ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ইয়ান বিশপের মতে, লিটন দাস যেদিন ব্যাটিং করেন সেদিন নাকি ২২ গজের সবুজ মাঠে মোনালিসার চিত্র আঁকেন। সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে তেমনি এক ক্লাসিক সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশি ব্যাটার।
স্টাইলিশ ব্যাটার লিটনের আরেকটি পরিচয় আছে। উইকেটরক্ষক। সেখানেও দুর্দান্ত দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন তিনি। আজ যেমন তিন কাঠির পেছনে দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরেছেন টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক। ইনিংসের ৩৫তম ওভারে লেগ স্টাম্পের বাইরে বল করেছিলেন তাইজুল ইসলাম। বাবর আজম গ্লান্স করলে ব্যাটের কোনোয় লেগে লিটনকে অতিক্রম করার পথে ছিল বল। তবে তা হতে দেননি উইকেটরক্ষক। তাকে অতিক্রম করার আগেই বিশ্বস্ত হাতে বলকে তালুবন্দি করেন তিনি।
সাধারণত এমন ক্যাচ ধরা সহজ নয় উইকেটরক্ষকদের। তাই হয়তো ক্যাচটা ধরার পর লিটন উদযাপন করলেন দেখার মতো। ৩১ বছর বয়সী উইকেটরক্ষক ক্যাচটি ধরেই দুই হাতকে ডানা বানিয়ে পাখির মতো উড়তে চাইলেন মাঠে। সেটা না পারলেও কোচের প্রশংসায় ঠিকই ভাসছেন লিটন। তার উইকেটকিপিংয়ে যে বিমোহিত হয়েছেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইট।
বলা যায়, লিটনকে সেরার একটা সার্টিফিকেটও দিয়েছেন টেইট। আজ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে এসে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার বলেছেন, ‘ভালো পয়েন্ট, ভালো প্রশ্ন। লিটন উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত। আমরা এগুলো ড্রেসিংরুমেও বলি। ওর উপস্থিতি অনেক তফাৎ গড়ে দেয়। এ মুহূর্তে ওর কিপিং ওয়ার্ল্ড ক্লাস। কাজটা মোটেও সহজ নয়। অনেকে আইপিএল খেলতে গিয়ে ৩ ফরম্যাট খেলছেই না। এ মুহূর্তে লিটনই সেরা। একইসাথে ওর ব্যাটিংও। সব মিলিয়ে- একজন ক্রিকেটার হিসেবেই সে সেরাদের একজন।’
অন্যদিকে নিজের শিষ্যদের পারফরম্যান্স নিয়ে টেইট বলেছেন, ‘ছেলেরা এ মুহূর্তে খুব ভালো করছে। তাদের এমন করতে দেখে খুব ভালো লাগছে, সাদা বল ও লাল বল দুই ক্ষেত্রেই। নতুন বল এলে সবাই দুর্দান্ত পারফর্ম করে। আমরা রোটেশন করে খেলাচ্ছি। একদিন ভালো না গেলে আপনারা এবং সমর্থকরা এখন প্রশ্ন করেন। আপনাদের প্রত্যাশা বেড়েছে। এটাও ভালো দিক। তবে প্রতিদিন তো সমান যাবে না।’




