হানিমুন নিয়ে অনেকের অনেক রকম পরিকল্পনা থাকে। বিয়ের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ও একান্তে সময় কাটাতে নবদম্পতি তাদের পছন্দের কোনো জায়গায় বেড়াতে যান। অনেক হোটেলে হানিমুন স্যুইট থাকে। তবে ভারতের মহারাষ্ট্রের জালনা এলাকার এক দম্পতির ভাবনা ছিল ভিন্ন। তারা চেন্নাইগামী একটি ট্রেনের প্রথম শ্রেণির এসি কেবিনকেই বদলে নিয়েছিলেন হানিমুন স্যুইটে।
মহারাষ্ট্রের সাজসজ্জা প্রতিষ্ঠান 'রাহাত রুম ডেকোরেশন' নবদম্পতির হয়ে আগে থেকে বুক করা ট্রেনটির একটি কামরাকে হানিমুন স্যুইটে বদলে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পোস্ট এক ভিডিও রীতিমত ভাইরাল। অনেকেই অভিনব এই দুর্দান্ত এবং রোমান্টিক ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এটিকে বিশেষ কোনো উপলক্ষ উদযাপনের একটি স্মরণীয় উপায় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে অনেকেই আবার এ ক্ষেত্রে রেলওয়ের নিয়ম মানা হয়েছে কিনা সে প্রশ্ন তুলেছেন।
ভিডিওটি শুরু হয় একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের দৃশ্য দিয়ে, যা পরে কোচের করিডোর বা ভেতরের যাতায়াতের পথ দিয়ে ভেতরের দিকে এগিয়ে যায়। ক্যামেরা যখন একটি নির্দিষ্ট কুপ’এর কাছে পৌঁছায়, তখন সেটির প্রবেশপথটি গোলাপী রঙের পুঁতির পর্দা দিয়ে আলাদাভাবে নজর কাড়ে, যা হার্ট বা হৃদয় আকৃতির কাট-আউট দিয়ে সাজানো ছিল। ভেতরে কামরাটিকে একটি সাধারণ ট্রেনের কামরার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা দেখাচ্ছিল। লাল এবং সাদা রঙের বেলুন ছাদটিকে ঢেকে রেখেছিল, আর মেঝে জুড়ে ছড়ানো ছিল গোলাপের পাপড়ি। তাজা ফুলের তোড়া এবং গোলাপ, গাঁদা ও রজনীগন্ধা দিয়ে তৈরি মালা দেওয়াল ও জানালাগুলোকে সুশোভিত করে তুলেছিল। দেয়ালে লেখা ছিল ‘আই লাভ ইউ’।
ভাইরাল ভিডিওতে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, যাত্রীদের এভাবে বিস্তারিতভাবে রেলের কোচ সাজানোর অনুমতি আছে কি না। বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং বেলুন, কাগজ ও ফুলের মতো সাজসজ্জার সামগ্রী আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না বা রেলের নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী রসিকতা করে এই কোচটির নাম দিয়েছেন ’সুহাগরাত এক্সপ্রেস’ বা ’হানিমন অন হুইলস’। চলন্ত ট্রেনে এই ধরনের ব্যবস্থার ব্যবহারিকতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিম এবং কৌতুকের বন্যা বয়ে গেছে।
তবে রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কামরাটি সাজানোর ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়নি। তাদের মতে, যেহেতু যাত্রী ফার্স্ট এসি কেবিনের দুটি বার্থই বুক করেছিলেন, তাই কামরাটি কার্যকরভাবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যই সংরক্ষিত ছিল। কর্মকর্তারা আরও যোগ করেছেন যে, এই সাজসজ্জার ফলে রেলের সম্পত্তির কোনো ক্ষতি হয়নি বা ট্রেন পরিচালনায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি এবং এই ধরনের ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই।
'রাহাত রুম ডেকোরেশন' কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবিনটি জালনার একটি দম্পতির জন্য বুক করা হয়েছিল। তারা জানান, দম্পতি যখন গাড়ি করে ঔরঙ্গাবাদ থেকে জালনা রেলওয়ে স্টেশনে যাচ্ছিলেন, তখন তাদের টিম আগেভাগেই ট্রেনের কামরাটি সাজিয়ে রেখেছিল।
নিরাপত্তার স্বার্থে নবদম্পতির পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও অনেকে তাদের শুভকামনা জানিয়েছেন।




