• ই-পেপার

জিম্বাবুয়ে সফরে বদলে যাচ্ছে ভারতের হেড কোচ

নরওয়ের বিপক্ষে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার সম্ভাবনা ইংলিশ তারকার

ক্রীড়া ডেস্ক
নরওয়ের বিপক্ষে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার সম্ভাবনা ইংলিশ তারকার
ইংল্যান্ডের ডেক্লান রাইস রিস জেমসকে উঠতে সাহায্য করছেন। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের মহারণে আগামীকাল শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনাল। বোস্টনে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স এবং মরক্কো। আগামী ১২ জুলাই নরওয়ের বিপক্ষে সেমিতে যাওয়া লক্ষ্যে মাঠে নামবে। নরওয়ের বিপক্ষে ইনজুরি কাটিয়ে ইংলিশদের সেরা রিস জেমসকে পাওয়ার আশা থ্রি লায়ন্স শিবিরের। 

ইনজুরির কারণে চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের শেষ তিনটি ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি চেলসির এই তারকা রাইট-ব্যাক। এমনকি শেষ ষোলোর নকআউট পর্বে মেক্সিকোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৩-২ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়ের ম্যাচেও দলের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্টের ‘বিশ্বকাপের ইনজুরি ট্র্যাকার নিয়ে তৈরি এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ঘানার বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ার পর থেকেই পুনর্বাসনে আছেন জেমস। তার এই অনুপস্থিতি ইংল্যান্ড শিবিরে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ স্কোয়াডে থাকা তার বিকল্প রাইট-ব্যাকরাও বর্তমানে ইনজুরি সমস্যায় ভুগছেন। রক্ষণভাগের এই সংকট টমাস টুখেলের দলের জন্য বড় একটি ধাক্কা।

ইংল্যান্ড ম্যানেজার টমাস টুখেল আশা করছেন, শনিবার নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালের ম্যাচের আগে রিস জেমস খেলার জন্য ফিট হয়ে উঠবেন।

এদিকে ইংলিশ শিবিরে কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, জেমসের চোটের উন্নতি হচ্ছে। আগামী শনিবার নরওয়ের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচকে সামনে রেখে জোরকদমে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াই চালাচ্ছেন তিনি। দলের মেডিকেল টিমও তাকে মাঠে ফেরাতে সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। কোয়ার্টার ফাইনালের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারকে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে থ্রি লায়ন্স শিবির।

পর্তুগাল ও আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ে টিকিটের দামে ধস

ক্রীড়া ডেস্ক
পর্তুগাল ও আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ে টিকিটের দামে ধস
ছবি : টকস্পোর্টস

শেষ হয়েছে রাউন্ড অব ১৬-এর খেলা। কোয়ার্টারে পৌঁছে গেছে জয়ী ষোলো দল। আগামীকাল থেকে শুরু হবে সেমিতে যাওয়ার লড়াই। তবে শেষ ষোলো থেকে সিআর সেভেনের দল পর্তুগাল ও আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ে ধস নেমেছে টিকিটের দামে। এক ধাক্কায় টিকিটের মূল্য অনেকটাই কমে গিয়েছে বলে জানা গেছে। 

টিকিট বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘টিকপিকে’র অনুযায়ী, শুক্রবার স্পেন এবং বেলজিয়ামের মধ্যে দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য (গেট ইন প্রাইজ) ২৯৫০ মার্কিন ডলার থেকে কমে হয়েছে ১২০০। শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ গোলে হারের পর টিকিটের দাম কমে যায়। কোয়ার্টার ফাইনালে আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থাকলে টিকিটের তিন গুণ বেশি দাম উঠত বলেই ধারণা। কারণ স্থানীয় ফুটবল ফ্যানদের মধ্যে টিকিটের চাহিদা বাড়ত। 

পর্তুগালের বিদায়ও টিকিটের মূল্যে ধাক্কা খাওয়ার অন্যতম কারণ। স্পেনের জয় শুধু ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছিটকে দেয়নি, নকআউট পর্ব থেকে ছিটকে দিয়েছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ পর্তুগালকে। শেষ আটে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পর্তুগালের। রোনানদো এবং হোম টিমের উপস্থিতিতে আরো বাড়ত টিকিটের মূল্য। ফ্রান্স এবং মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়ে টিকিটের তেমন চাহিদা নেই। চার কোয়ার্টার ফাইনালের মধ্যে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে এই ম্যাচের টিকিট। ৯৮৯ মার্কিন ডলার থেকে টিকিট শুরু। প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটের ছাড়পত্র সংগ্রহ করেন কিলিয়ান এমবাপেরা। অন্যদিকে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টারে পৌঁছেছে মরক্কো। 

দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের মুখোমুখি স্পেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে শেষ আটে পৌঁছেছে স্পেন। এখন পর্যন্ত একমাত্র দল হিসেবে কোনো গোল হজম করেনি। তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি ইংল্যান্ড এবং নরওয়ে। দুই তারকা হ্যারি কেইন এবং আর্লিং হালান্ডের দ্বৈরথ দেখবে বিশ্ব। শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামবে আর্জেন্টিনা। চারটা কোয়ার্টার ফাইনাল ফক্সবোরোর জিলেট স্টেডিয়াম, ইনগলউডের সোফি স্টেডিয়াম, মায়ামি গার্ডেন্সে হার্ডরক স্টেডিয়াম এবং ক্যানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে হবে।

আর্জেন্টিনাকে হারানোর ‘হুংকার’ দিলেন সুইজারল্যান্ড কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনাকে হারানোর ‘হুংকার’ দিলেন সুইজারল্যান্ড কোচ
আর্জেন্টিনাকে হারানোর হুংকার দিলেন সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন। ছবি : রয়টার্স

পরিসংখ্যান নিজেদের পক্ষে নেই। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৭ ম্যাচ খেলে একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি তারা। তাই বলে আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না সুইজারল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে লিওনেল মেসিদের হারানোর ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন কোচ মুরাত ইয়াকিন।

কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর মুরাত বলেছেন, ‘বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলতে নামছি। আমাদের জন্য এটি একটি অসাধারণ সুযোগ। তবে আর্জেন্টিনা অজেয় নয়। অবশ্যই, তাদের হারানোর লক্ষ্যে নামব। দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর সম্পর্কে আমরা ভালোভাবেই অবগত।’

আর্জেন্টিনার হারতে হারতে জয় পাওয়ার পারফরম্যান্সই হয়তো আত্মবিশ্বাসী করছে সুইজারল্যান্ডকে। কেননা নকআউটের সর্বশেষ দুই ম্যাচে বেশ কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এর থেকেও হয়তো বড় প্রেরণা সুইজারল্যান্ডের নিজেদের পারফরম্যান্স। 

 

সর্বশেষ টানা ৫ বিশ্বকাপ খেললেও কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পায়নি সুইজারল্যান্ড। শেষ আটের পরিসংখ্যান খুঁজতে হলে ৭২ বছর পেছনে যেতে হবে। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে সুইসরা। সেই খরা এবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে কাটিয়েছে তারা। টানা পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ১৯তম দলটি। 

গুরত্বপূর্ণ জয়টি এসেছে আজ সকালে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে। প্রতিপক্ষদের টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র ছিল। 

আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সমীহও ফুটে উঠেছে মুরাতের কণ্ঠে। তিনি বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত এক দল। তাদের দলে বেশ কিছু দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছে, একজন ভালো কোচও আছেন। তাদের দলে বিশ্বের সেরা ফুটবলার মেসিও আছে। তবে আমরা জানি তারা কীভাবে খেলে।’

কোয়ার্টার ফাইনাল

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কখনো হারেনি আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কখনো হারেনি আর্জেন্টিনা
শেষ আটে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের যাত্রাটা গতকাল আটলান্টায় শেষ হতে পারত আর্জেন্টিনার। সেটা হয়নি। লিওনেল মেসি-এনজো ফার্নান্দেজদের অবিশ্বাস্য কামব্যাকের কারণে। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আলবিসেলেস্তারাই যে শেষ পর্যন্ত হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছেন।

৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে তাই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার মিশনে এবার তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। যারা আজ সকালে ৭২ বছর পর প্রথমবারের মতো শেষ আটে সুযোগ পেয়েছে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে তারা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে কোনো দল গোল করতে না পারলে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়। ভাগ্যের খেলায় ৪-৩ ব্যবধানে বাজিমাত করে সুইসরা।

তবে সব সময় তো আর ভাগ্যের জোরে জয় মিলবে না। শেষ আটে যদি আবার প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা হয়, তাহলে জয়টা আরো কঠিন। কেননা তিনবারের বিশ্বকাপজয়ীদের কখনো হারাতে পারেনি তারা। এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে দুই দলের সাক্ষাৎ হয়েছে। তাতে সুইসদের সাফল্য বলতে ২ ড্র। বাকি ৫ ম্যাচেই পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে তারা।

১৯৯০ ও ২০০৭ সালের টানা দুই দেখায় ড্র করেছে সুইজারল্যান্ড। দুই ম্যাচের ফল ছিল সমান ১-১। বিপরীতে ৫ হারের দুটি বিশ্বকাপে। তাদের প্রথম সাক্ষাৎও হয় ফিফার টুর্নামেন্টেই। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে প্রথম দেখায় ২-০ ব্যবধানের জয় পায় আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ ১-০ গোলের জয়টিও পায় ২০১৪ বিশ্বকাপে। 

দুই দলের ১২ বছরের অপেক্ষা আবারও বিশ্বকাপ দিয়ে ফুরাচ্ছে। ১৯৮০ সালের প্রীতি ম্যাচে বড় জয়টি পেয়েছে আর্জেন্টিনা। সেবার সুইজারল্যান্ডকে ৫-০ গোলে হারায় আকাশী-নীলরা। অন্য দিকে ১৯৮৪ সালের ২-০ ব্যবধানের বিপরীতে ২০১২ সালে ৩-১ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। সবমিলিয়ে আর্জেন্টিনার ১৫ গোলের বিপরীতে ৪ বার জালের দেখা পেয়েছে সুইজারল্যান্ড।

অতীত পরিসংখ্যান তাই লিওনেল মেসিদের পক্ষেই কথা বলছে! তবে সময়টা ভালো কাটছে না আলবিসেলেস্তাদের। কেননা নকআউটের দুই ম্যাচেই জয়টা পেয়েছে হারতে হারতে।