• ই-পেপার

সারাদিন বিদ্যুৎহীন নারায়ণগঞ্জ, আরো ২৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

সীমানা নিয়ে বিরোধ: গাইবান্ধায় প্রতিপক্ষের হামলায় কলেজছাত্রের মৃত্যু

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
সীমানা নিয়ে বিরোধ: গাইবান্ধায় প্রতিপক্ষের হামলায় কলেজছাত্রের মৃত্যু
ছবি: কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধায় বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র ফাহমিদ রুমন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অপর ভাই ফারদিন রুহিত আহত হন।

রবিবার (৬ জুন) রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকার পেয়ারাপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র ফাহমিদ রুমন ও আহত তার সহোদর ফারদিন রুহিত ওই এলাকার মৃত ফারুক ইসলামের ছেলে।

চিকিৎসাধীন আহত ফারদিন রুহিত জানান, বাড়ির সীমানা নিয়ে প্রতিবেশী ছানা মিয়ার সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি তারা আমিন দিয়ে পরিমাপ করে তাদের বাড়ির সীমানা নির্ধারণ করে নেন। নির্ধারিত সীমানায় দেয়াল তুলতে গেলে প্রতিবেশী ছানা মিয়া বাধা দেন এবং তার মা ও ছোট ভাই রুমনকে মারধর করে।

স্থানীয়রা জানান, গার্মেন্টস কর্মী রুহিত ঢাকা থেকে ফিরে রবিবার কেউ নাকি রাতে ছানা মিয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার ছেলে রাকিব রুহিত ও রুমনকে ছুরিকাঘাত করে। আশেপাশের লোকজন গুরুতর আহত দুই ভাইকে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিলে  কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাহমিদ রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একজন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে দুই পক্ষের দুজন আহত। 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, নোয়াখালীতে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৪৭

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, নোয়াখালীতে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৪৭
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্টে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো বেশ কয়েকজন রয়েছে।

রবিবার (৬ জুন) মামলার এজাহারভুক্ত ২৪ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মিরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এতে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। 

এ ঘটনায় সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা হয়। মামলা রুজুর পর শুক্রবার দিবাগত রাতে এজাহারনামীয় ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সুধারাম থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত ও অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের শুক্রবারের কর্মসূচির রেশ ধরে শনিবার বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লকিয়া গ্রামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় আওয়ামী লীগের একটি অফিস ঘর ও বিএনপি কর্মিদের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়।

৫ বছর পর বাড়ি ফেরার স্বপ্ন, ফিরছেন লাশ হয়ে

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
৫ বছর পর বাড়ি ফেরার স্বপ্ন, ফিরছেন লাশ হয়ে
নিহত শহীদ উল্ল্যাহ

আর মাত্র কয়েকদিন পরই পরিবারের কাছে ফিরতেন তিনি। পাঁচ বছর পর দেশে ফেরার জন্য টিকিট কাটা, স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষা—সব প্রস্তুতিই ছিল সম্পন্ন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, জীবিত অবস্থায় আর বাড়ি ফেরা হলো না প্রবাসী শহীদ উল্ল্যাহর। পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা শেষে সড়ক পার হওয়ার সময় বেপরোয়া গতির একটি প্রাইভেট কারের চাপায় প্রাণ হারান তিনি। এখন তিনি ফিরবেন কফিনবন্দি হয়ে।

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জমাদার গ্রামের আস্কর আলী বৈদ্দ্য বাড়ির মরহুম মোহাম্মদ মিস্ত্রীর চতুর্থ ছেলে শহীদ উল্ল্যাহ (৪৮) শনিবার রাত ১১টার দিকে ওমানের লুলু মার্কেটের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

এদিকে শহীদ উল্ল্যাহর মৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে পরিবার পাঁচ বছর পর প্রিয় মানুষটিকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল, সেই পরিবারকেই এখন গ্রহণ করতে হবে তার নিথর দেহ। প্রবাস জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে ঘরে ফেরার স্বপ্নটি শেষ পর্যন্ত থেমে গেল ওমানের একটি সড়কের ওপর।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ওমানে একটি প্রতিষ্ঠানে এমব্রয়ডারি কর্মী হিসেবে কাজ করতেন শহীদ উল্ল্যাহ। এর আগে স্বল্প সময়ের জন্য দেশে এলেও এবার টানা পাঁচ বছর পর বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। আগামী ১১ জুন ওমান থেকে সকাল ১১টায় রওয়ানা হয়ে ১২ জুন সকাল ৭টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল তার। শনিবার রাতেই ওমান থেকে মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শোকে ভেঙে পড়ে পরিবার। বর্তমানে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে কয়েক দিনের মধ্যে তার মরদেহ দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন স্বজনরা।

নিহতের ছোট ভাই এমদাদ হোসেন বলেন, ভাইয়া পাঁচ বছর পর বাড়ি আসার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। টিকিট কাটা হয়েছিল, পরিবারের সবার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনাও ছিল। শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের জন্য কিছু কেনাকাটা করে সড়ক পার হওয়ার সময় একটি বেপরোয়া প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারের ওপর উঠে তাকে চাপা দেয়। পরে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো বলেন, পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছিল ভাইয়াকে বরণ করে নেওয়ার জন্য। সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু এখন ভাইয়া ফিরবেন লাশ হয়ে। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

কক্সবাজারে অপহৃত শিশু মহেশখালীর পাহাড় থেকে উদ্ধার, রোহিঙ্গা নারী আটক

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজারে অপহৃত শিশু মহেশখালীর পাহাড় থেকে উদ্ধার, রোহিঙ্গা নারী আটক
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকা থেকে অপহৃত শিশু আবির হোসেনকে (৫) মহেশখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (৭ জুন) বিকেলে মহেশখালীর দেবেঙ্গাপাহাড় পাহাড়তলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সময় অপহরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রংবাহার নামের এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শিশুটি কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা। গত ৫ জুন রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে সে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। পরে অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে ফোন করে শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার শর্তে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

ঘটনার পর শিশুটির মা সুমি আক্তার কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অপহরণকারীদের শনাক্ত ও শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। অভিযানের এক পর্যায়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং রংবাহার নামের এক নারীকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাকে উখিয়ার কুতুপালং-৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘জিডি হওয়ার পরপরই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মহেশখালী থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আটক নারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি অপহরণ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’