• ই-পেপার

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অবলম্বনে

১১৭ টেস্টে ৪২টি ইনিংস হার; কোন পথে বাংলাদেশের ক্রিকেট?

অস্ট্রেলিয়া বলেই বাড়তি রোমাঞ্চিত বাংলাদেশ

আজ প্রথম ওয়ানডে

ক্রীড়া প্রতিবেদক
অস্ট্রেলিয়া বলেই বাড়তি রোমাঞ্চিত বাংলাদেশ
ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি নিয়ে দুই অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও জশ ইংলিস। ছবি : বিসিবি

সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার অবস্থা যেমন এখনো তৈরি হয়নি, তেমনি জাতীয় দলের হয়ে এই বাঁহাতি অলরাউন্ডারের আবার মাঠে নামার কোনো নিশ্চয়তাও নেই। কিন্তু আজ শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দলে না থেকেও প্রাসঙ্গিক হয়ে আছেন সাবেক এই অধিনায়ক। 

তিনি থাকলে গল্পটা একটু অন্য রকম হতো। অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশ দল সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলে ২০১১ সালে, সেটাও ঘরের মাঠে। ১৫ বছর পর ওই সিরিজে খেলা দুই দলের কোনো ক্রিকেটার এবারের লড়াইয়ে নেই। থাকার কথাও নয়। 

সবাই এই সংস্করণ থেকে অবসর নিয়েছেন। ব্যতিক্রম শুধু সাকিব। তবে তিনিও নেই এবার। মেহেদী হাসান মিরাজরা প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলবেন। এ জন্য বাড়তি রোমাঞ্চ অনুভব করছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।

গতকাল সিরিজ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে উচ্ছ্বাস লুকাননি মিরাজ, ‘আমরা সবাই অনেক উচ্ছ্বসিত যে দীর্ঘদিন পর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ খেলব। অধিনায়ক হিসেবে আমিও অনেক রোমাঞ্চিত। এটা আমাদের জন্য একটি ভালো চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। যদি আমরা ভালোভাবে শুরু করতে পারি, তাহলে বেশ ইতিবাচক হবে।’ 

তবে অজিদের বিপক্ষে পরিসংখ্যান সুখকর নয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। ফল হওয়া ২১ ম্যাচে মাত্র এক জয় বাংলাদেশের। সেটাও দুই দশকের বেশি সময় আগে—২০০৫ সালে কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের মহাকাব্যিক সেঞ্চুরিতে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই এখনো ওয়ানডেতে সিরিজ জেতেনি দলটি। এবার অতৃপ্তি ঘোচাতে চান মিরাজ, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ভালো ক্রিকেট খেলতে। সবাই ভালো ফর্মে আছে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে অনেক বছর পর সিরিজ খেলছি। যেহেতু হোম গ্রাউন্ড, সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলে আমাদের জন্য দারুণ হবে।’
এই সফরে পূর্ণ শক্তির দল পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। অলরাউন্ডার মিচেল মার্শের গোড়ালির চোট ভালো না হওয়ায় পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। ব্যক্তিগত কারণে মারকুটে ওপেনার ট্রাভিস হেডও নেই। প্রতিপক্ষ শিবিরে এ দুই তারকা না থাকা বাড়তি সুবিধা বাংলাদেশের জন্য। তবে এসব নিয়ে না ভেবে নিজেদের খেলার ওপর মনোযোগ রাখতে চান স্বাগতিক অধিনায়ক, ‘আগেই শুনেছি তারা না-ও আসতে পারে। গতকাল (পরশু) নিশ্চিত হয়েছি। তার পরও অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালী দল। তারা ভালো দল নিয়েই এসেছে। আমরা তাদের নিয়ে চিন্তা না করে নিজেদের খেলাটার দিকে মনোযোগ দিতে চাই।’

এদিকে সর্বশেষ সিরিজ থেকে বাংলাদেশ একাদশে পরিবর্তন আসতে পারে। সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেনকে প্রথম ওয়ানডেতে খেলাতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। শেষ মুহূর্তে খুব বেশি নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি না হলে এই অলরাউন্ডারকে নিয়েই একাদশ সাজাবে স্বাগতিকরা। মোসাদ্দেক ঘরোয়া ক্রিকেটের ছন্দ ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশ দল উপকৃত হবে বলেই মনে করেন মিরাজ, ‘মোসাদ্দেক ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক বছর ধরে ভালো পারফরম করছে এবং ভালো ক্রিকেট খেলছে, ফর্মেও আছে। তাকে দলে নেওয়ার এটাই সঠিক সময়। আমরা যে জায়গাটার কথা চিন্তা করেছি, সেখানে যদি সে ভালো করতে পারে, তাহলে দলের জন্য অনেক উপকার হবে।’
 

নেইমারকে নিয়ে সুখবর দিল ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক
নেইমারকে নিয়ে সুখবর দিল ব্রাজিল
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতে বাকি আর মাত্র দুই দিন। ঠিক এমন মাহেন্দ্রক্ষণে এসে স্বস্তির সুবাতাস বইছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল শিবিরে। সেলেসাও ভক্তদের জন্য পরম কাঙ্ক্ষিত সেই সুখবরটি এসেছে দলের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে। তারকা এই ফরোয়ার্ডের সর্বশেষ মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, চোট কাটিয়ে চেনা ছন্দে ফেরার লড়াইয়ে ‘প্রত্যাশিত অগ্রগতি’ দেখাচ্ছেন এই পোস্টার বয়।

গত মাসে স্ক্যান রিপোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছিল ব্রাজিল। নেইমারের পায়ের পেশিতে (ক্যাফ) গ্রেড-২ স্তরের মাংসপেশি ছিঁড়ে যাওয়ার (মাসল টিয়ার) সমস্যা ধরা পড়েছিল। প্রাথমিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে কাটাতে হবে তাকে। ফলে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল সমর্থকদের।

তবে সোমবার (৮ জুন) নতুন করে করানো এমআরআই স্ক্যান রিপোর্টে স্বস্তির আলো দেখছেন চিকিৎসকরা। নেইমারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার উন্নতিতে সন্তুষ্ট তারা। এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে সিবিএফ জানিয়েছে, ‘পরীক্ষায় তার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় প্রত্যাশিত মান অনুযায়ী ভালো উন্নতি দেখা গেছে। জাতীয় দলের মেডিকেল স্টাফদের বেঁধে দেওয়া পরিকল্পনা মেনেই তার পুনর্বাসন ও শারীরিক প্রস্তুতি কার্যক্রম চলবে।’

ইতোমধ্যেই চোটের খেসারত হিসেবে সেলেসাওদের হয়ে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ মিস করেছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। অবশ্য নেইমারকে ছাড়াও মাঠের পারফরম্যান্সে জয়ের ধারা বজায় রেখেছে ব্রাজিল। পানামাকে ৬-২ এবং মিশরকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে সেলেসাওরা। 

তবে আগামী ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এই ফরোয়ার্ডকে শুরুর একাদশে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে এখনও কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। যদিও আশার বাণী শোনাচ্ছেন দলের চিকিৎসকরা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেন নেইমার ও চোট একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে বাঁ হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ও মেনিস্কাস ছিঁড়ে যাওয়ার সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো ভক্তদের মনে টাটকা। 

এরপর সৌদি ক্লাব আল হিলালের জার্সিতেও চোটের ভূত পিছু ছাড়েনি তার। ২০২৫ সালের শুরুতে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরেও ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি; ২০২৬ সালেও বেশ কয়েকবার চোট পেয়েছেন তিনি। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার এবারের বিশ্বকাপে খেলা নিয়েই তৈরি হয়েছিল চরম সংশয়। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে শেষ পর্যন্ত তার ওপর আস্থা রেখেছেন সেলেসাওদের নতুন গুরু কার্লো আনচেলত্তি।

ব্রাজিলের জার্সিতে রেকর্ড ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমারের এটি ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। 

নতুন কোচ আনচেলত্তির অধীনে আগামী ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা মিশনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে সেলেসাওরা। এরপর গ্রুপ পর্বে ২০ জুন হাইতি এবং ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা। 
 

ক্রিস্টোফ ক্রেমার

ফাইনালে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা এক বিশ্বজয়ী

সাহিদ রহমান অরিন
ফাইনালে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা এক বিশ্বজয়ী
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে মাথায় আঘাত পেয়ে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন জার্মানির ক্রিস্টোফ ক্রেমার (মাঝে)। ছবি: সংগৃহীত

‘এটা কি (বিশ্বকাপ) ফাইনাল?’ খেলা চলাকালে রেফারি নিকোলা রিজ্জোলিকে জিজ্ঞেস করলেন ক্রিস্টোফ ক্রেমার। রিজ্জোলি ভাবলেন, ক্রেমার তাঁর সঙ্গে মজা করছেন। তাই প্রশ্নটা আবার শুনতে চাইলেন।

ক্রেমার আরেকটু জোর গলায় বললেন, ‘আমি জানতে চাইছি এটা কি ফাইনাল, নাকি অন্য কোনো ম্যাচ?’ এবার রিজ্জোলির এক কথায় উত্তর, ‘হ্যাঁ।’ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ক্রেমার বললেন, ‘আপনাকে ধন্যবাদ। এটা জানা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

ক্রেমার আবার খেলা চালিয়ে গেলেন। কিন্তু ইতালিয়ান রেফারি রিজ্জোলি ততক্ষণে বুঝে ফেলেছেন, কিছু একটা গড়বড় হয়েছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে জার্মান ডাগ আউটে বিষয়টি জানালেন। ফিজিওরা এসে ক্রেমারকে নিয়ে গেলেন মাঠের বাইরে।

PIC2
ফাইনালের ৩১ মিনিটে মাঠ ছাড়েন ক্রিস্টোফ ক্রেমার। ছবি: ফিফা

ব্যস, ২৩ বছর বয়সে জার্মানির ২৩ নম্বর জার্সি গায়ে চাপিয়ে খেলতে নামা ক্রেমারের বিশ্বকাপ ফাইনাল সেখানেই শেষ! ম্যাচের তখন আধাঘণ্টা পেরিয়েছে।

কোন ফাইনালের কথা বলা হচ্ছে জানেন? ১৩ জুলাই ২০১৪, মারাকানা স্টেডিয়াম, রিও ডি জেনিইরো, আর্জেন্টিনা-জার্মানি বিশ্বকাপ ফাইনাল।

সেই রাতে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে কপাল পুড়েছিল মেসি-মাসচেরানোদের। ১১৩ মিনিটে মারিও গোটজের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি। ৩১ মিনিটে ক্রেমারের বদলি নামা আন্দ্রে শুর্লের ক্রস থেকেই গোলটা করেছিলেন গোটজে।

তা, ফাইনালের রাতে ক্রেমারের কী এমন হয়েছিল যে রেফারির কথায় তাঁকে তুলে নিতে বাধ্য হন জার্মান কোচ ইওয়াখিম ল্যোফ? চিকিৎসকরা জানান, ক্রেমার খেলা চলাকালে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন! মাঠে থাকলেও তিনি কিছুই মনে করতে পারছিলেন না।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে আর্জেন্টাইন সেন্টার ব্যাক এজেকিয়েল গারাইয়ের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে মাথায় আঘাত পান ক্রেমার। এরপর মাঠে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসাও করা হয়। ফিজিওরা ভেবেছিলেন ক্রেমার ঠিক আছেন; তাই খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পান। পরে বোঝা যায়, তিনি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন।

মারাকানায় ফাইনালের রাতে শুরুর একাদশে ক্রেমারের থাকার কথাই ছিল না। ম্যাচ শুরুর মিনিট কয়েক আগে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার সামি খেদিরা চোটে পড়লে ক্রেমারকে কোচ ল্যোফ জানিয়ে দেন, ‘প্রস্তুত হও, তুমি খেলতে নামছ।’

ক্রেমার তাঁর ক্যারিয়ারজুড়ে খেলেছেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে। তাঁকেই কিনা শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে নিতে হয়েছে বাড়তি দায়িত্ব। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফরোয়ার্ডদের বলের জোগান দেওয়া তো আর যেনতেন কাজ নয়! কাজটা ক্রেমারকে করতে হয়েছে সেই সময়ের রিয়াল মাদ্রিদ তারকা খেদিরার জায়গায়; সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে।

PIC5
বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি খুব বেশি মনে নেই ক্রিস্টোফ ক্রেমারের। ছবি: সংগৃহীত

ক্রেমার ফাইনালে পুরোটা সময় খেলতে পারেননি ঠিকই; কিন্তু স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলার পরও দেশের প্রতি তাঁর নিবেদন সত্যিই ব্যতিক্রমী এক ঘটনা হয়ে আছে।

বিশ্বকাপ জয়ের পরদিনই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে ফাইনালের রাতের বর্ণনা দেন ক্রেমার, ‘আমি ম্যাচের খুব বেশি ঘটনা মনে করতে পারি না। প্রথমার্ধের কিছুই আমার মনে নেই। মাঠ ছাড়ার পর কিভাবে ড্রেসিংরুমে পৌঁছলাম, সেটাও মনে নেই। আমার মনে হয়েছে, ম্যাচটি দ্বিতীয়ার্ধ থেকে শুরু হয়েছে।’

কয়েক দশক ধরে জার্মানির বিশ্বকাপ স্কোয়াড মানেই বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের খেলোয়াড়দের আধিক্য। তাই বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট ক্লাবের ফুটবলার হিসেবে ইওয়াখিম ল্যোফের নজর কাড়া ক্রেমারের জন্য মোটেও সহজ ছিল না।

Trophy1
বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ক্রিস্টোফ ক্রেমার। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির সোলিঙ্গেন শহরের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পান ক্রেমার। পরে হন সেই শহরের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র বিশ্বজয়ী। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি একটিই শিরোপা জিতেছেন—বিশ্বকাপ। অথচ সেদিনের স্মৃতি তাঁর খুব বেশি মনে নেই!

২০১৬ সালের পর জার্মানি জাতীয় দলে আর কখনো ডাক পড়েনি ক্রিস্টোফ ক্রেমারের। ক্লাব ফুটবল খেলেছেন ২০২৪ সাল পর্যন্ত। সেই বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখেই ১১ মৌসুম কাটিয়ে চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করেন। এরপর অন্য কোনো ক্লাব তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখায়নি। ফলে গত বছরের জুনে অবসরের ঘোষণা দেন।

PIC1
নিজের লেখা বই হাতে ক্রিস্টোফ ক্রেমার। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

বর্তমানে ৩৫ বছর বয়সী ক্রেমার কাজ করছেন ফুটবল বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার হিসেবে। উপস্থাপনা করছেন পডকাস্টেও। এই সুযোগে একটা বইও লিখে ফেলেছেন, জার্মান ভাষায় যার নাম ডাস লেবেন ফিং ইম জোমার আন (বাংলা অর্থ জীবন শুরু হয়েছিল গ্রীষ্মকালে)।

বিশ্বকাপজয়ী অনেকেই নিজেদের কিংবদন্তির কাতারে নিয়ে গেছেন, অনেকে পারেননি। অনেকের নাম বিশ্বফুটবল মনে রাখেনি। ক্রিস্টোফ ক্রেমারের নাম সেই তালিকায় উঠতে পারত। কিন্তু ওঠেনি ওই একটি ঘটনার কারণে—স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেও তিনি যে বিশ্বজয়ী! বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের ভাষায়, ‘যে শিরোপা (ক্রেমারকে) অমরত্ব এনে দিয়েছে।’

ফুটবল মহাতারকা পরিবার

‘মিনিয়েচার মেসি’দের নিয়ে উচ্ছ্বসিত মেসি নিজেও

ভানু গোপাল রায়
‘মিনিয়েচার মেসি’দের নিয়ে উচ্ছ্বসিত মেসি নিজেও
ছেলেদের সাফল্যে রোমাঞ্চিত মেসি। ছবি : এক্স থেকে

খ্যাতিমান বাবার সন্তানদের এমনিতেও বিড়ম্বনার শেষ নেই। তা-ও আবার যদি তাদের জন্মদাতার জগতে হাতেখড়ি হয়ে যায়, তাহলে তো কোনো কথাই নেই! বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে কত দূর যেতে পারবে তারা, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়ে যায়।

এই যেমন ধরুন লিওনেল মেসির ছেলেদের কথাই। তারা একটু-আধটু ফুটবল খেলা শুরু করতে না করতেই এমন প্রশ্ন উচ্চারিত হতে শুরু করেছে যে বাবার মতো বিশ্ব কাঁপানো ফুটবলার তারা হতে পারবে তো? কিংবা এদের কেউ একজন?

 

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাবার দেখানো পথ ধরে সন্তানের খেলোয়াড় হওয়ার নজিরও কম নেই। তবে পিতার খেলোয়াড়ি কীর্তির গৌরব-সৌরভের ধারেকাছে যাওয়ার উদাহরণও সামান্যই। পরিসংখ্যান ঘাঁটলে বরং বিখ্যাত খেলোয়াড়ের ছেলের বাবার যোগ্য উত্তরসূরি হতে না পারার ব্যর্থতার গল্পই শোনা যায় বেশি।

উল্টো নানা বিদ্রুপে কতশত সন্তানকে যে নাজেহাল হতে হয়েছে! বাবার নাম ডোবানোর অভিযোগেও শেষ হয়ে গেছে কত সন্তানের ক্যারিয়ার। মেসির ছেলেরা এখনো বেশ ছোট বলে সেই ঝুঁকি আপাতত নেই। অবশ্য বাবা মেসি বলেই এখন থেকে মানুষের কৌতূহলী চোখ দিব্যি খুঁজে নিচ্ছে তাদের। ফুটবলপিপাসুরা অনুসরণ করতে শুরু করে দিয়েছেন মেসির তিন ছেলে—থিয়াগো, মাতেও ও চিরোকে।

বয়সভিত্তিক পর্যায়ে তারা এখন মনের আনন্দে ফুটবলে মজে আছে। তাই বলে বাবার তরফ থেকে ফুটবলারই হতে হবে, নেই এমন কোনো চাপও। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর চাওয়া এতটুকুই, ‘ওরা যা করে আনন্দ পায়, আমি চাই সেটাই ওরা করুক।’ অবশ্য ছেলেদের আয়নায় নিজের শৈশব-কৈশোর দেখে ফেলার স্বীকারোক্তিও আছে মেসির কথায়, ‘ফুটবলটা ওরা খুব ভালোবাসে। যখন যেখানে সুযোগ মিলে যায়, ওরা একটা ছোট মাঠ আর ফুটবল খুঁজে নিয়ে মেতে ওঠে।’ তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে থিয়াগোরা তাই চোখের আড়াল নয় একটুও।

 

মেসির ছেলেদের জন্ম বাবার ‘সেকেন্ড হোম’ হিসেবে পরিচিত বার্সেলোনায়। বড় ছেলে থিয়াগো দুনিয়ার আলো দেখে ২০১২ সালের ২ নভেম্বর। তিন বছর পর ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মেসি-আন্তোনেলা রোকুজ্জোর ঘর আলো করে আসে মাতেও। ছোট ছেলে চিরোর আগমন ২০১৮ সালের ১০ মার্চ। বাবার মতোই বার্সেলোনা-পিএসজি ঘুরে এখন তাদের ঠিকানা ইন্টার মায়ামি। এখন তারা খেলছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটির বয়সভিত্তিক দলের হয়ে।

থিয়াগো বাদে অন্য দুজন নিজ নিজ বয়সশ্রেণির দলকে নেতৃত্বও দিচ্ছে। ছোট ভাইদের সঙ্গে পজিশনেও অমিল থিয়াগোর। মাতেও-চিরো ফরোয়ার্ড হলেও মায়ামির অনূর্ধ্ব-১৪ দলের মাঝমাঠের প্রাণ তাদের বড় ভাই। শান্ত-চিন্তাশীল চরিত্রের থিয়াগোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই তো গত বছর ড্রিমস কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মায়ামির অনূর্ধ্ব-১৩ একাডেমি দল। তবে জার্সিতে মিল আছে তিন ভাইয়েরই। বাবার মতো তিনজনই ‘নাম্বার টেন’।

অবশ্য কিছু অমিলের কথা না বললেই নয়। বাবা বাঁ পায়ে বিশ্ব জয় করলেও ছেলেরা সবাই খেলে ডান পায়ে। মেজো ছেলে মাতেও খেলে অনূর্ধ্ব-১২ দলে। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে গোল করার সহজাত ক্ষমতা দিয়ে এরই মধ্যে সে নজর কেড়েছে। আছে এক ম্যাচে ৫ গোল করার রেকর্ডও! বল নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া এবং একক প্রচেষ্টায় গোল বের করার পাশাপাশি ফ্রি কিকেও নিজের দক্ষতার জানান দিয়েছে মাতেও। চিরো অবশ্য বড় দুই ভাইয়ের তুলনায় আরো বিধ্বংসী ও আক্রমণাত্মক। বল পায়ে গতি, প্রাণশক্তি এবং নিঁখুত শটে পারদর্শী। তার ফ্রি কিকগুলো কখনো কখনো করায় মেসিকেও। চিরোর মাঝে তাই অনেকেই দেখতে শুরু করেছেন ‘ডান পায়ের মেসি’কে। সর্বশেষ অ্যাডিডাস চ্যাম্পিয়নস কাপে মায়ামির অনূর্ধ্ব-৮ দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নেপথ্যে ছিল মেসির ছোট ছেলের পারফরম্যান্সই।

 

টুর্নামেন্টের মোস্ট ভ্যালুয়েবল খেলোয়াড় হওয়া চিরো সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও নিজের করে নেয়। পুরস্কার নেয় বাবার একসময়কার বার্সেলোনা সতীর্থ জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের কাছ থেকে। সুইডিশ কিংবদন্তি শুধু পুরস্কারই দেননি, চিরোর ভবিষ্যৎও যেন দেখে ফেলেছেন। সে জন্যই চিরোকে নাম দিয়েছেন ‘মিনিয়েচার মেসি’। এসি মিলান-পিএসজির সাবেক স্ট্রাইকার আরো বলেছেন, ‘ছোট মেসিকে দেখতে চাইলে আপনাকে চিরো মেসির খেলা দেখতেই হবে। ওকে পুরস্কার দিতে পেরে আমিই বরং আনন্দিত। এই ছেলে ভবিষ্যতে অনেক দূর যাবে।’

ইব্রাহিমোভিচের কথা তো শুনলেন। এবার না হয় ওদের নিয়ে বাবার মূল্যায়নও শোনা যাক, ‘থিয়াগো শান্ত ও চিন্তাশীল একজন মিডফিল্ডার। মাতেও ফরোয়ার্ড। ও গোল করতে পছন্দ করে। খুবই বুদ্ধিদীপ্ত ছেলে। ও আমার মতোই হারতে জানে না, হারতে পছন্দও করে না। চিরো তো আরো বিস্ফোরক। সবাইকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পছন্দ করে।’ নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় থাকা মেসি কি তাহলে ছেলেদের নিয়েও স্বপ্নের আঁকিবুঁকি খেলতে শুরু করে দিয়েছেন? ফুটবল মাঠেই দেখছেন তাঁর অনাগত উত্তরাধিকার?

১১৭ টেস্টে ৪২টি ইনিংস হার; কোন পথে বাংলাদেশের ক্রিকেট? | কালের কণ্ঠ