• ই-পেপার

দেহের ৯৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা কি স্বাভাবিক নাকি জ্বর?

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩২ জন।

শনিবার (৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।   

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে ৬১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৫২২ এবং হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯১ শিশু।

১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেয় ৭৭ হাজার ৭৯১ জনের। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৩ হাজার ১৩৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৫৮ হাজার ৯৬৪ জন বাড়ি ফিরেছে।

কালকের মধ্যে আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজের জবাব দিতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
কালকের মধ্যে আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজের জবাব দিতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আগামীকাল রবিবার বিকেলের মধ্যে আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ নোটিশের জবাব দিতে হবে, কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না। সন্তোষজনক উত্তর না পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে মিন্টো রোডের বাসায় স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি বিষয়ে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকাল ১০টা পর্যন্ত দেশব্যাপী সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের করা হয়েছে। রবীন্দ্র সরণি থেকে শুরু করে ঢাকা শহরসহ সারা দেশের জেলা শহরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আগামীকাল সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সচিবালয়ে আরো ১ লাখ স্যালাইন পাওয়া যাবে। এর আগে, ১ লাখ স্যালাইন বিদেশ থেকে বিনা মূল্যে এসেছে, ফলে মোট মজুদ দাঁড়াবে ২ লাখে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় এই স্যালাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরো স্যালাইন সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

হাম ও উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হাম ও উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু
মায়ের কোলে হামে আক্রান্ত শিশু। গতকাল রাজধানীর মহাখালীর সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতাল থেকে তোলা। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছরে এই রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১০ জনে।

এদের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়া অন্তত ৯১টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫১৯ শিশু।

অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুসারে, গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ১৬৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ২৪৩ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়া অন্তত ৯১টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরো ৫১৯টি শিশু। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা ৬১০-এ পৌঁছেছে।

নীরব ঘাতক ক্যান্সার : কেন হয়, কোন লক্ষণ দেখলেই হবেন সতর্ক?

অনলাইন ডেস্ক
নীরব ঘাতক ক্যান্সার : কেন হয়, কোন লক্ষণ দেখলেই হবেন সতর্ক?
প্রতীকী ছবি

ক্যান্সার শব্দটি শুনলেই এখনো আমাদের মনে এক অজানা আতঙ্ক ভর করে। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতি এই মরণব্যাধিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণযোগ্য করে তুলেছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ভয় পেয়ে লুকিয়ে রাখা নয়, বরং সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করাই ক্যান্সার জয়ের মূল চাবিকাঠি। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অনেক ধরনের ক্যান্সার এখন সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। তাই এই নীরব ঘাতক সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা এবং শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তন নিয়ে সচেতন হওয়াই হতে পারে এর বিরুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে বড় ঢাল। খবর ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

  • ক্যান্সার আসলে কী

আমাদের শরীর কোটি কোটি কোষ দিয়ে তৈরি। সাধারণত এসব কোষ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জন্ম নেয়, কাজ করে এবং একসময় মারা যায়। কিন্তু কোনো কারণে কোষের জিনে পরিবর্তন বা মিউটেশন ঘটলে সেই কোষ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। তখনই সৃষ্টি হয় ক্যান্সার। এই অস্বাভাবিক কোষগুলো ধীরে ধীরে টিউমার তৈরি করতে পারে এবং শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘মেটাস্টেসিস’। বিশ্বজুড়ে ১০০টিরও বেশি ধরনের ক্যান্সার রয়েছে। তবে সাধারণভাবে এগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

  • সলিড ক্যান্সার

এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। স্তন, ফুসফুস, ত্বক, কোলনসহ বিভিন্ন অঙ্গে এ ধরনের ক্যান্সার হতে পারে।

  • রক্তের ক্যান্সার

রক্তকণিকা বা লসিকাতন্ত্রে শুরু হওয়া ক্যান্সারকে এই শ্রেণিতে রাখা হয়। যেমন লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা ও মাল্টিপল মায়েলোমা।

  • মিশ্র ক্যান্সার

কিছু ক্যান্সার একাধিক ধরনের বৈশিষ্ট্য বহন করে। এগুলো তুলনামূলকভাবে বিরল।

  • ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণ

ক্যান্সারের লক্ষণ রোগের ধরন ও অবস্থার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে, যেগুলোকে অবহেলা করা উচিত নয়।

  • দীর্ঘদিন ক্লান্তি অনুভব করা
  • রাতে জ্বর আসা
  • ক্ষুধামন্দা
  • অতিরিক্ত রাতের ঘাম
  • দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
  • কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
  • ত্বকে নতুন তিল বা পুরনো তিলের আকৃতি ও রং পরিবর্তন
  • শরীরের কোথাও অস্বাভাবিক গাঁট বা ফোলা
  • প্রস্রাব বা মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া
  • কাশির সঙ্গে রক্ত আসা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • কেন হয় ক্যান্সার

ক্যান্সার মূলত একটি জিনগত রোগ। তবে এর অর্থ এই নয় যে এটি সবসময় বংশগত। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ ক্যান্সার সরাসরি বংশগত কারণে হয়ে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জীবনযাত্রা, পরিবেশ ও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাসের কারণে কোষে পরিবর্তন ঘটে এবং ক্যান্সার তৈরি হয়। যেসব কারণে বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হয় সেগুলো হলো—

  • ধূমপান

ফুসফুস, মুখগহ্বর, খাদ্যনালি ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপান।

  • পারিবারিক ইতিহাস

পরিবারের নিকটাত্মীয়দের ক্যান্সার থাকলে ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকে।

  • পরিবেশ দূষণ

অ্যাসবেস্টস, কীটনাশক ও রেডনের মতো বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শে দীর্ঘদিন থাকলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

  • অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

অতিরিক্ত চর্বি ও চিনি সমৃদ্ধ খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

  • অতিরিক্ত রোদে থাকা

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।

ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক প্রথমে রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করেন এবং রোগের ইতিহাস সম্পর্কে জানেন। প্রয়োজন হলে বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়। যেমন : রক্ত পরীক্ষা, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, আলট্রাসনোগ্রাম, বায়োপসি ও জেনেটিক পরীক্ষা। ক্যান্সারের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।

ক্যান্সার কি প্রতিরোধ করা সম্ভব : সব ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা না গেলেও ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

  • ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য বর্জন করুন
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন
  • অতিরিক্ত রোদ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ক্যান্সার স্ক্রিনিং করান
  • পরিবেশগত বিষাক্ত উপাদান থেকে দূরে থাকুন

ক্যান্সার শুধু শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও একজন মানুষকে প্রভাবিত করে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া, মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, কাউন্সেলিং কিংবা সাপোর্ট গ্রুপে যুক্ত হওয়া রোগীর মানসিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

ক্যান্সার মানেই জীবনের শেষ নয়। আধুনিক চিকিৎসার কারণে অনেক রোগী দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করছেন। তাই ভয় না পেয়ে সচেতন হওয়া, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং শরীরের কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়াই হতে পারে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

দেহের ৯৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা কি স্বাভাবিক নাকি জ্বর? | কালের কণ্ঠ