• ই-পেপার

বাংলাদেশের হারে ভারতও পিছিয়ে পড়ল

জিম্বাবুয়ে সফরে বদলে যাচ্ছে ভারতের হেড কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
জিম্বাবুয়ে সফরে বদলে যাচ্ছে ভারতের হেড কোচ
ছবি : সংগৃহীত

সময়টা ভালো যাচ্ছে না ভারতীয় ক্রিকেট দলের। লাগাতার টি-টোয়েন্টি সিরিজে একের পর এক হার দেখছে দলটি। কয়েক দিন আগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল নতুন অধিনায়ক। তাতে কাটেনি হারের ভাগ্য। প্রথমে আয়ারল্যান্ড কাছে সিরিজ হার। এর পরই ইংল্যান্ড সিরিজে টানা দুই হার। যেখানে আবার টি-টোয়েন্টিতে ইংলিশদের বিপক্ষে দেখল ৭৫ রানে অলআউট হয়ে লজ্জাজনক হার। এতেই পরিবর্তন হচ্ছে প্রধান কোচের আসন। ফের দ্বৈত কোচিংয়ের পথে হাঁটতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই)। 

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে ব্যস্ত সূচিতে ঠাসা ভারতীয় ক্রিকেট দল। তাই প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকে বিশ্রাম দিয়ে জিম্বাবোয়ে সিরিজ এবং জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে টিম ইন্ডিয়ার কোচের ভূমিকায় থাকবেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্সের প্রধানকে এর আগেও এই ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। 

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ এক দিনের ম্যাচের সঙ্গে জিম্বাবোয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচের মধ্যে পার্থক্য মাত্র চার দিনের। ১৯ জুলাই শেষ এক দিনের ম্যাচ। ২৩ জুলাই শুরু জিম্বাবোয়ে সিরিজ। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ড সফরের পর বিশ্রাম দেওয়া হবে গম্ভীরকে। ব্যাটিং কোচ হিসেবে সাবেক ক্রিকেটার ঋষিকেশ কানিতকার এবং সুনীল যোশী বোলিং কোচের সাথে যোগ দেবেন লক্ষ্মণের।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় সিরিজে ভারতীয় এ দলের সঙ্গে ছিলেন দুজন। সামনে ঠাসা সূচি। এশিয়ান গেমসের পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সাদা বলের সিরিজ। তারপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে হোম সিরিজ।

উল্লেখ্য, আয়ারল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারের পর ইংল্যান্ড সিরিজে জঘন্য শুরু ভারতের। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ০-২-এ পিছিয়ে পড়ে টিম ইন্ডিয়া। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার পর, পরপর দুই ম্যাচে হার। সিরিজ হারের মুখে ভারত। ড্র করতে শেষ দুটো ম্যাচ জিততেই হবে। যেভাবে খেলছে ভারতীয় দল, এটা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। মঙ্গলবার দ্বিতীয় টি-২০ তে ২০১ রান তাড়া করতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ভারতীয় ব্যাটিং। ৭৬ রান অল আউট। ১২৫ রানে হার। টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হার। মাত্র চারজন ব্যাটার দুই অক্ষরের রানে পৌঁছতে পেরেছে। তারমধ্যে সর্বোচ্চ রান ১৩। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বিশ্বসেরা ভারত বিদেশের মাটিতে নাস্তানাবুদ। 

আর্জেন্টিনাকে হারানোর ‘হুংকার’ দিলেন সুইজারল্যান্ড কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনাকে হারানোর ‘হুংকার’ দিলেন সুইজারল্যান্ড কোচ
আর্জেন্টিনাকে হারানোর হুংকার দিলেন সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন। ছবি : রয়টার্স

পরিসংখ্যান নিজেদের পক্ষে নেই। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৭ ম্যাচ খেলে একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি তারা। তাই বলে আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না সুইজারল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে লিওনেল মেসিদের হারানোর ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন কোচ মুরাত ইয়াকিন।

কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর মুরাত বলেছেন, ‘বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলতে নামছি। আমাদের জন্য এটি একটি অসাধারণ সুযোগ। তবে আর্জেন্টিনা অজেয় নয়। অবশ্যই, তাদের হারানোর লক্ষ্যে নামব। দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর সম্পর্কে আমরা ভালোভাবেই অবগত।’

আর্জেন্টিনার হারতে হারতে জয় পাওয়ার পারফরম্যান্সই হয়তো আত্মবিশ্বাসী করছে সুইজারল্যান্ডকে। কেননা নকআউটের সর্বশেষ দুই ম্যাচে বেশ কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এর থেকেও হয়তো বড় প্রেরণা সুইজারল্যান্ডের নিজেদের পারফরম্যান্স। 

 

সর্বশেষ টানা ৫ বিশ্বকাপ খেললেও কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পায়নি সুইজারল্যান্ড। শেষ আটের পরিসংখ্যান খুঁজতে হলে ৭২ বছর পেছনে যেতে হবে। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে সুইসরা। সেই খরা এবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে কাটিয়েছে তারা। টানা পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ১৯তম দলটি। 

গুরত্বপূর্ণ জয়টি এসেছে আজ সকালে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে। প্রতিপক্ষদের টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র ছিল। 

আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সমীহও ফুটে উঠেছে মুরাতের কণ্ঠে। তিনি বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত এক দল। তাদের দলে বেশ কিছু দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছে, একজন ভালো কোচও আছেন। তাদের দলে বিশ্বের সেরা ফুটবলার মেসিও আছে। তবে আমরা জানি তারা কীভাবে খেলে।’

কোয়ার্টার ফাইনাল

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কখনো হারেনি আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কখনো হারেনি আর্জেন্টিনা
শেষ আটে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের যাত্রাটা গতকাল আটলান্টায় শেষ হতে পারত আর্জেন্টিনার। সেটা হয়নি। লিওনেল মেসি-এনজো ফার্নান্দেজদের অবিশ্বাস্য কামব্যাকের কারণে। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আলবিসেলেস্তারাই যে শেষ পর্যন্ত হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছেন।

৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে তাই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার মিশনে এবার তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। যারা আজ সকালে ৭২ বছর পর প্রথমবারের মতো শেষ আটে সুযোগ পেয়েছে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে তারা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে কোনো দল গোল করতে না পারলে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়। ভাগ্যের খেলায় ৪-৩ ব্যবধানে বাজিমাত করে সুইসরা।

তবে সব সময় তো আর ভাগ্যের জোরে জয় মিলবে না। শেষ আটে যদি আবার প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা হয়, তাহলে জয়টা আরো কঠিন। কেননা তিনবারের বিশ্বকাপজয়ীদের কখনো হারাতে পারেনি তারা। এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে দুই দলের সাক্ষাৎ হয়েছে। তাতে সুইসদের সাফল্য বলতে ২ ড্র। বাকি ৫ ম্যাচেই পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে তারা।

১৯৯০ ও ২০০৭ সালের টানা দুই দেখায় ড্র করেছে সুইজারল্যান্ড। দুই ম্যাচের ফল ছিল সমান ১-১। বিপরীতে ৫ হারের দুটি বিশ্বকাপে। তাদের প্রথম সাক্ষাৎও হয় ফিফার টুর্নামেন্টেই। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে প্রথম দেখায় ২-০ ব্যবধানের জয় পায় আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ ১-০ গোলের জয়টিও পায় ২০১৪ বিশ্বকাপে। 

দুই দলের ১২ বছরের অপেক্ষা আবারও বিশ্বকাপ দিয়ে ফুরাচ্ছে। ১৯৮০ সালের প্রীতি ম্যাচে বড় জয়টি পেয়েছে আর্জেন্টিনা। সেবার সুইজারল্যান্ডকে ৫-০ গোলে হারায় আকাশী-নীলরা। অন্য দিকে ১৯৮৪ সালের ২-০ ব্যবধানের বিপরীতে ২০১২ সালে ৩-১ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। সবমিলিয়ে আর্জেন্টিনার ১৫ গোলের বিপরীতে ৪ বার জালের দেখা পেয়েছে সুইজারল্যান্ড।

অতীত পরিসংখ্যান তাই লিওনেল মেসিদের পক্ষেই কথা বলছে! তবে সময়টা ভালো কাটছে না আলবিসেলেস্তাদের। কেননা নকআউটের দুই ম্যাচেই জয়টা পেয়েছে হারতে হারতে।

মনে হচ্ছিল দলকে ডুবালাম, পেনাল্টি মিস নিয়ে মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
মনে হচ্ছিল দলকে ডুবালাম, পেনাল্টি মিস নিয়ে মেসি
পেনাল্টি মিস করার পর হতাশ মেসি। ছবি : রয়টার্স

ভাগ্য ভালো। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা হারতে হয়নি। অন্যথা নিজেকে কিভাবে মাফ করতেন লিওনেল মেসি। ২১ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরানোর সুযোগ পেয়ে যে পেনাল্টি মিস করে বসলেন তিনি। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের স্পটকিক ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের।

পেনাল্টি মিস করার পর তার অনুভূতি কেমন ছিল সেটাই ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন মেসি। তার মনে হয়েছিল, দলকেই ডোবালেন তিনি। মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী বলেছেন, ‘সত্যি বলতে এটা স্বস্তির, সবার জন্যই অনেক বড় স্বস্তির। এইমাত্র যেমনটা বললাম, পেনাল্টি মিস করায় নিজের ওপর খুব রাগ হচ্ছিল। যেভাবে শটটা নিয়েছিলাম। আমার মনে হচ্ছিল, এত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পুরো দলকে ডুবালাম।’

শেষে অবশ্য প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ পান মেসি। ৮৩ মিনিটে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান তিনি, ২-২ করে। ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর প্রথম গোলটি সহায়তাও করেন ফুটবল জাদুকর। পরে এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোল করলে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখেন তারা।

তাই ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেসি বলেছেন, ‘ভাগ্য ভালো, শেষ মুহূর্তে ঈশ্বর আমার জন্য বিশেষ কিছু রেখেছিলেন। সমতাসূচক গোলটি করতে পেরেছিলাম। এটা আমাদের জন্য যেমন স্বস্তির ছিল, তেমনি বিশাল আনন্দের মুহূর্তও। বিশেষ করে সেইসব মানুষের জন্য, যারা আবারও আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং প্রতিদিন দেখিয়ে দিয়েছে যে একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে আমাদের পরিচয় কী এবং এটা কতটা গর্বের। আর কিছু না, আমি সত্যিই খুব খুশি।’ 

বাংলাদেশের হারে ভারতও পিছিয়ে পড়ল | কালের কণ্ঠ