পাকিস্তানের বিপক্ষে শুধু ব্যাটটাই না, লিটন দাসের অন্য সবকিছুও চলছে। উইকেটের পেছনেও দারুণ করছেন তিনি। তবে যেভাবে শিরোনামে আসছেন তাতে মনে হচ্ছে সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছেন স্লেজিংয়ে।
আজ তো সিলেটে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে যেন ‘বিরাট ফাডাফাডিই’ হলো লিটনের। এক সময় বাংলাদেশের উইকেটরক্ষকের কথার তোরণ থেকে বাঁচতে আম্পায়ারের সহায়তাও নিলেন রিজওয়ান। এর আগে মিরপুর টেস্টেও পাকিস্তানের ব্যাটারদের ভালোই স্লেজিং করেছেন লিটন।
তাদের মাঝে আজ কী কথা একচেঞ্জ হয়েছে সেটা ধরা পড়েছে স্টাম্প মাইকে। অবশ্য শুধু লিটন নন, নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিমরাও রিজওয়ানকে খেপিয়েছেন। বোলিংয়ের সময় প্রায়ই বোলারদের থামিয়ে দেওয়ার ‘সুনাম’ থাকা রিজওয়ানের আজ হয়তো সাইট স্ক্রিন নিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছিল। ঠিক তখনি লিটন ‘কি হলো? কি করছেন?’ রিজওয়ান ইশারা দিয়ে বলেন, ‘তাকিয়ে দেখ ওদিকে…।’ লিটন এবার বলেন, ‘প্রতি বলেই এমন করছেন, সব বলেই…।’ রিজওয়ানের উত্তর, ‘এরকম তো হচ্ছেই…!’
লিটনের উত্তর, ‘ওদিকে তাকানোর কি দরকার? ব্যাটিং করুন…!’ উত্তেজিত কণ্ঠে রিজওয়ান বলেন, ‘এটা কি তোমার কাজ?’ লিটনের উত্তর, ‘আপনি প্রতি বলেই ডিস্টার্ব করছেন…।’ এক পর্যায়ে আম্পায়ারের কাছে গিয়ে কিছু বলেন রিজওয়ান। পরে আম্পায়ার লিটন ও রিজওয়ানের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা মিটমাট করেন।
তবে স্লেজিং শেষ হয় না। তার মাত্রা আরো বেড়ে যায়। তাতে যোগ দেন শান্ত-মুশফিক। লিটন বলেন, ‘কিছু রান করেছে, এখন অভিনয় শুরু করে দেবে।’ শান্ত বলেন, ‘অতি অভিনয়ের জন্য পঞ্চাশ পয়সা কেটে রাখা হবে।’ স্লেজিং করার পরেও অবশ্য রিজওয়ানের মনোযোগ বিঘ্নিত করে তাকে আউট করা যায়নি। আগামীকাল সাজিদ খানকে সঙ্গে নিয়ে নতুন করে ব্যাটিং শুরু করবেন তিনি।
মাঠে দুজনের কী কথা হয়েছে সে বিষয়ে দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে শন টেইটের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে কী হয়েছে সেটা না জানলেও উপভোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার। তিনি বলেছেন, ‘জানি না কী বলেছে। তবে আমি উপভোগ করেছি। আমি তো অস্ট্রেলিয়ান। কী বলেছে বুঝিনি। তবে আমার মজা লেগেছে। আশা করব যেন মাত্রা না ছাড়ায়। মাঠে একটু আগ্রাসী মনোভাব তো থাকবেই। দুই দেশের সমর্থক থেকে শুরু করে সবার অনেক প্যাশন এই খেলা নিয়ে। তাই এসব ব্যাপার ভালোই লাগে।’



