• ই-পেপার

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নানা-নাতিসহ ৪ জনের

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী

মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কায় ঢাকাগামী বাসে আগুন দিল বিক্ষুব্ধরা

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কায় ঢাকাগামী বাসে আগুন দিল বিক্ষুব্ধরা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে আব্দুল হামিদ চৌধুরী (৭৫) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে। এতে বাসটির বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। 

সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের হাফিজিয়া মাদরাসার পাশে ভূরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, আব্দুল হামিদ মোটরসাইকেল নিয়ে পার্শ্ববর্তী সড়ক থেকে মহাসড়কে ওঠার সময় ঢাকাগামী স্বাধীন পরিবহনের একটি নৈশ কোচ তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তাঁর একটি পা থেঁতলে যায় এবং মাথায় আঘাত লাগে।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্বাধীন পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার সফি বলেন, যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে এবং পরে সেটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েম জানান, আহত ব্যক্তিকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে।

আহতের ছেলে খোকন চৌধুরী বলেন, ‘আমার বাবার অবস্থা আশংকাজনক। আমরা তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।’ 

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঘটনার কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।’

গাইবান্ধায় জমির বিরোধে কলেজছাত্র হত্যা, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় জমির বিরোধে কলেজছাত্র হত্যা, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
ছবি: কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধা সদর উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে অনার্স পড়ুয়া কলেজছাত্র ফাহমিদ রুমনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যের আগে রুমনের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে নিহত রুমনের স্বজন ও এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা অভিযুক্ত রাকিবের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরে গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কে দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

পুলিশ জানায়, ত্রিমোহনী এলাকার মৃত ফারুক ইসলামের ছেলে ফারদিন রুহিতের সঙ্গে একই গ্রামের হাজী ছানা মিয়ার ছেলে রাকিব মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রবিবার (৭ জুন) রাত সাড়ে নটার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রাকিব ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুহিতকে আঘাত করেন।

এ সময় রুহিতের ছোট ভাই ফাহমিদ রুমন তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুই ভাইকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রুহিত বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন কালের কণ্ঠকে জানান, এ ঘটনায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে  অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 

পটিয়ায় যুবলীগকর্মী খোরশেদসহ দুই আসামি গ্রেপ্তার

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পটিয়ায় যুবলীগকর্মী খোরশেদসহ দুই আসামি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের পটিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে পৃথক দুটি অভিযানে যুবলীগের এক সক্রিয় কর্মী ও একটি মারামারি মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পটিয়া থানা পুলিশ।

রবিবার (৭ জুন) গভীর রাতে উপজেলার জঙ্গলখাইন ও জিরি ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধীন গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।

পটিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নাইখাই এলাকার বাসিন্দা মো. খোরশেদ আলমকে (৪৬) তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি স্থানীয়ভাবে যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে পটিয়া থানার একটি হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ একাধিক গুরুতর ধারার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে খোরশেদ আলমকে সাবেক হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর অনুসারী এবং জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা হাসান মেম্বারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, পৃথক অভিযানে এজাহারভুক্ত আসামি জয়নাল আবেদীনকে (২৬) রাত সোয়া ১টার দিকে জিরি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাইদাইর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মারামারি, গুরুতর জখম, নারী নির্যাতন, চুরি ও প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে।

পুলিশ আরো জানায়, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দীর্ঘদিন পলাতক এবং বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পটিয়া উপজেলায় অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, পটিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত ও বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম সম্প্রতি মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ অবস্থানের পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরো দৃশ্যমান হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। 

ভাঙ্গায় বিয়ের অনুষ্ঠানে মাংস কম দেওয়ার সংঘর্ষ, আহত ৭

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ভাঙ্গায় বিয়ের অনুষ্ঠানে মাংস কম দেওয়ার সংঘর্ষ, আহত ৭
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশনের সময় গরুর মাংস কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে কমপক্ষের সঙ্গে তাদের আমন্ত্রিত প্রতিবেশীদের মধ্যে সংঘর্ষের হয়েছে। এতে কমপক্ষে দুই পক্ষের ৭ জন আহত হয়। এদের মধ্যে চারজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সোমবার (৮জুন) বিকেল ৩ টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া নয়াকান্দি গ্রামে সংর্ষের ঘটনা ঘটে। 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমবার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া নয়াকান্দি গ্রামে লাভলু শেখের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে খাওয়ার সময়  নিজ পক্ষের আমন্ত্রিত প্রতিবেশীদের কয়েকজন  মাংস কম দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে অতিথিদের মধ্যের কয়েক যুবক মাংস টেবিলের নিচে লুকিয়ে রাখছে বলে কনে পক্ষের লোকজন অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগ পাল্টা অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাক বিতন্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষ লাঠি-সোটা ও ইট -পাটকেল নিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়। এদের মধ্যে ৪জনকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তারা হলেন আরিফ মিয়া, শহীদ মাতুব্বর, সোহরাব মাতুব্বর এবং মমতাজ বেগম। অন্যরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। 

কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল মাতুব্বর বলেন, বিয়ে বাড়িতে মাংস  কম দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবং স্থানীয় কিছু সমস্যা থাকায়  দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এখানে মেয়ে পক্ষের সাথে বরপক্ষের কোন ঝামেলা হয়নি। যাদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে তারা মেয়ে পক্ষের আমন্ত্রিত অতিথি। সংঘর্ষের পরে বরসহ বরপক্ষের লোকজন মেয়ে বাড়িতে আসেন এবং বিয়ে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। 

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মেয়েপক্ষের বাড়িতে তাদের আমন্ত্রিত কিছু  অতিথিকে  মাংস কম দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তিনজন আহত ব্যক্তি ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। বিয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কোন পক্ষের কেউ থানায় কোন অভিযোগ করেনি।’