‘অল্প জায়গায় সবজি চাষে, অভাব মিটে সংসার চলে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী ও পুষ্টি সচেতন করে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সংগঠনটির চিরিরবন্দর উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলার ৫ নম্বর আব্দুলপুর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামে ৩০টি পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন জাতের সবজি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় নারীরা উৎসবমুখর পরিবেশে অংশ নেন। লাউ, মিষ্টিকুমড়া, ঝিঙা, শসা, ঢেঁড়স, করলা, বেগুন, কাঁচা মরিচ ও পেঁপেঁসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির চারা তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে। শুধু চারা বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবকেরা; বাড়ির আঙিনার পতিত ও খালি জায়গা কাজে লাগিয়ে কীভাবে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা যায়, পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে বাড়তি আয় নিশ্চিত করা যায়—সেসব বিষয়েও নারীদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ৫ নম্বর আব্দুলপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফয়েজ হাসান বলেন, বসতবাড়ির আঙিনায় বিষমুক্ত সবজি চাষের মাধ্যমে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব। বর্তমান সময়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
সভাপতির বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ চিরিরবন্দর উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মোস্তাকিম আল-হাসনাত বলেন, আমাদের মা-বোনেরা যদি বাড়ির আঙিনার সামান্য জায়গাটুকুও ফেলে না রেখে সবজি চাষ করেন, তাহলে একদিকে যেমন পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে বাজার খরচও অনেক কমে যাবে। অতিরিক্ত সবজি বিক্রি করে পরিবারে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও স্বাবলম্বী সমাজ গঠনে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চারা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন স্থানীয় গৃহিণীরা। তাদের একজন বলেন, অনেক দিন ধরেই বাড়ির উঠানে সবজি চাষ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ভালো চারা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। আজ শুভসংঘ থেকে বিনামূল্যে চারা পেয়ে খুবই উপকৃত হলাম। এখন নিজের পরিবারের জন্য নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারব, আর অতিরিক্ত হলে বিক্রিও করতে পারব। এতে সংসারের আয়ও কিছুটা বাড়বে।
স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো গ্রামের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাড়ির পতিত জায়গাকে উৎপাদনের আওতায় এনে নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিও আরো শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ চিরিরবন্দর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল রায়, প্রচার সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, পলাশ রায়সহ সংগঠনের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বসুন্ধরা শুভসংঘের বন্ধুরা জানান, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাবে, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত হবে এবং একটি সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও স্বাবলম্বী সমাজ গড়ে তুলতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।











