• ই-পেপার

আন্দোলনের আড়ালে কিছু মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৯০ দিনের জ্বালানি তেল মজুতের লক্ষ্য সরকারের

অনলাইন ডেস্ক
৯০ দিনের জ্বালানি তেল মজুতের লক্ষ্য সরকারের

জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের যে-কোন ধরনের অস্থিরতার মধ্যেও দেশের শিল্প উৎপাদন ও অর্থনীতির গতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জ্বালানি খাতকে ঝুঁকিমুক্ত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাসস এক প্রতিবেদনে জানায়, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তেলের মজুত সক্ষমতা ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৭১ দিন এবং ২০২৭ সালের মধ্যে তা ৯০ দিনে উন্নীত করা হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জ্বালানি খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ডিপো নির্মাণ, অব্যবহৃত ট্যাংক সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত ট্যাংক ভাড়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।

বিপিসি’র চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ৬০ দিনের বেশি জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তা ৭১ দিনে উন্নীত করা সম্ভব হবে। লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ দিনের মজুত নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।’

জ্বালানি বিভাগ জানায়, জাতীয় জ্বালানি নীতি-১৯৯৬ অনুযায়ী, দেশে ৬০ দিনের কৌশলগত জ্বালানি তেল মজুতের বিধান রয়েছে। বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত থাকায় কোনো সংকট নেই।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি নীতিতে ৬০ দিনের কৌশলগত মজুতের কথা বলা হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় আমরা পর্যায়ক্রমে এটি ৯০ দিনে উন্নীত করবো। এ বিষয়ে কাজ চলছে। তবে এখন দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই।’

জ্বালানি বিভাগের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) জন্য দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮৪ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন।

এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদা ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার টন, যার মাসিক গড় চাহিদা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৫০ টন। এছাড়া ফার্নেস অয়েলের চাহিদা ৭ লাখ ৩৫ হাজার টন, জেট ফুয়েলের ৬ লাখ ৬৩ হাজার টন, অকটেনের ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টন এবং পেট্রোলের ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টন।

বর্তমানে বিপিসি’র আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ ছয়টি কোম্পানির মোট জ্বালানি তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬ টন। এর মধ্যে ৬৭ হাজার ৬৩২ টন ধারণক্ষমতার অবকাঠামো সংস্কার ও মেরামতের কাজ চলছে।

বর্তমানে বিপিসি’র নিজস্ব সক্ষমতায় ডিজেল ৫৭ দিন, অকটেন ৪৬ দিন, পেট্রোল ২৯ দিন এবং ফার্নেস অয়েল ৭৮ দিনের মজুত রয়েছে। এই সক্ষমতাই ৯০ দিনে উন্নীত করতে চায় সংস্থাটি।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনসহ (বিআরটিসি) অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ১ লাখ ৪২ হাজার ২৯৮ টন ডিজেল এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টন ফার্নেস অয়েল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে।

সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ট্যাংক ভাড়ায় ব্যবহার করতে চায়। পাশাপাশি বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮২ হাজার ২০০ টন ধারণক্ষমতার মজুদাগার সংস্কার করে চালু করা হবে।

এ বিষয়ে জ্বালানি সচিব বলেন, ‘সরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানের ট্যাংক ভাড়ার বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেলওয়ে ও বিআরটিসি রয়েছে। এসব বিকল্প সুযোগ মাথায় রাখার পাশাপাশি নিজস্ব অবকাঠামো বাড়াতে সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ডিজেলের ক্ষেত্রে বিপিসি’র বর্তমান কৌশলগত মজুত সক্ষমতা ৫৭ দিনের। তবে বিদ্যুৎ ও রেলওয়ের মতো বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ৩ মাসের তেল কিনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মজুত রাখে, সেক্ষেত্রে কোনো নতুন প্রকল্প ছাড়াই দেশের সামগ্রিক জ্বালানি মজুত আরও ১২ থেকে ১৩ দিন বেড়ে যাবে।’

বিপিসি জানায়, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের আওতায় গত জুনে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোর কমিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ট্যাংক চালু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মজুত সক্ষমতা ২৮ হাজার ৪৩৭ টন বেড়েছে। এতে বিপিসি’র মোট মজুত সক্ষমতা বেড়ে হয়েছে ১৫ লাখ ৭২ হাজার ৫০৩ টন। ২০২৭ সালের মধ্যে পার্বতীপুরে আরও চারটি নতুন ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া কুমিল্লায় বিদ্যমান অটোমেটেড ডিপো এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে আরও ছয়টি ডিপো নির্মাণ করা হবে।

নারায়ণগঞ্জের মেঘনা পেট্রোলিয়ামের গোদনাইল ডিপোতে ১১ হাজার টন ধারণক্ষমতার দু’টি নতুন ট্যাংক এবং ফতুল্লার আলীগঞ্জ ডিপোতে ১৩ হাজার টন ধারণক্ষমতার আরও দুটি ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গোদনাইলে ১ হাজার ৪৫০ টন ধারণক্ষমতার একটি এইচওবিসি ট্যাংক নির্মাণাধীন রয়েছে।

বিপিসি জানায়, এছাড়া পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির প্রধান স্থাপনাগুলোর খালি জায়গায় নতুন ডিপো ও ট্যাংক নির্মাণ প্রকল্প বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পদ্মা অয়েলের ৯ হাজার ৫০০ টনের দু’টি ট্যাংক, মেঘনা অয়েলের ১০ হাজার টনের তিনটি ট্যাংক এবং যমুনা অয়েলের সাড়ে ৫৮ হাজার টন ধারণক্ষমতার নতুন ট্যাংক।

সিলেটের পদ্মা অয়েল ডিপোর ১ হাজার ৩৭ টন ধারণক্ষমতার তিনটি জেট ফুয়েল ট্যাংক ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা হচ্ছে। ভৈরব বাজার ডিপোতে ২ হাজার ১৬৫ টনের পাঁচটি ট্যাংক নির্মাণকাজ চলছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওমেরা’র ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতার ট্যাংকের মধ্যে ৩০ হাজার টন ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিপিসি।

বিপিসি’র চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত জুনে পার্বতীপুর ডিপোর কমিশনিং সম্পন্ন হওয়ায় মজুত সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার টন বেড়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পার্বতীপুরে আরও চারটি এবং কুমিল্লায় ছয়টি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির খালি জায়গায় নতুন ডিপো ও ট্যাংক নির্মাণ চলছে। পাশাপাশি কেরোসিন ও জেট ফুয়েলের চাহিদা কমে যাওয়ায় উদ্বৃত্ত ট্যাংকগুলো ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ট্যাংক ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নতুন জমি অধিগ্রহণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণের পরিবর্তে অচল ট্যাংক সচল করা, কেরোসিনের ট্যাংক ডিজেলে রূপান্তর এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রেলওয়ের অব্যবহৃত ট্যাংক ব্যবহার করলে দ্রুত মজুত সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। তাদের মতে, এটি সরকারের একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ

দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা

বাসস
দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

গতকাল বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাজশাহী বিভাগের ঈশ্বরদীতে ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সিলেটে ২৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলে সর্বোচ্চ ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় সকাল ৫টা ২১ মিনিটে।

প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা করা সেই মজিবুর গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা করা সেই মজিবুর গ্রেপ্তার
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চাকরিচ্যুত চেইনম্যান মুজিবুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তোলা ছবি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালায়ের উপসচিব পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে প্রতারণা করা খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চাকরিচ্যুত চেইনম্যান মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. নুরে আলম কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা ১১টি মামলায় এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক তার বিরুদ্ধে প্রতারণার সত্যতা পেয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি এমন প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা মুজিবুরকে সহযোগিতা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, পূর্বাচলে জায়গা বিক্রির কথা বলে মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন মুজিবুর। শুধু তাই নয়, টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে স্ট্যাম্প ও সই জালিয়াতি করে উল্টো ৬ কোটি টাকার ‘মিথ্যা’ মামলা ঠুকে দেন।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইয়ের তদন্তে এরই মধ্যে তার মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এর পরও আরো একটি মামলা করেন ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। সেটিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

মোস্তাফিজুর রহমানের অভিযোগ, ‘পূর্বাচলে একটি প্লটের জন্য তিন কোটি ৭ লাখ টাকা দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না হওয়ায় এবং বারবার সময় দীর্ঘায়িত করায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর আগে এক সকালে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়ের (জিডি) করেন তিনি।

পিবিআই-এর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মজিবুর একজন অনেক বড় মাপের প্রতারক। তদন্তে প্রমাণ হয়েছে মজিবুর যেসব তথ্য দিয়ে মামলা করেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি অনেক মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেন বলেও তদন্তে প্রমাণ হয়েছে।’

ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মজিবুর শুধু সাধারণ মানুষের সঙ্গেই প্রতারণা করেননি। তিনি পুলিশের অনেক সদস্যের সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন। এমনকি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। এমনকি পুলিশ সদর দপ্তরে তিনি ‘মিথ্যা তথ্য’ দিয়ে চিঠি লিখেছেন। তদন্তে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে এর আগে তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তারও করা হয়। তবে ‘জামিন’ নিয়ে ফের তিনি একই কাজ করেন।

কারা সূত্র জানায়, এর আগে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও তিনি প্রতারণা করেছেন। তার প্রতারণার শিকার হয়ে একজন শিক্ষক এখন পথের ফকির। এক মুরব্বির কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ওই মুরব্বি দাবি করেন, টাকা চাওয়ায় তাকে মিথ্যা কথা বলে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় ডেকে এনে একটি নির্জন কক্ষে আটকিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করে। এরপর অস্ত্রের মুখে হত্যার হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে টাকা না পাওয়ার স্বীকারোক্তি আদায় করেন। এ ছাড়া নির্যাতনের পর জোরপূর্বক স্টাম্পেও সই করিয়ে নেন। ওই ভুক্তভোগী এখন মামলা করে এর প্রতিকার চান। তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া বিপুল অর্থও ফেরত চান। 

পুলিশের তদন্তে মজিবুরের ব্যাংক লোনের পাশাপাশি বিপুল অর্থের মালিক হওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়। তিনি সব সময় সত্যকে আড়াল করে গণমাধ্যম ও পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মজিবুর রহমান বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেছেন। কখনো রাজউকের কর্মকর্তা, আবার কখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পার্সোনাল অফিসার। পূর্বে তিনি আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য ছিলেন বলে দাবি করেন, এখন তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলেও প্রচারণা চালান। 

তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে, তিনি কখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, কখনো রাজউকের অথরাইজড অফিসার আবার কখনো গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দিয়ে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। অথচ খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চাকরিচ্যুত এই চেইনম্যান মজিবুর রহমান একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন। প্রতারণার এই মাস্টারমাইন্ড মজিবুর এখন বিপুলপরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, চেইনম্যান মুজিবুর রহমানকে ঘুস, দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর বরখাস্ত করা হয়। এরপর শুরু হয় তার বহুমুখী পরিচয়ের বহুবিধ প্রতারণা। রাজউকের প্লট দেওয়ার নামে একাধিক মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি পিবিআইয়ের তদন্তে তার জালিয়াতি অনেক অভিযোগ পেয়েছেন তারা।

রাজউকের প্লট দেওয়ার নামে মজিবুরের বিরুদ্ধে রয়েছে চেক জালিয়াতির অভিযোগও। তিনি এক ভুক্তভোগীকে সব টাকা পরিশোধে কয়েকটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু চেকগুলো ব্যাংকে ডিজঅনার হয়। শুধু এই ব্যক্তি নয়, অনেকেরই সঙ্গেই মুজিবুর এমন প্রতারণা করেন বলে অভিযোগ পেয়েছেন ফ্ল্যাট ওনার অ্যাসোসিয়েশন। 

মজিবুরের প্রতারণার শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিটিভির সাবেক পরিচালক শেখ আব্দুল সালেক বলেন, ‘প্রতারক মজিবুর বহু সহজ সরল মানুষকে তার প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছেন। তার বিরুদ্ধে আদালতের এতগুলো ওয়ারেন্ট থাকার পরও তাকে গ্রেপ্তার করা হয় না। এত কিছুর পরও নতুন করে তার প্রতারণার বিভিন্ন প্রজেক্ট আমরা জানতে পেরেছি।’

ধানমন্ডি কনকর্ড নুসরাত অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, ‘মজিবুর তাদের ভবনের একটি ফ্লাটের মালিক, আমার ধারণা, সে প্রতারণার টাকায় এই ফ্লাট কিনেছে। আমরা তার গ্রেপ্তার ও শাস্তি চাই।’

একের পর এক প্রতারণা করার পরও কেন শাস্তির আওতায় আসছে না মুজিবুর, এমন প্রশ্ন অনেকের। বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল সালেক বলেন, “এক হলো প্রশাসন চোখ বুঝে থাকা, ‘অপরাধগুলো দেখেও আমি দেখলাম না’। এর চেয়ে বড় অন্যায় সব জেনেশুনেও তারা অ্যাকশনে না যাওয়া।”

বন্যায় মৎস্য খাতেই ক্ষতি ৪০০ কোটি

অনলাইন ডেস্ক
বন্যায় মৎস্য খাতেই ক্ষতি ৪০০ কোটি
সংগৃহীত ছবি

বন্যায় প্লাবিত হয়েছে চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিস্তৃর্ণ অঞ্চল। এতে মৎস্য খাতেই ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ৪৩ জেলায় প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৬২ হাজার হেক্টর জমির আউশ ও আমনের বীজতলা প্লাবিত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে সবজির ক্ষেতও। 

কৃষি ও মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বন্যায় প্লাবিত হয়েছে চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিস্তৃর্ণ অঞ্চল। পানি নামতে শুরু করলেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। তলিয়ে গেছে বীজতলা ও সবজির মাঠ। ভেসে গেছে মাছের ঘের। বিপাকে পশু খামারিরাও। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ লাখের বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী ও যশোরসহ ১৬ জেলায়। ১ লাখ ৭ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। 

মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, বন্যায় মাছ ও চিংড়ির পোনা ভেসে গেছে। এ খাতে লোকসান ৪০০ কোটি টাকারও বেশি।

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি জমিতে বীজতলা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই চারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিনামূল্যে দেওয়া হবে। 

সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক জানান, কো–অর্ডিনেশন থাকতে হবে সব ডিপার্টমেন্টের। অর্থের অপচয় যেন না হয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা জারি ও জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।