• ই-পেপার

বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী-সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে নিহত ৩০

চলতি পথে হানিমুন!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
চলতি পথে হানিমুন!
সংগৃহীত ছবি

হানিমুন নিয়ে অনেকের অনেক রকম পরিকল্পনা থাকে। বিয়ের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ও একান্তে সময় কাটাতে নবদম্পতি তাদের পছন্দের কোনো জায়গায় বেড়াতে যান। অনেক হোটেলে হানিমুন স্যুইট থাকে। তবে ভারতের মহারাষ্ট্রের জালনা এলাকার এক দম্পতির ভাবনা ছিল ভিন্ন। তারা চেন্নাইগামী একটি ট্রেনের প্রথম শ্রেণির এসি কেবিনকেই বদলে নিয়েছিলেন হানিমুন স্যুইটে। 

মহারাষ্ট্রের সাজসজ্জা প্রতিষ্ঠান 'রাহাত রুম ডেকোরেশন' নবদম্পতির হয়ে আগে থেকে বুক করা ট্রেনটির একটি কামরাকে হানিমুন স্যুইটে বদলে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পোস্ট এক ভিডিও রীতিমত ভাইরাল। অনেকেই অভিনব এই দুর্দান্ত এবং রোমান্টিক ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এটিকে বিশেষ কোনো উপলক্ষ উদযাপনের একটি স্মরণীয় উপায় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে অনেকেই আবার এ ক্ষেত্রে রেলওয়ের নিয়ম মানা হয়েছে কিনা সে প্রশ্ন তুলেছেন।

ভিডিওটি শুরু হয় একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের দৃশ্য দিয়ে, যা পরে কোচের করিডোর বা ভেতরের যাতায়াতের পথ দিয়ে ভেতরের দিকে এগিয়ে যায়। ক্যামেরা যখন একটি নির্দিষ্ট কুপ’এর কাছে পৌঁছায়, তখন সেটির প্রবেশপথটি গোলাপী রঙের পুঁতির পর্দা দিয়ে আলাদাভাবে নজর কাড়ে, যা হার্ট বা হৃদয় আকৃতির কাট-আউট দিয়ে সাজানো ছিল। ভেতরে কামরাটিকে একটি সাধারণ ট্রেনের কামরার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা দেখাচ্ছিল। লাল এবং সাদা রঙের বেলুন ছাদটিকে ঢেকে রেখেছিল, আর মেঝে জুড়ে ছড়ানো ছিল গোলাপের পাপড়ি। তাজা ফুলের তোড়া এবং গোলাপ, গাঁদা ও রজনীগন্ধা দিয়ে তৈরি মালা দেওয়াল ও জানালাগুলোকে সুশোভিত করে তুলেছিল। দেয়ালে লেখা ছিল ‘আই লাভ ইউ’।

ভাইরাল ভিডিওতে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, যাত্রীদের এভাবে বিস্তারিতভাবে রেলের কোচ সাজানোর অনুমতি আছে কি না। বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং বেলুন, কাগজ ও ফুলের মতো সাজসজ্জার সামগ্রী আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না বা রেলের নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী রসিকতা করে এই কোচটির নাম দিয়েছেন ’সুহাগরাত এক্সপ্রেস’ বা ’হানিমন অন হুইলস’। চলন্ত ট্রেনে এই ধরনের ব্যবস্থার ব্যবহারিকতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিম এবং কৌতুকের বন্যা বয়ে গেছে।

তবে রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কামরাটি সাজানোর ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়নি। তাদের মতে, যেহেতু যাত্রী ফার্স্ট এসি কেবিনের দুটি বার্থই বুক করেছিলেন, তাই কামরাটি কার্যকরভাবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যই সংরক্ষিত ছিল। কর্মকর্তারা আরও যোগ করেছেন যে, এই সাজসজ্জার ফলে রেলের সম্পত্তির কোনো ক্ষতি হয়নি বা ট্রেন পরিচালনায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি এবং এই ধরনের ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। 

'রাহাত রুম ডেকোরেশন' কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবিনটি জালনার একটি দম্পতির জন্য বুক করা হয়েছিল। তারা জানান, দম্পতি যখন গাড়ি করে ঔরঙ্গাবাদ থেকে জালনা রেলওয়ে স্টেশনে যাচ্ছিলেন, তখন তাদের টিম আগেভাগেই ট্রেনের কামরাটি সাজিয়ে রেখেছিল। 

নিরাপত্তার স্বার্থে নবদম্পতির পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও অনেকে তাদের শুভকামনা জানিয়েছেন।

মেজাজ হারিয়ে দলীয় কর্মীদের পেটালেন মমতা

অনলাইন ডেস্ক
মেজাজ হারিয়ে দলীয় কর্মীদের পেটালেন মমতা
সংগৃহীত ছবি

মেজাজ হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের দলের কর্মীকেই মারলেন সপাটে চড়। গত রবিবার (৫ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ওই দিনই বারুইপুরে ঘটনাস্থলে যেতে চেয়েছিলেন মমতা। কিন্তু বারুইপুরে যাওয়া ঠেকাতে তাকে একপ্রকার নজরবন্দি করে ফেলে রাজ্যের বিজেপি সরকার। তার কালীঘাটের বাসভবন ঘিরে ফেলে পুলিশ। খবর ইন্ডিয়া টুডে

বুধবার (৮ জুলাই) রাজ্য সরকারের ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে পথে নেমেছিল কালীঘাট তৃণমূলের ছাত্র-যুবারা। পথে বিজেপির একটি মিছিল মুখোমুখি হয়ে যাওয়ায় ছাত্র-যুবাদের মিছিল ঘিরে হাজরা চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে হাজরার কাছে অন্য একটি মিছিল সেখানে ঢুকে পড়ে। ওঠে ‘চোর চোর’ ধ্বনি। চলে ‘মাছ চোর’ গান। এর ফলেই অশান্তি শুরু হয়। হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন কালীঘাট তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীরা। তৃণমূলের অভিযোগ, এই তাণ্ডবের নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি। এভাবে মিছিলে ঢুকে পড়ার অর্থ আদালত অবমাননা। 

চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে মিছিলে শেষে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেক কর্মী। পরে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান কর্মীরা। ফলে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতার বাড়ির সামনেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। সেই সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজেই ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে নামেন মমতা। দুই হাতে সবাইকে সরতে ইঙ্গিত করেন।

কিন্তু তার পরও চরম বিশৃঙ্খলা চলছিল। ফোনের ক্যামেরা হাতে নিয়ে অনেকেই সরতে চাননি। ভিড়ের চাপে সেখানেও অসুস্থ হয়ে পড়েন আরও অনেক কর্মী। তাদের গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তীব্র হয়। এর পরই মেজাজ হারান মমতা। প্রথমে মাইক হাতে ভিড় সামলাচ্ছিলেন তিনি। ভিড় সরাচ্ছিলেন। সেই সময় কমলা টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তির গালে চড় মারতে দেখা যায় মমতাকে।

সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তিও একজন তৃণমূলকর্মী। এরপর আরো বেশ কয়েকজন কর্মীর পিঠেও থাপ্পড় মারতে দেখা যায় মমতাকে। তবে কী কারণে তিনি এভাবে চড়াও হলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

উপসাগরে ৬ হাজার নাবিক আটকা

অনলাইন ডেস্ক
উপসাগরে ৬ হাজার নাবিক আটকা
রয়টার্স ছবি

উপসাগরীয় অঞ্চলে শত শত জাহাজে কর্মরত প্রায় ৬ হাজার নাবিক এখনো আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ। তিনি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন ও উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন।

গত দুই দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী একাধিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে ডোমিঙ্গেজ বলেন, এসব হামলায় নিরীহ নাবিকদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

নাবিকদের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করার কারণে কোনো নাবিকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়া উচিত নয়।’

পতাকাবাহী রাষ্ট্র, জাহাজের মালিক ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইএমও প্রধান বলেন, ‘নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এড়িয়ে চলা উচিত।’

ডোমিঙ্গেজ আরো বলেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো উপসাগরে আটকে থাকা প্রায় ৬ হাজার নাবিকের মধ্যে আগে থেকেই থাকা ভয়, অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের সঙ্গে ন্যাটোর টানাপোড়েন, হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের

অনলাইন ডেস্ক
গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের সঙ্গে ন্যাটোর টানাপোড়েন, হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের
রয়টার্স ছবি

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে আবারও গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং ডেনমার্ক তার সার্বভৌম ভূখণ্ড রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তুরস্কের রাজধানী আংকারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের নয়, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত।’

তিনি আরো দাবি করেন, ‘ইউরোপের এ অবস্থানই ন্যাটোর সঙ্গে তার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’

মার্কিন সংবাদ সংস্থা দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের পাশে বসে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের জন্য একটি বড় বিষয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ডেনমার্কের জন্য নয়।’

তবে এর জবাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আমরা জানি। কিন্তু আমাদের অবস্থানও একইভাবে পরিষ্কার।’

গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই বিক্রির জন্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। সবাইকে আমাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে।’

ডেনমার্ক তার ভূখণ্ড রক্ষা করবে কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘অবশ্যই আমরা ডেনমার্কের রাজ্যকে রক্ষা করব।’

তিনি ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতি (আর্টিকেল-৫) স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, কোনো মিত্র দেশের ওপর হামলা হলে সবাইকে একসঙ্গে প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে এবং গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য।

পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং একটি ‘ভালো প্রক্রিয়া’ এগোচ্ছে।

এদিকে কূটনৈতিক সূত্রের মতে, চলমান এই আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, খনিজ সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আর্কটিক অঞ্চলে ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার প্রেক্ষাপটে আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতিও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে ইউরোপীয় কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের প্রতিরক্ষার বিষয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সংশয় ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতি ‘আর্টিকেল-৫’ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।