• ই-পেপার

ঢাকা সিটির বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

রাজস্ব ফাঁকি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে সরকার : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
রাজস্ব ফাঁকি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে সরকার : অর্থমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

দেশের রাজস্ব ঘাটতি পূরণ এবং চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ধনী ও করপোরেটদের কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিত্যপণ্যের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

রবিবার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত দুটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

এদিন বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ায় অধিবেশনের বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) সভাতিত্ব করেন।

নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সাধারণ জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর আদায়ের প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বচ্ছ করতে করপোরেট করদাতাদের জন্য খুব শিগগির ই-রিটার্ন ব্যবস্থা আরো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে করদাতাদের তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে এপিআই সংযোগের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ চলছে। কোন খাত থেকে কী পরিমাণ কর আসা উচিত, তা যাচাই করতে বিভিন্ন শিল্প খাতভিত্তিক গড় সূচক ব্যবহার করে ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া অনলাইনে উৎসে কর কর্তন ব্যবস্থাপনার পরিধি বাড়ানো হয়েছে এবং যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কর ফাঁকি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ সম্পর্কে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নেরও উত্তর দেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী জানান, বিগত ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দেশের অর্থনীতিতে যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছিল, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে তা ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কমতে শুরু করেছিল। ধারাবাহিক পতন শেষে ২০২৫ সালের অক্টোবরে পয়েন্ট টু পয়েন্টভিত্তিক হেডলাইন মূল্যস্ফীতি ৮.১৭ শতাংশে নেমে আসে। তবে পরবর্তীকালে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন অভিঘাতের ফলে মূল্যস্ফীতি আবার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ২০২৬ সালের মে মাসে ৯.৪২ শতাংশে দাঁড়ায়।

বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজারে অতিরিক্ত চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে নীতি সুদহার (রেপো রেট) ১০ শতাংশের মতো উচ্চস্তরে বহাল রেখেই চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসের মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরো জানান, দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি কেবল চাহিদার কারণে নয়, বরং পণ্যের জোগান কমে যাওয়ার কারণেও হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কম হওয়া এবং বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় বাজারে সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ পড়েছে। এই জোগান সংকট কাটাতে এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এই প্যাকেজটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়বে, যা মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে। এই প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে বাজারে নতুন করে চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতি বা টাকার অবমূল্যায়ন ঘটবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকাই আসবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অতিরিক্ত তারল্য থেকে, আর বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব উৎস থেকে সরবরাহ করবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের ধাক্কা সামলাতে এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক নমনীয় ও বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে, যা দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

নৌবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন করলেন নৌ প্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নৌবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন করলেন নৌ প্রধান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ অভিযানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান গ্রহণ করেছে। 

এ উপলক্ষে রবিবার (১২ জুলাই) নৌবাহিনী সদর দপ্তরে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬’ উদ্বোধন করেন নৌ প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। পরে বৃক্ষরোপণ অভিযানের সাফল্য কামনা করে মোনাজাত করা হয়। 

এ সময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, নৌ অঞ্চলগুলোর আঞ্চলিক কমান্ডার, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা এবং নাবিকরা উপস্থিত ছিলেন।

‘বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬’ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সব নৌ ঘাঁটি, স্থাপনা এবং উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছে। 

উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নৌবাহিনী প্রধান সরকার ঘোষিত ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ অভিযান বাস্তবায়নে প্রত্যেক নৌসদস্যকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গাছ লাগানোর আহবান জানান। এতে গড়ে উঠেব একটি সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ। 

এছাড়াও তিনি উপকূলীয় অঞ্চলে অধিকহারে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন। সব নৌ ঘাঁটি, উপকূলীয় স্থাপনা ও এলাকাগুলোতে ফলজ, বনজ ও ভেষজ চারা রোপণের মাধ্যমে এ অভিযান বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
 

প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের চিন্তা-কর্মযজ্ঞের প্রতিফলন নতুন চার বই : মাহ্দী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের চিন্তা-কর্মযজ্ঞের প্রতিফলন নতুন চার বই : মাহ্দী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কয়েক দশক ধরে  শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে দেওয়া তার বক্তব্য ও নির্বাচনের আগে ইশতেহারে ফুটে উঠেছে। সেই আলোকে আমাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমরা যে চারটি নতুন বই নিয়ে কথা বলছি, এগুলো  প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘকালের শিক্ষাক্ষেত্র নিয়ে রুপকল্প, চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও কর্মযজ্ঞেরই প্রতিফলন।’

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, “‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ একদিকে আমরা যেমন বলছি বাংলায় আনন্দময় শিক্ষা বা আনন্দময় শিখন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য  টিচার্স গাইড (টিজি) নিয়োগের বিষয়টি ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। সেটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই বইয়ের ক্ষেত্রে, অন্ততপক্ষে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি- এই দুইটি বইয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটিকে প্রচলিত বা ট্র্যাডিশনাল পাঠ্যবইয়ের তুলনায় আরো বেশি ব্যতিক্রমধর্মী ও ভিন্নধর্মী করা উচিত।”

তিনি বলেন, “যেমন আমরা সবসময় দেখি বইগুলো সাধারণত টেক্সট-ভিত্তিক হয়, অর্থাৎ অনেক বেশি লেখা থাকে। ফলে অনেক সময় বিষয়টি শিক্ষার্থীদের কাছে ততটা আকর্ষণীয় মনে হয় না। অন্তত ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’-এর ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং আমরা ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যে আলোচনা করেছি, তাতে আমরা চাই বইটিতে আরো বেশি দৃশ্যমান উপস্থাপনা থাকুক। অর্থাৎ, আরো বেশি ছবি, টেবিল, ডায়াগ্রাম ও ভিজ্যুয়াল উপাদান থাকুক, যাতে শিক্ষার্থীদের বইটি পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় এবং তারা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে।”

‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’-এর ক্ষেত্রে আরো কিছু কাজ করার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন,  ‘শুরুতে একটি বিস্তারিত ভূমিকা অধ্যায় থাকা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি এই বইয়ের মাধ্যমে আমরা কী অর্জন করতে চাই, শিক্ষা ব্যবস্থায় এর দার্শনিক ভিত্তি ও বাস্তব প্রয়োগ কী হবে এবং এর প্রাসঙ্গিকতা কতটুকু,-এসব বিষয় নিয়ে যদি আরো কিছু যুক্ত করা যায়, তাহলে বইটি আরো সমৃদ্ধ হবে।’

কারিগরি শিক্ষা প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, এ ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। কারিগরি শিক্ষা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। কিন্তু মূল সমস্যা হলো এ বিষয়ে একটা ট্যাবু বা স্টিগমা কাজ করে যে, কারিগরি শিক্ষা সবার জন্য নয়। এক্ষেত্রেও যদি একটি অতিরিক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড অধ্যায় রাখা যায়, যেখানে কারিগরি শিক্ষার দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ কী এবং কেন কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে একজন মানুষ তার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে পারে, তা যদি তুলে ধরা হয় তাহলে ভালো হবে। কারণ, কারিগরি শিক্ষার মূল বিষয়ই হচ্ছে এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে মোটিভেশন তৈরি করা।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরো বলেন, 
‘বর্তমানে যেটা হয় অনেকে কারিগরি শিক্ষায় আসতে চায় না। আমাদের মূল দর্শন হলো, বাংলাদেশের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের স্কুল থেকে শুরু করে ঢাকার সেরা স্কুল পর্যন্ত, প্রত্যেকটি স্কুলেই কারিগরি শিক্ষার একটি ল্যাব বাধ্যতামূলক করা হবে। এমনকি বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম সারির শিক্ষার্থীও যেন অন্তত কিছুটা হলেও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে। সুতরাং, মোটিভেশনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আনতে হবে, কেন বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীরই অন্তত কিছুটা হলেও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘সব মিলিয়ে যে কাজটুকু হয়েছে, তা খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে হয়েছে। কারণ, আমরা শুধু এই চারটি বই নিয়েই কাজ করছি, বিষয়টি এমন নয়। এর পাশাপাশি আমরা জানি, ফ্যাসিবাদের সময়ে বিভিন্ন বইয়ে অসংখ্য ভুল ছিল। এ বিষয়ে আমাদের যেসব বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বসেছি। অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ভুল চিহ্নিত করেছেন। সুতরাং, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ইতিহাসেরও অনেক বিকৃতি ছিল। আমরা বলেছি, ইতিহাসের নির্মোহ বহিঃপ্রকাশ যেন থাকে। আমাদের ইতিহাসকে আমাদের মতো করে সাজানোর প্রয়োজন নেই।’

তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচিত সরকারই জনগণের  প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার। ইতিহাসের প্রতিটি পালাবদলে বিএনপি সঠিক অবস্থানে মানুষের পাশে ছিল। আমরা চাই, ইতিহাসের নির্মোহ বিশ্লেষণের মাধ্যমে যে সত্য, সেটিই উঠে আসুক। সেই কাজও সমান্তরালভাবে চলমান রয়েছে। সুতরাং, একটি কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়ায় প্রতিবছরই যে অবিচ্ছেদ্য ও অনিবার্য সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন এবং পরিবর্ধনের প্রয়োজন হয়, সেসব কাজ ইতিমধ্যেই করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরিমার্জনও অব্যাহত রয়েছে।’

নতুন চারটি বইয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনেক আবেগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি তার দীর্ঘদিনের কর্মপরিকল্পনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামনে যেহেতু প্রায় এক মাসের মতো সময় রয়েছে, তাই ডেভেলপমেন্ট বা রিভিশনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, সেটুকু কাজ আরো করা উচিত। পুরো বাংলাদেশ এই বইগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে।’

তিনি আরো বলেন, “অবশ্যই খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ, সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ, কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। কারণ এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক মূল্যবোধ-এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এই বইটিকে কিভাবে আরো আকর্ষণীয় করা যায়, এর কারিকুলামকে কিভাবে আরো প্রাসঙ্গিক করা যায় এবং প্রধানমন্ত্রী যেভাবে এটি দেখতে চান, সেই লক্ষ্য ও ভাবনার সঙ্গে কিভাবে আরো সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করার জন্য পুরো টিমের প্রতি আহ্বান।”

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আগামী ১ জানুয়ারি যেন দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর দোরগোড়ায় পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া যায়। সে হিসেবে বই বিতরণের লজিস্টিকসের জন্য প্রায় এক মাস সময় প্রয়োজন হবে। যে ডেডলাইন রয়েছে, সে অনুযায়ী অন্তত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ে আমাদের প্রায় ৩১ কোটি বই প্রস্তুত থাকতে হবে। এরপর সারা দেশে এই বিপুলসংখ্যক বই কিভাবে প্রকাশ, মুদ্রণ ও বিতরণ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে, সেই মহাযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক প্রমুখ।

১২ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা
ছবি: কালের কণ্ঠ

আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ সময়ে অতিভারী বৃষ্টিতে দেশের ১২ জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হতে পারে।

আজ রবিবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বন্যার পূর্বাভাস

বন্যার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ, উত্তরাঞ্চলীয় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব অথবা কিছুটা অবনতি হতে পারে।

কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী (দায়িত্বরত কর্মকর্তা) মোস্তফা কামাল জিহান স্বাক্ষরিত ওই পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

পাঁচ স্টেশনে পানি বিপৎসীপার ওপর

ওই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সাঙ্গু নদী বান্দরবান (বান্দরবান) ও দোহাজারী (চট্টগ্রাম); কুশিয়ারা নদী মারকুলি (সুনামগঞ্জ) ও ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট); সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস

আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে এবং উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয় প্রদেশে ভারি থেকে অভিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি

সারা দেশ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় এখন পর্যন্ত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৯ জন। এসব জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ।