এলাকায় দ্রুত সংযোগ পুনঃস্থাপন, কৃষক ও মৎস্যচাষিদের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করে বিশেষ সহায়তা প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদে পশ্চিম পটিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ।

পুকুরে ডুবে চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু

লক্ষীপুর প্রতিনিধি
পুকুরে ডুবে চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু
ছবি: কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে পুকুরে ডুবে মায়েশা আক্তার (সাড়ে ৩) ও মুজাহিদুল ইসলাম (৩) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন। স্থানীয়দের দাবি, পানিতে পড়ে যাওয়া মুজাহিদকে বাঁচাতে গিয়ে মায়েশাও ডুবে যায়।

বুধবার (৮ জুলাই) উপজেলার চররমিজ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মায়েশা প্রবাসী মো. রিয়াজের মেয়ে এবং মুজাহিদ টাইলস মিস্ত্রি মো. মনজুরের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুজাহিদ ও মায়েশা একসঙ্গে খেলছিল। একপর্যায়ে মুজাহিদ অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে মায়েশাও পানিতে ডুবে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

চররমিজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজাহিদুল ইসলাম দিদার বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, একজনকে বাঁচাতে গিয়ে আরেকজনেরও মৃত্যু হয়েছে।

রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ জাহান বলেন, পানিতে ডুবে যাওয়া দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।