• ই-পেপার

ইরান ছেড়ে আজারবাইনে ১৮৬ বাংলাদেশি, আজ পৌঁছাতে পারেন ঢাকায়

প্যারিসে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুখবর

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
প্যারিসে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুখবর
সংগৃহীত ছবি

প্যারিসে ই-পাসপোর্টের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল বাংলাদেশি প্রবাসীদের। সেই ভোগান্তি লাঘবে বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালু করেছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। 

শনিবার (২৫ জুলাই) শুরু হওয়া এ উদ্যোগে পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই প্রথম দিনেই ৮০ জনের বেশি প্রবাসী ই-পাসপোর্টের আবেদন সম্পন্ন করেন। তবে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সেবা আরো সহজ, দ্রুত ও প্রবাসীবান্ধব করার দাবি জানিয়েছেন প্রবাসীরা।

সম্প্রতি ই-মেইলভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে ওয়েবসাইটভিত্তিক অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে বাংলাদেশ দূতাবাস। নতুন এ ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে সীমিতসংখ্যক স্লট উন্মুক্ত করা হলেও অনেক আবেদনকারী দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও সময়মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

একজন আবেদনকারী বলেন, ‘আমি গতকাল রাতে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারিনি। ওয়েবসাইটে বারবার ত্রুটি দেখাচ্ছিল।’

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ই-পাসপোর্ট আবেদনের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া এবং সাম্প্রতিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে প্রথম দফায় ২৫ জুলাই, ৮ ও ২২ আগস্ট—এই তিনটি শনিবার বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব প্রবাসীর ফরাসি প্রশাসন বা প্রেফেচুরে রেসিডেন্স পারমিট-সংক্রান্ত নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট রয়েছে, তাদের ভোগান্তি কমাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে এফ এম শারহাদ শাকিল বলেন, ‘বিশেষ কনস্যুলার সেবার প্রথম দিনের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রথম দিনেই ৮০ জনের বেশি ব্যক্তিকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিগত সময়ে যারা ই-পাসপোর্ট আবেদনের জন্য ই-মেইল করেছিলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেসব আবেদন ও ই-মেইলের জবাবও সম্পন্ন করা হবে।’

ওয়েবসাইটে কারিগরি জটিলতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে সাময়িক কারিগরি সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমরা আইটি টিমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি, যাতে সাইটটি আরো সহজ, কার্যকর ও প্রবাসীবান্ধব করা যায়।’

কনস্যুলার সেবায় জনবল সংকট রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দ্বিতীয় সচিব বলেন, ‘বৃহৎ প্রবাসী কমিউনিটির তুলনায় প্রায় সব দেশেই কনস্যুলার সেবায় জনবল বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। তবে এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। আমরা বিদ্যমান জনবল ও সক্ষমতা দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

শনিবারের বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবীরাও দূতাবাসকে সহায়তা করেন। আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় দিকনির্দেশনার মাধ্যমে তারা সেবা কার্যক্রমকে আরো সুশৃঙ্খল ও দ্রুত সম্পন্ন করতে ভূমিকা রাখেন। দূতাবাসের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন উপস্থিত প্রবাসীরা।

সম্প্রতি ই-পাসপোর্টের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দূতাবাস বিশেষ কনস্যুলার সেবাসহ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তবে প্রবাসীদের মতে, শুধু বিশেষ কনস্যুলার সেবা নয়, দীর্ঘ মেয়াদে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাকে আরো নির্ভরযোগ্য ও ব্যবহারবান্ধব করতে হবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য একটি কার্যকর টেলিফোন হেল্পলাইন চালু এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কনস্যুলার সেবার পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
 

ড. ফয়েজ উদ্দিনের সাক্ষাৎকার

‘আমি বিশ্বাস করি, উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ’

নুরুল হক শিপু, যুক্তরাজ্য
‘আমি বিশ্বাস করি, উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ’

বাংলাদেশ যখন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার নতুন বাস্তবতা নিয়ে ভাবছে, তখন আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে। যুক্তরাজ্যে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার, কমিউনিটি উন্নয়ন, শিক্ষা, পুলিশ-জনসম্পর্ক ও নীতিনির্ধারণে কাজ করা ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই মনে করেন, আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর স্থানীয় সরকারই বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি। তিনি বিশ্বাস করেন, উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ। তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে কালের কণ্ঠের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি নুরুল হক শিপুর সঙ্গে কথা বলেছেন।

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ঘিরে আপনি কেন এত আশাবাদী?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : কারণ আমি বিশ্বাস করি, একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি গড়ে ওঠে শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের ওপর। উন্নত বিশ্বে নাগরিকের অধিকাংশ মৌলিক সেবা স্থানীয় সরকারই নিশ্চিত করে। বাংলাদেশেও যদি কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ, আর্থিক স্বায়ত্তশাসন, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে জনগণের জীবনমান ও প্রশাসনিক দক্ষতা—দুই ক্ষেত্রেই যুগান্তকারী পরিবর্তন সম্ভব।

কালের কণ্ঠ : যুক্তরাজ্যে আপনার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাই।

ড. ফয়েজ উদ্দিন : বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে কাজ করার পর ১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে আসি। এরপর বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করি। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। এই দীর্ঘ পথচলায় নীতি বাস্তবায়ন, কমিউনিটি নেতৃত্ব, বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সম্প্রীতি, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।

কালের কণ্ঠ : স্থানীয় সরকার পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কতটা কার্যকর হতে পারে?

ফয়েজ উদ্দিন এমবিই : প্রতিটি দেশের বাস্তবতা আলাদা, কিন্তু ভালো নীতির কোনো সীমান্ত নেই। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অনেক কার্যকর দিক বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রহণ করা সম্ভব। আমি মনে করি, অভিজ্ঞতা অনুকরণ নয়; বরং বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে প্রয়োগ করাই গুরুত্বপূর্ণ।

কালের কণ্ঠ : কমিউনিটি পুলিশিং নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কী বলছে?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার সময় দেখেছি, জনগণের আস্থা ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা টেকসই হয় না। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মূল শক্তি হচ্ছে জনগণকে অংশীদার হিসেবে দেখা। বাংলাদেশেও এই সংস্কৃতি আরো শক্তিশালী করা সম্ভব।

কালের কণ্ঠ : শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে আপনার কাজের ক্ষেত্র কতটা বিস্তৃত?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : নিউ হোপ গ্লোবাল এবং নিউ হোপ এডুকেশন সিআইসি-এর মাধ্যমে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছি। আমি বিশ্বাস করি, উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ।

কালের কণ্ঠ : স্থানীয় সরকার সংস্কার নিয়ে আপনার গবেষণার মূল বক্তব্য কী?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : আমার গবেষণার মূল বিষয় হলো—প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, আর্থিক স্বায়ত্তশাসন, নাগরিক অংশগ্রহণ, ডিজিটাল সেবা এবং সুশাসন। আমি মনে করি, স্থানীয় সরকারকে যদি পর্যাপ্ত ক্ষমতা ও জবাবদিহিতার কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত করা যায়, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ কমবে এবং জনসেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে নীতিগত আলোচনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কিছু বলবেন?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে স্থানীয় সরকার আধুনিকায়ন, শিক্ষা, পুলিশ সংস্কার এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এসব আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পথ খোঁজা।

8

কালের কণ্ঠ : আপনি দাবি করেন বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রাথমিক খসড়া তৈরির কাজেও সম্পৃক্ত ছিলেন।

ড. ফয়েজ উদ্দিন : হ্যাঁ, আমি সে ধরনের একটি প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত ছিলাম বলে আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব বলেই আমি মনে করি।

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কারে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : বিশ্বের বহু দেশ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক আধুনিকায়নে সফল হয়েছে। বাংলাদেশও যদি যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে, তাহলে নীতিনির্ধারণ আরো সমৃদ্ধ হবে।

কালের কণ্ঠ : যদি সরকার আপনাকে স্থানীয় সরকার সংস্কার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানায়?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : আমি এটিকে ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে নয়, দেশের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে দেখব। আমার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং কর্মজীবনের শিক্ষা যদি বাংলাদেশের মানুষের উপকারে আসে, সেটিই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

66

কালের কণ্ঠ : নতুন প্রজন্মের জন্য আপনার বার্তা কী?

ড. ফয়েজ উদ্দিন : পৃথিবীর যেখানেই থাকুন, নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর মানসিকতা রাখতে হবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে শুধু সরকারের নয়, দেশের প্রতিটি মেধাবী মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, দেশের ভবিষ্যৎ গড়বে দক্ষতা, সততা এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব।

বিপদে পড়া একজনকে বাঁচাতে গিয়ে

ব্রিটেনের সৈকতে ডুবে প্রাণ গেল বাংলাদেশি মা-মেয়ের

নুরুল হক শিপু, যুক্তরাজ্য
ব্রিটেনের সৈকতে ডুবে প্রাণ গেল বাংলাদেশি মা-মেয়ের

যুক্তরাজ্যের সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি এক মা ও তার কিশোরী মেয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রে বিপদে পড়া পরিবারের এক সদস্যকে উদ্ধার করতে গিয়ে তারা প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান। এ ঘটনায় আরো তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে ওয়েস্ট মার্সির সিভিউ এভিনিউসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন যুক্তরাজ্য যুবদলের সহসভাপতি শেখ মনসুর রহমানের স্ত্রী সেলিনা রহমান (৪২) ও তাদের কন্যা সামিয়া রহমান (১৫)। হাসপাতালে ভর্তি মনসুরের শ‍্যালিকার ছেলে মুসা আহমেদের (৯) অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এসেক্স পুলিশ জানায়, কয়েকজন পানিতে বিপদে পড়েছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ, কোস্ট গার্ড, অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস, এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স এবং আরএনএলআইয়ের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্রিটিশ বাংলাদেশি পরিবারটি সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়েছিল। এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের কেউ পানিতে বিপদে পড়লে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে আরো কয়েকজন স্রোতে আটকা পড়েন। পরে পাঁচজনকে উদ্ধার করা হলেও দুজনকে সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, কিভাবে তারা পানিতে বিপদে পড়েছিলেন, তা জানতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী বা কারো কাছে ভিডিও ফুটেজ থাকলে তা তদন্তকারীদের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় জোয়ারের পানি দ্রুত বাড়ছিল এবং সমুদ্রে স্রোত ছিল বেশ প্রবল। এ সময় সৈকতের কাছাকাছি থাকা কয়েকজন মুহূর্তের মধ্যে গভীর পানিতে আটকা পড়েন। পরে জরুরি উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।

প্যারিসে গোলটেবিল বৈঠক

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও প্রবাসীদের পৃথক সংসদীয় আসনের দাবি

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও প্রবাসীদের পৃথক সংসদীয় আসনের দাবি
ছবি : কালের কণ্ঠ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জাতীয় সংসদে পৃথক সংসদীয় আসন সৃষ্টির দাবি উঠেছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা, রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আয়োজিত এ বৈঠকে বক্তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে গণভোটের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীদের রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি যুক্ত করার মাধ্যমে তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্যারিসের অদূরে পন্থায় একটি রেস্তোরাঁয় ‘জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফ্রাঙ্কো বাংলা। এতে ফ্রান্সপ্রবাসী সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, কমিউনিটি নেতা ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন ইউরো বার্তার সম্পাদক মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম ও সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফ্রাঙ্কো বাংলার সভাপতি শহিদুল ইসলাম। বৈঠকে বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পূর্বাপর প্রেক্ষাপট, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ভূমিকা এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন অপরিহার্য। এটি বিলম্বিত হলে জুলাইয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমূল্যায়ন করা হবে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে স্বৈরতান্ত্রিক শক্তির উত্থান রোধ করতে হবে বলেও মত দেন তারা।

বৈঠকে ৮ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, জাতীয় সংসদে প্রবাসীদের জন্য পৃথক সংসদীয় আসন সৃষ্টি এবং প্রবাসীদের মরদেহ সম্পূর্ণ সরকারি খরচে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর বলেন, জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোনো অপশক্তি যেন নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে নাগরিক সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশিষ্ট অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মীর জাহান বলেন, জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বিসিএফের সভাপতি মো. নূর বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো রক্তের বিনিময়ে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না হয়, সে জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে নাগরিক সমাজ, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্টদের এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ইউরো বার্তার সম্পাদক মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই- এসবই আমাদের জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব চেতনা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। কোনো বৈষম্য তৈরি করা যাবে না।

এটিএন বাংলার ফ্রান্স প্রতিনিধি রাবেয়া আক্তার সুবর্ণা বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। দেশের বাইরে থেকেও তারা দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ নিয়ে আন্দোলনের পাশে ছিলেন।

এতে বক্তব্য দেন নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর, অ্যাক্টিভিস্ট মীর জাহান, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কাজী হাবিব, এনসিপি ফ্রান্সের যুগ্ম-আহ্বায়ক মনোয়ার পাটওয়ারী, বাংলা টেলিগ্রামের সম্পাদক শাহ সুহেল আহমদ, সিনিয়র সাংবাদিক হাবীবুল্লাহ ফাহাদ, অনুক্ত সংবাদ-এর সম্পাদক অনুক্ত কামরুল, অ্যাক্টিভিস্ট খালেদ মাহমুদ, বিসিএফ প্রেসিডেন্ট এমডি নূর, যুগান্তর প্রতিনিধি সরদার হাসান ইলিয়াস তানিম, বাংলা ভিশনের প্রতিনিধি ইয়াসির আরাফাত খোকন, মহাকাশ গবেষক একরামুল কবির সালমান, এনটিভি প্রতিনিধি আবুল কালাম মামুন, ডিবিসি নিউজ প্রতিনিধি ইকবাল জাফর, অ্যাক্টিভিস্ট শাহ সাইফুল ইসলাম, আদাফ পরিচালক ওয়াদুদ তানভীর, সাংবাদিক আবু তাহের রাজু, ফিদা পরিচালক সায়েম জামিল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ইরান ছেড়ে আজারবাইনে ১৮৬ বাংলাদেশি, আজ পৌঁছাতে পারেন ঢাকায় | কালের কণ্ঠ