কানাডার ওভেন সাউন্ড শহরে বকেয়া বিল নিয়ে বিরোধের জেরে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট মালিক শরিফ রহমান (৪৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিন ব্রিটিশ নাগরিক নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) কানাডার একটি আদালতে ২৫ বছর বয়সী রবার্ট ইভান্স জুনিয়র অনিচ্ছাকৃত নরহত্যার অপরাধ স্বীকার করেন। আগামী মাসে তার সাজা ঘোষণা করা হবে। বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
একই সঙ্গে তার বাবা রবার্ট বাসবি ইভান্স (৪৯) ও চাচা ব্যারি ইভান্স (৫৬) এই অপরাধের সহযোগী হিসেবে নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন। ইতিমধ্যে কারাভোগের মেয়াদ বিবেচনা করে আদালত তাদের মুক্তি দিয়েছেন এবং কানাডিয়ান বর্ডার এজেন্সি তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
গণমাধ্যমটির তথ্য মতে, ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালে টরন্টো থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওভেন সাউন্ড শহরে। সেখানে একটি কারি হাউসে (কারি রেস্তোরাঁ) ১৫০ কানাডিয়ান ডলারের একটি বকেয়া বিল নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ইভান্স পরিবারের সঙ্গে শরিফ রহমানের হাতাহাতি হয়। পরবর্তী সময়ে রেস্তোরাঁর বাইরে রাস্তায় শরিফ রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এক কর্মী।
ঘটনার এক সপ্তাহ পর ওন্টারিওর লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এক সন্তানের জনক শরিফ রহমান।
বিবিসি জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা দ্রুত দেশ ত্যাগ করেন। ঘটনার এক বছরেরও বেশি সময় পর গত বছর স্কটল্যান্ডের এডিনবরা ও ডালকিথ থেকে স্কটল্যান্ড পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তরা মূলত ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা। তারা পর্যটন ভিসায় কানাডায় গিয়েছিলেন।
গত বছরের অক্টোবরে এডিনবরা শেরিফ কোর্টে শুনানির সময় তিন অভিযুক্তই কানাডার বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে নিজেদের সম্মতিতে কানাডায় প্রত্যর্পণের চুক্তি মেনে নেন।
মাত্র ২২ হাজার মানুষের ছোট শহর ওভেন সাউন্ডে শরিফ রহমান একজন অত্যন্ত সুপরিচিত ও সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। শহরের মেয়র ইয়ান বডি শরিফ রহমানকে স্মরণ করে বলেন, ‘তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র এবং একজন অসাধারণ মানুষ, যাকে সবাই পছন্দ করত। তাই এই ঘটনাটি পুরো শহরের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। অবশেষে আদালত এই মামলার রায় দেওয়ায় শহরবাসী স্বস্তি পেয়েছেন। আমরা আশা করি, মানুষ তার দয়ালু মনোভাব ও উষ্ণতার স্মৃতি মনে রাখবে।’





