• ই-পেপার

জাকেরের সেঞ্চুরি ও রাতুলের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ইমার্জিং দলের বড় জয়

ক্রিস্টোফ ক্রেমার

ফাইনালে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা এক বিশ্বজয়ী

সাহিদ রহমান অরিন
ফাইনালে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা এক বিশ্বজয়ী
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে মাথায় আঘাত পেয়ে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন জার্মানির ক্রিস্টোফ ক্রেমার (মাঝে)। ছবি: সংগৃহীত

‘এটা কি (বিশ্বকাপ) ফাইনাল?’ খেলা চলাকালে রেফারি নিকোলা রিজ্জোলিকে জিজ্ঞেস করলেন ক্রিস্টোফ ক্রেমার। রিজ্জোলি ভাবলেন, ক্রেমার তাঁর সঙ্গে মজা করছেন। তাই প্রশ্নটা আবার শুনতে চাইলেন।

ক্রেমার আরেকটু জোর গলায় বললেন, ‘আমি জানতে চাইছি এটা কি ফাইনাল, নাকি অন্য কোনো ম্যাচ?’ এবার রিজ্জোলির এক কথায় উত্তর, ‘হ্যাঁ।’ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ক্রেমার বললেন, ‘আপনাকে ধন্যবাদ। এটা জানা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

ক্রেমার আবার খেলা চালিয়ে গেলেন। কিন্তু ইতালিয়ান রেফারি রিজ্জোলি ততক্ষণে বুঝে ফেলেছেন, কিছু একটা গড়বড় হয়েছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে জার্মান ডাগ আউটে বিষয়টি জানালেন। ফিজিওরা এসে ক্রেমারকে নিয়ে গেলেন মাঠের বাইরে।

PIC2
ফাইনালের ৩১ মিনিটে মাঠ ছাড়েন ক্রিস্টোফ ক্রেমার। ছবি: ফিফা

ব্যস, ২৩ বছর বয়সে জার্মানির ২৩ নম্বর জার্সি গায়ে চাপিয়ে খেলতে নামা ক্রেমারের বিশ্বকাপ ফাইনাল সেখানেই শেষ! ম্যাচের তখন আধাঘণ্টা পেরিয়েছে।

কোন ফাইনালের কথা বলা হচ্ছে জানেন? ১৩ জুলাই ২০১৪, মারাকানা স্টেডিয়াম, রিও ডি জেনিইরো, আর্জেন্টিনা-জার্মানি বিশ্বকাপ ফাইনাল।

সেই রাতে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে কপাল পুড়েছিল মেসি-মাসচেরানোদের। ১১৩ মিনিটে মারিও গোটজের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি। ৩১ মিনিটে ক্রেমারের বদলি নামা আন্দ্রে শুর্লের ক্রস থেকেই গোলটা করেছিলেন গোটজে।

তা, ফাইনালের রাতে ক্রেমারের কী এমন হয়েছিল যে রেফারির কথায় তাঁকে তুলে নিতে বাধ্য হন জার্মান কোচ ইওয়াখিম ল্যোফ? চিকিৎসকরা জানান, ক্রেমার খেলা চলাকালে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন! মাঠে থাকলেও তিনি কিছুই মনে করতে পারছিলেন না।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে আর্জেন্টাইন সেন্টার ব্যাক এজেকিয়েল গারাইয়ের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে মাথায় আঘাত পান ক্রেমার। এরপর মাঠে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসাও করা হয়। ফিজিওরা ভেবেছিলেন ক্রেমার ঠিক আছেন; তাই খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পান। পরে বোঝা যায়, তিনি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন।

মারাকানায় ফাইনালের রাতে শুরুর একাদশে ক্রেমারের থাকার কথাই ছিল না। ম্যাচ শুরুর মিনিট কয়েক আগে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার সামি খেদিরা চোটে পড়লে ক্রেমারকে কোচ ল্যোফ জানিয়ে দেন, ‘প্রস্তুত হও, তুমি খেলতে নামছ।’

ক্রেমার তাঁর ক্যারিয়ারজুড়ে খেলেছেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে। তাঁকেই কিনা শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে নিতে হয়েছে বাড়তি দায়িত্ব। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফরোয়ার্ডদের বলের জোগান দেওয়া তো আর যেনতেন কাজ নয়! কাজটা ক্রেমারকে করতে হয়েছে সেই সময়ের রিয়াল মাদ্রিদ তারকা খেদিরার জায়গায়; সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে।

PIC5
বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি খুব বেশি মনে নেই ক্রিস্টোফ ক্রেমারের। ছবি: সংগৃহীত

ক্রেমার ফাইনালে পুরোটা সময় খেলতে পারেননি ঠিকই; কিন্তু স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলার পরও দেশের প্রতি তাঁর নিবেদন সত্যিই ব্যতিক্রমী এক ঘটনা হয়ে আছে।

বিশ্বকাপ জয়ের পরদিনই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে ফাইনালের রাতের বর্ণনা দেন ক্রেমার, ‘আমি ম্যাচের খুব বেশি ঘটনা মনে করতে পারি না। প্রথমার্ধের কিছুই আমার মনে নেই। মাঠ ছাড়ার পর কিভাবে ড্রেসিংরুমে পৌঁছলাম, সেটাও মনে নেই। আমার মনে হয়েছে, ম্যাচটি দ্বিতীয়ার্ধ থেকে শুরু হয়েছে।’

কয়েক দশক ধরে জার্মানির বিশ্বকাপ স্কোয়াড মানেই বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের খেলোয়াড়দের আধিক্য। তাই বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট ক্লাবের ফুটবলার হিসেবে ইওয়াখিম ল্যোফের নজর কাড়া ক্রেমারের জন্য মোটেও সহজ ছিল না।

Trophy1
বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ক্রিস্টোফ ক্রেমার। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির সোলিঙ্গেন শহরের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পান ক্রেমার। পরে হন সেই শহরের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র বিশ্বজয়ী। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি একটিই শিরোপা জিতেছেন—বিশ্বকাপ। অথচ সেদিনের স্মৃতি তাঁর খুব বেশি মনে নেই!

২০১৬ সালের পর জার্মানি জাতীয় দলে আর কখনো ডাক পড়েনি ক্রিস্টোফ ক্রেমারের। ক্লাব ফুটবল খেলেছেন ২০২৪ সাল পর্যন্ত। সেই বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখেই ১১ মৌসুম কাটিয়ে চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করেন। এরপর অন্য কোনো ক্লাব তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখায়নি। ফলে গত বছরের জুনে অবসরের ঘোষণা দেন।

PIC1
নিজের লেখা বই হাতে ক্রিস্টোফ ক্রেমার। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

বর্তমানে ৩৫ বছর বয়সী ক্রেমার কাজ করছেন ফুটবল বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার হিসেবে। উপস্থাপনা করছেন পডকাস্টেও। এই সুযোগে একটা বইও লিখে ফেলেছেন, জার্মান ভাষায় যার নাম ডাস লেবেন ফিং ইম জোমার আন (বাংলা অর্থ জীবন শুরু হয়েছিল গ্রীষ্মকালে)।

বিশ্বকাপজয়ী অনেকেই নিজেদের কিংবদন্তির কাতারে নিয়ে গেছেন, অনেকে পারেননি। অনেকের নাম বিশ্বফুটবল মনে রাখেনি। ক্রিস্টোফ ক্রেমারের নাম সেই তালিকায় উঠতে পারত। কিন্তু ওঠেনি ওই একটি ঘটনার কারণে—স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেও তিনি যে বিশ্বজয়ী! বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের ভাষায়, ‘যে শিরোপা (ক্রেমারকে) অমরত্ব এনে দিয়েছে।’

ফুটবল মহাতারকা পরিবার

‘মিনিয়েচার মেসি’দের নিয়ে উচ্ছ্বসিত মেসি নিজেও

ভানু গোপাল রায়
‘মিনিয়েচার মেসি’দের নিয়ে উচ্ছ্বসিত মেসি নিজেও
ছেলেদের সাফল্যে রোমাঞ্চিত মেসি। ছবি : এক্স থেকে

খ্যাতিমান বাবার সন্তানদের এমনিতেও বিড়ম্বনার শেষ নেই। তা-ও আবার যদি তাদের জন্মদাতার জগতে হাতেখড়ি হয়ে যায়, তাহলে তো কোনো কথাই নেই! বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে কত দূর যেতে পারবে তারা, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়ে যায়।

এই যেমন ধরুন লিওনেল মেসির ছেলেদের কথাই। তারা একটু-আধটু ফুটবল খেলা শুরু করতে না করতেই এমন প্রশ্ন উচ্চারিত হতে শুরু করেছে যে বাবার মতো বিশ্ব কাঁপানো ফুটবলার তারা হতে পারবে তো? কিংবা এদের কেউ একজন?

 

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাবার দেখানো পথ ধরে সন্তানের খেলোয়াড় হওয়ার নজিরও কম নেই। তবে পিতার খেলোয়াড়ি কীর্তির গৌরব-সৌরভের ধারেকাছে যাওয়ার উদাহরণও সামান্যই। পরিসংখ্যান ঘাঁটলে বরং বিখ্যাত খেলোয়াড়ের ছেলের বাবার যোগ্য উত্তরসূরি হতে না পারার ব্যর্থতার গল্পই শোনা যায় বেশি।

উল্টো নানা বিদ্রুপে কতশত সন্তানকে যে নাজেহাল হতে হয়েছে! বাবার নাম ডোবানোর অভিযোগেও শেষ হয়ে গেছে কত সন্তানের ক্যারিয়ার। মেসির ছেলেরা এখনো বেশ ছোট বলে সেই ঝুঁকি আপাতত নেই। অবশ্য বাবা মেসি বলেই এখন থেকে মানুষের কৌতূহলী চোখ দিব্যি খুঁজে নিচ্ছে তাদের। ফুটবলপিপাসুরা অনুসরণ করতে শুরু করে দিয়েছেন মেসির তিন ছেলে—থিয়াগো, মাতেও ও চিরোকে।

বয়সভিত্তিক পর্যায়ে তারা এখন মনের আনন্দে ফুটবলে মজে আছে। তাই বলে বাবার তরফ থেকে ফুটবলারই হতে হবে, নেই এমন কোনো চাপও। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর চাওয়া এতটুকুই, ‘ওরা যা করে আনন্দ পায়, আমি চাই সেটাই ওরা করুক।’ অবশ্য ছেলেদের আয়নায় নিজের শৈশব-কৈশোর দেখে ফেলার স্বীকারোক্তিও আছে মেসির কথায়, ‘ফুটবলটা ওরা খুব ভালোবাসে। যখন যেখানে সুযোগ মিলে যায়, ওরা একটা ছোট মাঠ আর ফুটবল খুঁজে নিয়ে মেতে ওঠে।’ তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে থিয়াগোরা তাই চোখের আড়াল নয় একটুও।

 

মেসির ছেলেদের জন্ম বাবার ‘সেকেন্ড হোম’ হিসেবে পরিচিত বার্সেলোনায়। বড় ছেলে থিয়াগো দুনিয়ার আলো দেখে ২০১২ সালের ২ নভেম্বর। তিন বছর পর ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মেসি-আন্তোনেলা রোকুজ্জোর ঘর আলো করে আসে মাতেও। ছোট ছেলে চিরোর আগমন ২০১৮ সালের ১০ মার্চ। বাবার মতোই বার্সেলোনা-পিএসজি ঘুরে এখন তাদের ঠিকানা ইন্টার মায়ামি। এখন তারা খেলছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটির বয়সভিত্তিক দলের হয়ে।

থিয়াগো বাদে অন্য দুজন নিজ নিজ বয়সশ্রেণির দলকে নেতৃত্বও দিচ্ছে। ছোট ভাইদের সঙ্গে পজিশনেও অমিল থিয়াগোর। মাতেও-চিরো ফরোয়ার্ড হলেও মায়ামির অনূর্ধ্ব-১৪ দলের মাঝমাঠের প্রাণ তাদের বড় ভাই। শান্ত-চিন্তাশীল চরিত্রের থিয়াগোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই তো গত বছর ড্রিমস কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মায়ামির অনূর্ধ্ব-১৩ একাডেমি দল। তবে জার্সিতে মিল আছে তিন ভাইয়েরই। বাবার মতো তিনজনই ‘নাম্বার টেন’।

অবশ্য কিছু অমিলের কথা না বললেই নয়। বাবা বাঁ পায়ে বিশ্ব জয় করলেও ছেলেরা সবাই খেলে ডান পায়ে। মেজো ছেলে মাতেও খেলে অনূর্ধ্ব-১২ দলে। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে গোল করার সহজাত ক্ষমতা দিয়ে এরই মধ্যে সে নজর কেড়েছে। আছে এক ম্যাচে ৫ গোল করার রেকর্ডও! বল নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া এবং একক প্রচেষ্টায় গোল বের করার পাশাপাশি ফ্রি কিকেও নিজের দক্ষতার জানান দিয়েছে মাতেও। চিরো অবশ্য বড় দুই ভাইয়ের তুলনায় আরো বিধ্বংসী ও আক্রমণাত্মক। বল পায়ে গতি, প্রাণশক্তি এবং নিঁখুত শটে পারদর্শী। তার ফ্রি কিকগুলো কখনো কখনো করায় মেসিকেও। চিরোর মাঝে তাই অনেকেই দেখতে শুরু করেছেন ‘ডান পায়ের মেসি’কে। সর্বশেষ অ্যাডিডাস চ্যাম্পিয়নস কাপে মায়ামির অনূর্ধ্ব-৮ দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নেপথ্যে ছিল মেসির ছোট ছেলের পারফরম্যান্সই।

 

টুর্নামেন্টের মোস্ট ভ্যালুয়েবল খেলোয়াড় হওয়া চিরো সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও নিজের করে নেয়। পুরস্কার নেয় বাবার একসময়কার বার্সেলোনা সতীর্থ জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের কাছ থেকে। সুইডিশ কিংবদন্তি শুধু পুরস্কারই দেননি, চিরোর ভবিষ্যৎও যেন দেখে ফেলেছেন। সে জন্যই চিরোকে নাম দিয়েছেন ‘মিনিয়েচার মেসি’। এসি মিলান-পিএসজির সাবেক স্ট্রাইকার আরো বলেছেন, ‘ছোট মেসিকে দেখতে চাইলে আপনাকে চিরো মেসির খেলা দেখতেই হবে। ওকে পুরস্কার দিতে পেরে আমিই বরং আনন্দিত। এই ছেলে ভবিষ্যতে অনেক দূর যাবে।’

ইব্রাহিমোভিচের কথা তো শুনলেন। এবার না হয় ওদের নিয়ে বাবার মূল্যায়নও শোনা যাক, ‘থিয়াগো শান্ত ও চিন্তাশীল একজন মিডফিল্ডার। মাতেও ফরোয়ার্ড। ও গোল করতে পছন্দ করে। খুবই বুদ্ধিদীপ্ত ছেলে। ও আমার মতোই হারতে জানে না, হারতে পছন্দও করে না। চিরো তো আরো বিস্ফোরক। সবাইকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পছন্দ করে।’ নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় থাকা মেসি কি তাহলে ছেলেদের নিয়েও স্বপ্নের আঁকিবুঁকি খেলতে শুরু করে দিয়েছেন? ফুটবল মাঠেই দেখছেন তাঁর অনাগত উত্তরাধিকার?

বাংলাদেশে মার্শ-হেডদের না আসা কিভাবে দেখছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশে মার্শ-হেডদের না আসা কিভাবে দেখছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক
ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্ব দেবেন ইংলিস। ছবি : ক্রিকইনফো

সর্বশেষ ২০২১ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। পূর্ণ শক্তির দল না আসার ফলটা হাতে নাতে পেয়েছিল তারা। বাংলাদেশের কাছে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল অজিরা।

৫ বছর পর দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে আসা অজিদের দল এবারও অনেকটা খর্বশক্তির। কেননা আগামীকাল ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে পাচ্ছে না মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডকে। সঙ্গে দলের মূল তিন পেসার প্যাট কামিন্স-মিচেল স্টার্ক-জশ হ্যাজলউডও নেই। শেষ মুহূর্তে দুই অভিজ্ঞ ছিটকে যাওয়ায় দলের জন্য বড় ধাক্কার বলে মনে করছেন অধিনায়ক জশ ইংলিস। 

মিরপুরে প্রথম ওয়ানডের ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ইংলিস বলেছেন, ‘যেকোনো সময় মিচেল মার্শ-ট্রাভিস হেডকে না পাওয়া আপনি মিস করবেনই। তারা দুজনই অবিশ্বাস্য খেলোয়াড়। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে তারা দলে নেই। ঠিক পাকিস্তান সিরিজের মতই হচ্ছে। তবে আমার মতে, এই কন্ডিশনে অভিজ্ঞতা নেওয়া দরকার আমাদের তরুণ ক্রিকেটার। সামনের বিশ্বকাপে কাজে দিবে। তাই সেই অনুযায়ী কম্বিনেশন সাজিয়ে বিভিন্ন ক্রিকেটারদের বাজিয়ে দেখারও দরকার আছে।’

তারকা পেসারদের না পেলেও যারা আছেন তাদের ওপর বিশ্বাস রাখছেন ইংলিস। উইকেটরক্ষক ব্যাটার বলেছেন, ‘অবশ্যই আমাদের দলে বড় অনেক নাম নেই। তবে যারা আছে তারাও অনেক দিন ধরে খেলছে। নাথান এলিস অনেক দিন ধরে ভালো করছে, বেন ডরশুইসও তাই। তাদের এই পর্যায়ের ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। নাথান আমাদের স্কোয়াডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সে খুবই স্কিলফুল এবং ম্যাচের যেকোনো সময় বল করতে পারে। এই সিরিজে কী করতে পারে তা দেখতেই আমি মুখিয়ে আছি।’

মেসি ম্যানিয়া, সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড গড়েছে কাইল ফিল্ড স্টেডিয়াম

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসি ম্যানিয়া, সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড গড়েছে কাইল ফিল্ড স্টেডিয়াম

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের কলেজ স্টেশনের বিখ্যাত কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ম্যাচে ৯১ হাজার ১০২ জন দর্শকের উপস্থিতি ছিল। গেল শুক্রবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে  ‘টুয়েলভথ ম্যানে’র হোম গ্রাউন্ড এক নতুন রূপ ধারণ করে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ‘রোড টু ২৬’ প্রদর্শনীর অংশ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ান আর্জেন্টিনা হন্ডুরাসের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে। 

বিশ্বকাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে, স্টেডিয়ামটির ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করে। যা টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে যেকোনো ফুটবল (সকার) ম্যাচের সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড এটি।

টেক্সাসের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা বিশ্ব তারকাদের খেলা দেখতে সমবেত হয়েছিলেন। ফুটবল ও সকারের মধ্যকার মেলবন্ধনটি পুরোপুরিভাবে ফুটে উঠেছিল যখন সুপার বোল চ্যাম্পিয়ন ভন মিলার আনুষ্ঠানিক টসটি সম্পন্ন করেন।

অনেক ভক্তের কাছে ম্যাচটি ছিল ঘরের কাছে বিশ্বমানের ফুটবল দেখার এক বিরল সুযোগ। এ সময় নাভাসোটার বাসিন্দা মিগুয়েল নুনেজ বলেছেন, টেক্সাসে আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়াটা স্থানীয় এবং তরুণ ফুটবল খেলোয়াড়দের জন্য বেশ উত্তেজনা তৈরি করে।

আর্জেন্টিনায় বেড়ে ওঠা ডালাসের বাসিন্দা জুলিয়েটা দেশাইস বলেছেন, টেক্সাসে নিজের মাতৃভূমিকে সমর্থন করার সুযোগটি ছিল অবিস্মরণীয়। ম্যাচের পরবর্তী টেক্সাস সকার দল এএন্ডএমের কোয়ার্টারব্যাক তারকা মার্সেল রিড এবং লিওনেল মেসির সাক্ষাৎও হয়েছিল। যেখানে রিড আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে একটি ১০ নম্বর অ্যাগিস জার্সি উপহার দেন।

এর আগে ২০২৪ সালে মেক্সিকো বনাম ব্রাজিলের ম্যাচে ৮৫,০০০ দর্শকের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায় এই ম্যাচে।