কারারক্ষী নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চাকরি প্রার্থীরা। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষ। এসময় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগারের নিয়োগ পরীক্ষায় বাদ পড়া কয়েক শ চাকরিপ্রার্থী কারাগারের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ৯টার দিকে তারা ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কারারক্ষী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও তদবির বাণিজ্য হয়েছে। মেধার ভিত্তিতে নয়, প্রভাবশালীদের সুপারিশে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান চাকরি প্রার্থীরা।
পটুয়াখালী থেকে আসা চাকরি প্রার্থী রাকিব হোসেন বলেন, তিনি সেনাবাহিনীর নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও এখানে উচ্চতা সংক্রান্ত অজুহাতে বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে, ঝালকাঠির শাওন বলেন, নির্ধারিত যোগ্যতা থাকলেও অনেককে ইচ্ছামতো বাদ দেওয়া হয়েছে। যাদের পরিবারের লোক প্রশাসনের আছে তাদের নেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অবরোধ চলাকালে উত্তেজিত কিছু আন্দোলনকারী সড়কে থাকা কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর চালান। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
শরীয়তপুরের যাত্রী হাফিজ বলেন, সকালে বের হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে আছি। সড়ক অবরোধের কারণে জরুরি কাজেও পৌঁছাতে পারছি না। এখন কিছু হলেই সড়ক বন্ধ করে আন্দোলন করে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা-পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন। এরপর ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, নিয়োগ বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া অনেক প্রার্থীর মধ্যে যারা বাদ পড়বে, তাদের কিছুটা মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। বিভিন্ন রাউন্ডে যারা বাদ পড়েছে, তাদের কেউ কেউ হয়তো বাইরে গিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।
তিনি জানান, এ নিয়োগ পরীক্ষায় চারটি ধাপে বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। মোট ৪৫০ জন পুরুষ ও ২২ জন নারী প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। কারাগারের মাঠে এই চারটি ধাপে শারীরিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার মধ্যে থাকবে উচ্চতা ও অন্যান্য শারীরিক মাপজোক, দৌড়, পুরুষদের ক্ষেত্রে হাই-জাম্প এবং নারীদের ক্ষেত্রে লং জাম্প, পুরুষদের জন্য পুশ-আপ এবং নারীদের জন্য সিট-আপ। এ ছাড়া সবার জন্য রোপ ক্লাইম্বিং পরীক্ষা থাকবে। এই ধাপগুলো যারা সফলভাবে উত্তীর্ণ হবে, কেবল তাদেরই পরবর্তী ধাপে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হবে। স্বাস্থ্যগত কোনো জটিলতা পাওয়া গেলে প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। তবে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পূর্ণ করা হচ্ছে।




