• ই-পেপার

মার্কিন হামলায় আইআরজিসি সদস্য নিহত

এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেছেন হেগসেথ

অনলাইন ডেস্ক
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেছেন হেগসেথ
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার (৮ জুন) তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার জন্য নির্ধারিত একটি বৈঠক বাতিল করেছেন। একজন ইসরায়েলি সূত্র রয়টার্সকে এই খবর জানিয়েছে। 

ওই বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। সূত্রটির মতে, তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি হলে তা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র আরো জানায়, ইসরায়েল সফরের সময় হেগসেথের সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেখানে ইরান ইস্যু আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হওয়ার কথা ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা এখন কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

তিনি জানান, তেহরানের সঙ্গে আর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রাখতে চান না। এদিকে ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি নিয়ে বাতিল হওয়া বৈঠক সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ন্যাটোর সদস্য তুর্কি দীর্ঘদিন ধরে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে আসছে। এ ছাড়া আঙ্কারা বারবার অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, তিনি তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিরোধী। এ বিষয়ে তিনি নিজের আপত্তির কথা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি হলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তার দাবি, ‘তুরস্কের আক্রমণাত্মক ইচ্ছা রয়েছে।’

এদিকে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার ঘোষণা দেন, ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি ন্যাটো মিত্র তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির আগ্রহও প্রকাশ করেন। তবে এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এবং ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ তুর্কি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। তা সত্ত্বেও মার্কিন আইনের কারণে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়টি এখনো আটকে রয়েছে।

মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান
সংগৃহীত ছবি

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর প্রদেশে একটি শক্তিশালী মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ দাবি করেছে বলে জানায় তুর্কি সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার ভোরে দেশটির খোরমুজ এলাকার আকাশে আইআরজিসির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং সেটি ভূপাতিত হয়। 

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনীর বিমান আগ্রাসনের’ জবাবে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ড্রোনটিকে সফলভাবে গুলি করে নামিয়েছে।

তার দাবি, ভোরের ওই অভিযানের সময় ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল।  

এর আগে আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। ওই হামলার পরই দ্বিতীয় মার্কিন ড্রোনটি ভূপাতিত করার দাবি করা হয়।

হরমুজে নতুন শাসনব্যবস্থার বিকল্প নেই : ইরান

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজে নতুন শাসনব্যবস্থার বিকল্প নেই : ইরান
সংগৃহীত ছবি

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন বাস্তবতা মেনে নিতেই হবে। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর কোনো পথ নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘প্রাথমিক জবাব’ হিসেবে এ অঞ্চলে থাকা ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসির ওই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় আজিজি স্পষ্ট করে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রকে স্বীকার করতেই হবে। এর বাইরে আর কোনো পথ নেই।’

ওয়াশিংটন পোস্টের বিরুদ্ধে ট্রাম্প মিডিয়ার মামলা খারিজ

অনলাইন ডেস্ক
ওয়াশিংটন পোস্টের বিরুদ্ধে ট্রাম্প মিডিয়ার মামলা খারিজ
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংবাদ সংস্থা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির আদালত। মানহানির অভিযোগে ৩.৮ বিলিয়ন (৩৮০ কোটি) ডলারের মামলাটি করে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের (টিএমটিজি)।

ওই মামালার রায়ে ফ্লোরিডার টাম্পাভিত্তিক মার্কিন জেলা বিচারক থমাস বারবার বলেন, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ইচ্ছাকৃতভাবে বা সত্যকে উপেক্ষা করে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছে—এমনটি প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত ও সুস্পষ্ট প্রমাণ ট্রাম্প মিডিয়া উপস্থাপন করতে পারেনি। ফলে আদালত ওয়াশিংটন পোস্টের পক্ষে সারসংক্ষেপ রায় দেন এবং ট্রাম্প মিডিয়ার আবেদন নাকচ করেন।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত রায় পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানান বিচারক।

এদিকে ২০২৩ সালে দায়ের করা মামলায় ট্রাম্প মিডিয়া অভিযোগ করেছিল, ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালিয়ে আসছে এবং ২০২৩ সালের ১৩ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।

প্রতিবেদনে ট্রাম্প মিডিয়ার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে অর্থায়ন সংগ্রহের প্রচেষ্টা নিয়ে বিভিন্ন দাবি করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কোনো জনপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মানহানির মামলা জিততে হলে প্রমাণ করতে হয় যে ‘অ্যাকচুয়াল ম্যালিস’ অর্থাৎ তথ্যটি মিথ্যা জেনেও বা সত্যতা যাচাইয়ে বেপরোয়া অবহেলা করে—সংবাদমাধ্যমটি তা প্রকাশ করেছে।

কিন্তু আদালতের মতে, এই অভিযোগে ট্রাম্প মিডিয়া সেই মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

রায়ের পর ওয়াশিংটন পোস্টের এক মুখপাত্র বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে তারা পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প মিডিয়া জানিয়েছে, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, ৩ বছর পর ওয়াশিংটন পোস্ট স্বীকার করেছে যে তাদের প্রতিবেদনের কিছু অংশ ভুল ছিল। তবে আমরা মনে করি, এসব মিথ্যা তথ্য মানহানিকর ছিল কি না, তা জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, মামলার তদন্ত চলাকালে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের মে মাসে ওয়াশিংটন পোস্ট ২০২৩ সালের ওই প্রতিবেদনের একটি সংশোধনী প্রকাশ করে।

সেখানে বলা হয়, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল ট্রাম্প মিডিয়া ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার ঋণ-রেফারেল ফি পরিশোধ করেছিল, কিন্তু পরবর্তী তদন্তে দেখা যায়, তথ্যটি সঠিক ছিল না।

তবে পত্রিকাটি দাবি করে, প্রকাশের সময়কার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প মিডিয়া মূলত ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে। যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয় হলেও আর্থিকভাবে এখনো লোকসানে রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল ১০ লাখ ডলারেরও কম।

এর আগে ট্রাম্প মিডিয়া দ্য গার্ডিয়ানের বিরুদ্ধেও একটি মানহানির মামলা করেছিল। তবে গত নভেম্বরে সেটিও আদালত খারিজ করে দেন।

পরে সংশোধিত অভিযোগ দাখিল করা হলেও চলতি বছরের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটি মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়।