ফ্রান্সে শুক্রবার (১২ জুন) থেকে কার্যকর হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন মাইগ্রেশন ও অ্যাসাইলাম প্যাক্ট। এর ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সীমান্তে বাধ্যতামূলক যাচাই, দ্রুত প্রত্যাবাসন, ডাবলিন নীতির সংশোধন এবং বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহসহ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইইউর বহিঃসীমান্তে আশ্রয় আবেদনকারী অনিয়মিত অভিবাসীদের সর্বোচ্চ সাত দিনের বাধ্যতামূলক ‘ফিল্টারিং’ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এ সময় তাদের পরিচয়, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হবে। ফিল্টারিং চলাকালে আবেদনকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফরাসি ভূখণ্ডে প্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে না।
যাচাই শেষে আবেদনকারীকে সাধারণ আশ্রয় প্রক্রিয়া অথবা সীমান্তভিত্তিক বিশেষ আশ্রয় প্রক্রিয়ায় পাঠানো হবে। সীমান্ত প্রক্রিয়ার আওতায় পড়লে তাকে সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহ সীমান্তসংলগ্ন কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে এবং সেখানেই তার আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে।
ফ্রান্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ৬১৫টি স্থান প্রস্তুত রাখার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে প্রায় ৩০০টি। এর মধ্যে ১৫৭টি স্থান রোয়াসি শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে। ফরাসি অভিবাসন ও ইন্টিগ্রেশন দপ্তরের (ওএফআইআই) মহাপরিচালক দিদিয়ে লেসচি জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে বিমানবন্দরসংলগ্ন হোটেল ব্যবহার করা হবে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন অনুমোদনের হার ইইউতে ২০ শতাংশ বা তার কম, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি এবং কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করার সন্দেহভাজনদের সীমান্ত আশ্রয় প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হতে পারে।
এছাড়া ফ্রান্সের অভ্যন্তরে অনিয়মিত অবস্থায় শনাক্ত কিছু ব্যক্তিকেও ফিল্টারিংয়ের আওতায় আনা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের অভিযানে আটক কোনো অনিয়মিত অভিবাসী আশ্রয় চাইলে তাকেও একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।
নতুন প্যাক্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, সীমান্তে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আপিল বিচার শেষ হওয়ার আগেই দেশত্যাগের নির্দেশ কার্যকর করা যেতে পারে। বর্তমানে আপিল চলাকালে বহিষ্কার কার্যক্রম সাধারণত স্থগিত থাকে।
ডাবলিন বিধিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি অন্য একটি ইইউ দেশে আগে আশ্রয় আবেদন করে থাকলে সেই দেশই তার আবেদন পরীক্ষা করবে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব বহনের সময়সীমা ১২ মাস থেকে বাড়িয়ে ২০ মাস করা হয়েছে।
ইউরোড্যাক ডেটাবেজে তথ্য সংরক্ষণের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারী সব ব্যক্তির তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। আঙুলের ছাপের পাশাপাশি মুখের বায়োমেট্রিক তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। ছয় বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুরাও এ ব্যবস্থার আওতায় থাকবে।
সামাজিক সহায়তা সুবিধার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ডাবলিন প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত আবেদনকারীরা আগের মতো সুবিধা পাবেন না। তবে পুনরায় বা বিলম্বিত আশ্রয় আবেদনকারীদের জন্য সীমিত সহায়তা চালু রাখা হবে।
তবে ‘নিরাপদ তৃতীয় দেশে’ আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াকরণ এবং ইউরোপের বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের মতো কিছু বিতর্কিত প্রস্তাব ফ্রান্স বাস্তবায়ন করবে না বলে জানিয়েছে।






