সরকার অনুমোদিত চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) মাধ্যমে পেশাগত নিবন্ধনের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সরকারি ও বেসরকারি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) শিক্ষার্থী, ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সিদ্ধান্ত এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত কর্মপরিধির আলোকে চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের বিএমডিসির মাধ্যমে সীমিত পরিসরে পেশাগত নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের মহাসচিব লায়ন মুহাম্মদ কামাল বলেন, রাষ্ট্র নিজেই চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমা শিক্ষা চালু করেছে। সরকার পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানসহ সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এই জনবল নিয়োগও দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের জন্য ১০টি কর্মপরিধিও নির্ধারণ করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা বিএমডিসির পেশাগত নিবন্ধন এবং প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে হাজার হাজার প্রশিক্ষিত ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী কর্মসংস্থান সংকট, পেশাগত বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মো. শাহাদাত হোসেন দাবি করেন, সমযোগ্যতাসম্পন্ন মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টরা বিএমডিসি আইনের ১৫ ধারা ও পঞ্চম তফসিল অনুযায়ী নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছেন। অথচ চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা একই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা সংবিধানের ১৯, ২৬, ২৭ ও ৪০ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
বক্তারা সরকারের কাছে অবিলম্বে বিএমডিসি আইন, ২০১০-এর ৩৫ ধারার আওতায় তফসিল সংশোধন অথবা একই আইনের ৩৬ ধারার আলোকে চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের জন্য পৃথক বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন এমট্যাবের সভাপতি এ কে মুসা লিটন, মহাসচিব বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব, বাংলাদেশ মেডিক্যাল টেকনোলজি অ্যান্ড ফার্মেসি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাফিজুর রহমান, মহাসচিব মো. আইনুল হক, হারুনুর রশীদ ও আওরঙ্গ খালেদ মোসান্না প্রমুখ।
সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, অবিলম্বে দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী ১৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হবে।





