• ই-পেপার

হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াল বাংলাদেশ

সৌদি-আর্জেন্টিনা ম্যাচের সেই বিতর্কিত রেফারির হাতে বিশ্বকাপ ফাইনাল

ক্রীড়া ডেস্ক
সৌদি-আর্জেন্টিনা ম্যাচের সেই বিতর্কিত রেফারির হাতে বিশ্বকাপ ফাইনাল

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামী রবিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় শিরোপা নির্ধারণী মহারণে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন স্লোভেনিয়ার অভিজ্ঞ রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। আর তার এই নিয়োগ ঘিরেই ফুটবলবিশ্বে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা, সামনে এসেছে মাঠ ও মাঠের বাইরের কিছু পুরোনো বিতর্ক। আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস খবরটি নিশ্চিত করেছে।

আর্জেন্টাইন সমর্থকদের জন্য ভিনচিচ নামটা খুব একটা সুখকর নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সেই ঐতিহাসিক ও অপ্রত্যাশিত ২-১ গোলের পরাজয়ের ম্যাচটিতে রেফারির দায়িত্বে ছিলেন এই স্লোভেনিয়ান। কাতার বিশ্বকাপের ওই ম্যাচের পর আলবিসেলেস্তেরা আর কোনো ম্যাচ হারেনি। ফলে, ফাইনালের মঞ্চে আবারও তাকে দেখে কিছুটা হলেও নড়েচড়ে বসছেন মেসি-বাহিনী।

৪৬ বছর বয়সী স্লাভকো ভিনচিচ ২০১০ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইউরোপের অন্যতম অভিজ্ঞ রেফারি হিসেবে বেশ কিছু হাইপ্রোফাইল ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার ঝুলিতে। ২০২৩ উয়েফা নেশনস লিগে স্পেন-ইতালি সেমিফাইনাল এবং ২০২৪ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটিও সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করেছিলেন তিনি।

তবে মাঠের দক্ষতার চেয়েও ভিনচিচকে নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তার অতীতের একটি অন্ধকার অধ্যায় ঘিরে। ২০২০ সালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার একটি কটেজে পতিতাবৃত্তি, মাদক ও অস্ত্র পাচার চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের বড় অভিযানে আটক হয়েছিলেন তিনি। ওই অভিযানে নয়জন নারী, ২৬ জন পুরুষসহ বিপুল পরিমাণ কোকেন, আগ্নেয়াস্ত্র, বুলেটপ্রুফ ভেস্ট ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছিল।

শুরু থেকেই অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন ভিনচিচ। তার দাবি ছিল, তিনি কেবল একটি মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলেন এবং কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। কথিত পতিতাবৃত্তি চক্রের মূল হোতা তিয়ানা ম্যাকসিমোভিচের সঙ্গে একই টেবিলে বসা থাকায় তাকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সেই সময় স্লোভেনিয়া ফুটবল ফেডারেশনও ভিনচিচের পাশে দাঁড়িয়ে একে ‘ভুল সময়ে ভুল জায়গায়’ উপস্থিত থাকার একটি দুর্ভাগ্যজনক ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে আখ্যা দেয়। সেই বিতর্ক পেছনে ফেলে তিনি নিয়মিতই বড় ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আসছেন।

আগামী রবিবারের ফাইনালে ভিনচিচের সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তার স্বদেশি তোমাজ ক্লানচনিক ও আন্দ্রাজ কোভাচিচ। আর চতুর্থ রেফারি হিসেবে থাকবেন জর্ডানের আধহাম মাখাদমেহ। এখন দেখার বিষয়, মেগা ফাইনালের তীব্র চাপ সামলে মাঠের রেফারি হিসেবে কতটা সফল হতে পারেন বিতর্কিত এই স্লোভেনিয়ান। 
 

খেলোয়াড়দের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে : সালাউদ্দিন

ক্রীড়া ডেস্ক
খেলোয়াড়দের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে : সালাউদ্দিন
ছবি : বাসস

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের। ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও ব্যাটারদের একই ভুলের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তিনি বলেছেন, ভুল থেকে শিক্ষা নিতে না পারায় ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি হয়ে আছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। 

গতকাল বুলাওয়েতে সাংবাদিকদের সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রতি ম্যাচ জয়ের জন্য খেলতে নামি। তবে নির্দিষ্ট কিছু বোলারের বিপক্ষে আমাদের ব্যাটারদের আরও কৌশলগত উন্নতি করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বারবার একই ভুল করছি। কিন্তু ভুল করার পরও আমরা শিখছি না। আমাদের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।’

প্রায় এক মাসের সফরে জিম্বাবুয়েতে আছে বাংলাদেশ দল। তার পরও সেখানকার পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে না পারায় প্রশ্ন তোলেন সালাউদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে ২০ থেকে ২৫ দিন ধরে আছি। এখানকার পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা জরুরি। তার পরও যদি আমরা বলি, আমরা মানিয়ে নিতে পারিনি, তাহলে সেটা ভালো লক্ষণ না। ব্যাটারদের যত দ্রুত সম্ভব এই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে হবে।’

সালাউদ্দিন বলেন, ‘টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ থেকেই আমরা এনগারাভা ও মুজারাবানিকে ভালোভাবে সামলাতে পারছি না। পুরো সফর জুড়ে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে তারা। এই দুই পেসারকে কিভাবে সামলাতে হবে, সে বিষয়ে আমাদের আরও ভালোভাবে পরিকল্পনা করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জিম্বাবুয়ের দুই বোলার বেশ লম্বা। যেকোন উইকেট থেকে তারা অতিরিক্ত বাউন্স আদায় করে নিতে পারে। পরের ম্যাচের আগে আমাদের মূল চিন্তা হওয়া উচিত, এই দুজন পেসারকে কিভাবে সামলানো যায়।’

ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডারকে ‘মূর্খ’ বললেন রোমেরো

ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডারকে ‘মূর্খ’ বললেন রোমেরো
গ্যারি নেভিলকে মুখেও জবাব দিয়েছেন রোমেরো। ছবি : রয়টার্স

মাঠে জবাব দেওয়ার পরেও যেন মনে শান্তি পাচ্ছিলেন না ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। তা না হলে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর গ্যারি নেভিলকে মুখে জবাব দিতে না আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার। ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডারকে মুর্খ বলে সম্বোধন করেছেন রোমেরো।

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর ডি স্পোটর্সকে রোমেরো বলেছেন, ‘আশা করি, যখন অবসর নেব, তখন নেভিলের মতো এতটা মূর্খ হবো না। আমি এখানে কোনো খেলোয়াড় বা অন্য কারও সমালোচনা করব না। সবাই নিজের সেরাটা দিতেই মাঠে নামে। এরপর  ভালো বা খারাপ হতে পারে। আবার ফাইনালে উঠতে পেরে ও ইতিহাস তৈরি করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’

 

নেভিলের মন্তব্য নিজেদের গায়ে লেগেছিল জানিয়ে রোমেরো বলেছেন, ‘বেশ গায়ে লেগেছিল আমাদের। কারণ বড্ড বেশি কথা হচ্ছিল। খেলা শুরুর আগেই ইংল্যান্ডে লোকেরা বড্ড বেশি কথা বলে। এ জন্য তাদের আমরা শুভেচ্ছা জানাই। এখন নিশ্চয়ই তারা খুব খুশি!’

তো, নেভিল কি এমন কথা বলেছিলেন যে, রোমারোদের গায়ে লেগেছিল। রোমেরোদের বলতে তার সঙ্গী লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে নিয়ে খোঁচা মেরেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার। আর্জেন্টিনার দুই সেন্টারব্যাকের জুটি নিয়ে নেভিল বলেন, ‘তাদের দেখে এই মনে হয় অবিশ্বাস্য, আবার একটু পরই হাস্যকর লাগে।’

নেভিলের এমন মন্তব্যের কারণ দুই সেন্টারব্যাক রোমেরো-মার্তিনেজ যেমন গোল হজম করেছেন তেমনি গোল করে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচও জিতিয়েছেন। ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডারকে নিয়ে মার্তিনেজ বলেছেন, ‘আমরা এসবে অভ্যস্ত। তারা আমাদের নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে আর আমরা মাঠেই জবাব দেই।’

বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ড্রিবলিংয়ের রেকর্ড আর্জেন্টাইন মহাতারকার

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ড্রিবলিংয়ের রেকর্ড আর্জেন্টাইন মহাতারকার
ছবি : রয়টার্স

আর্জেন্টিনার মহাতরকার লিওনেল মেসি সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ড্রিবলিংয়ের রেকর্ড আর্জেন্টাইন মহাতারকার। এই অনন্য রেকর্ড গড়ে ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার এই ৯টি সফল ড্রিবলিং প্রমাণ করে যে বয়স কেবলই একটি সংখ্যা।

 

এই ম্যাচে করা ৯টি ড্রিবলিং বিশ্বকাপের যেকোনো এক ম্যাচে যেকোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।  মেসির দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারে যেকোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সফল ড্রিবলিংয়ের রেকর্ডও এটি।

৩৯ বছর বয়সে এসেও বিশ্বের অন্যতম সেরা রক্ষণভাগের বিরুদ্ধে এই গতি ও দক্ষতার প্রদর্শন করেছেন তিনি।

আগামী সোমবার ২০ জুলাই  ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। মেসির এই ফর্ম বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার মিশনে আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি।

হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াল বাংলাদেশ | কালের কণ্ঠ