মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত কালারাই বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরেই পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের জন্য এলাকাবাসীর কাছে প্রশংসিত। বিদ্যালয়টির চার পাশে সবুজ প্রকৃতি, পরিপাটি শ্রেণিকক্ষ, সুন্দর ফুলের বাগান এবং গোছানো পরিবেশ দেখে অনেকেই একে উপজেলার সীমান্ত এলাকার অন্যতম আকর্ষণীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বলে অভিহিত করেন।
বিদ্যালয়টিতে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকেও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর কোনো ঘাটতি নেই বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত বেঞ্চ, বই সংরক্ষণের ব্যবস্থা, পাঠদানের সরঞ্জামসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধাও রয়েছে। ফলে স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝেও বিদ্যালয়টি নিয়ে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল।
তবে সম্প্রতি বিদ্যালয়টিকে ঘিরে উঠেছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে ভাতের হোটেল ও থাকার ঘর হিসেবে। অভিযোগ রয়েছে, ওই কক্ষে রান্নাবান্নার সরঞ্জাম, খাট-বিছানা এবং ব্যক্তিগত ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রী রাখা হয়েছে। এমনকি মাঝে মাঝে সেখানে লোকজনের অবস্থানও দেখা যায় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের মতে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ এভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা শিক্ষা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
একাধিক অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়টি এত সুন্দর ও গোছানো হওয়ার পরও এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখতে হলে বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ শুধুমাত্র শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে শিক্ষা সচেতন মহল বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকার একটি সরকারি বিদ্যালয়কে ঘিরে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রশাসনের নজরদারি আরো বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করলে এ ধরনের অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম অক্ষুণ্ণ থাকে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনমুন বনিক বিষয়টি স্বীকার করেন বলেন, আমার স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা তার বাচ্চা নিয়ে এখানে থাকেন। বাচ্চাটা ছোট থাকায় কাজের মহিলাসহ বাচ্চা দেখাশোনা করেন এখানে। তিনি বলেন, যা হওয়ার হয়ে গেছে, দুই-একদিনের মধ্যে স্কুল থেকে সকল সরঞ্জাম সড়িয়ে স্বাভাবিক রাখা হবে। পরবর্তীতে আর এমন হবে না বলেন জানান তিনি।’
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর বলেন, ‘বিষয়টি সংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। খুঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ এভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা শিক্ষা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নির্দেশ দিয়েছেন। দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।’